বাস্তবতার আরেক নাম সাংবাদিকতা : মিজানুর রহমান রানা

নিয়্যত সুন্দর ও ইতিবাচক হলে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা

0
14276

মিজানুর রহমান রানা :

একদিন আমাকে আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী প্রশ্ন করেছিলেন, পত্রিকার কাজ ছেড়ে দিলেন? আমি সময়ের অভাবে তাকে উত্তর দিতে পারিনি। আজ সময় নিয়ে বিস্তারিত লিখছি। কথা হচ্ছে, আমি মুদ্রিত পত্রিকার কাজ সময়ের অভাবে ছেড়ে দিলেও। মূলত সাংবাদিকতা ছেড়ে দেইনি। এটা আমার পক্ষে সম্ভবপর নয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

মূলতঃ একজন প্রকৃত সাংবাদিক এমনি এমনিতেই তৈরি হয় না। তার মধ্যে আল্লাহতায়ালা সেই গুণ দিয়ে তাকে তৈরি করেন। তিনি যখন প্রশিক্ষণশেষে পেশাদারী মনোভাব নিয়ে সময়োপযোগী নিজকে গড়ে তোলেন, তিনি যে পেশাতেই থাকেন না কেন, সবসময় সংবাদের কাজেই থাকেন, সংবাদের সাথেই থাকেন।

নিয়্যত সুন্দর ও ইতিবাচক হলে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশায় আল্লাহর সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাতকে সার্বিক সহযোগিতা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়।

একজন সাংবাদিককে তার মেধা ও প্রজ্ঞা বিনিময় করে, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তিলে তিলে নিজকে প্রস্তুত করতে হয় যোগ্যভাবে। এক্ষেত্রে তিনি আবেগ বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত অবস্থাকে বিবেচনা করে কাজ করেন। কারণ বাস্তবতার আরেক নাম সাংবাদিকতা। বাস্তবে যা ঘটে, তা-ই পাঠকের সামনে তুলে ধরার নামই সাংবাদিকতা। এক্ষেত্রে কল্পনা বা শোনা কথাকে আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সাংবাদিকতায় শোনা কথার কোনো ভিত্তি নেই এবং শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ রচনা করা যায় না।

সেজন্য একজন সাংবাদিককে যেমন প্রকৃত শিক্ষার অধিকারী হতে হয়, তেমনি তাকে মেধারও অধিকারী হতে হয়। পাশাপাশি তাকে সততার অমূল্য গুণাবলীও ধারণ করতে হয় তার কর্তব্য কাজে। কারণ অসৎ সাংবাদিকতা যেমনি নিজের কাজে লাগে না, তেমনি সমাজ ও দেশেরও সার্বিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে আমি সেই সুন্দর প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।

পেশাগত কাজে চলার পথের শুরুতে শ্রদ্ধেয় জনাব কাজী শাহাদাত সাহেব আমাকে এই কাজে অগ্রগামী করেছেন।

এরপর চলার পথে পথে স্টেশনে স্টেশনে জনাব গিয়াসউদ্দিন মিলন, বিএম হান্নান, মির্জা জাকির, জিএম শাহীন, শহীদ পাটওয়ারী, রহিম বাদশা, আবদুর রহমান স্যার, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, আবদুল আউয়াল রুবেল, আলম পলাশ, ইব্রাহিম কাজী জুয়েল, ইব্রাহীম খলিল, আল ইমরান শোভন, সেলিম রেজা, শওকত আলী, চাঁদপুর নিউজ সম্পাদক ডা. জামান পলাশ, গোলাম মোস্তফা, সাইফুল ইসলাম, এম এ আকিব, সাইফুল ইসলাম সিফাত, কেএম মাসুদ, বাদল মজুমদার, ইয়াসিন ইকরাম, দেলোয়ার হোসেন, অপু সহ আমার অনেক সহকর্মী আমাকে খুব আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন। আমার পেশাগত কাজে তাদের অবদান অতূলনীয়।

এছাড়াও সাহিত্যক্ষেত্রে এএফএম ফতেউল বারী রাজা ভাই, প্রকৌ. মো. দেলোয়ার হোসেন, ডা. পীযুষ কান্তি, সামীম আহমেদ খান, ফখরুল আলম অপু, কাদের পলাশ, পীযুষ কান্তি রায় চৌধুরী, নুরুন্নাহার মুন্নী, আশিক বিন রহিম, রফিকুজ্জামান রনি সহ অনেকেই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।

এঁরা আমাকে আমার চলার পথে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাদের অবদান আমি কৃতজ্ঞচিত্তে সব সময় স্মরণ করি।

একটা কথা না বললেই নয়, আমার জীবনে সাংবাদিকতা পেশায় কাজের সর্বোচ্চ ভালো সময়টা কেটেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাঁদপুর টাইমস-এ কাজ করার সময়।

এই চাঁদপুর টাইমস নিউজ পোর্টালটা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাংবাদিক এমএ আকিব ভাই। আর চাঁদপুর টাইমস নামটা দিয়েছি আমি নিজে।

জনাব এম এ আকিব আমাকে সম্পাদক হিসেবে এই নিউজ পোর্টালে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের মেধা ও মনন খাটিয়ে কাজ শুরু করি। সাথে ছিলো দেলোয়ার হোসেন। পরে চাঁদপুরের রাজনীতিতিতে পরিচিত মুখ জনাব কাজী ইব্রাহিম জুয়েল ভাইকে আমরা প্রকাশক হিসেবে আসার আমন্ত্রণ জানাই। তিনি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রায় তিন বছর আমার এ প্রিয় প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি। নিজকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য আবারও জনাব কাজী ইব্রাহিম জুয়েল ভাই, এমএ আকিব ও দেলোয়ার হোসেন সহ ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবাইকে ধন্যবাদ। ওই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আমি সাংবাদিকতায় নিজকে বিলিয়ে দেয়া সহকর্মীদের যুক্ত করেছিলাম। আজও তারা ওই প্রতিষ্ঠানটিকে আলোকিত করে যাচ্ছেন।

আমি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসার পর তারা আর আমাকে স্মরণ করেননি। এটা তাদের কৃপণতা হতে পারে, তবে সেজন্য আমি সাময়িক কষ্ট পেলেও চূড়ান্ত কষ্ট পাইনি। কারণ চলার পথে এমন হতেই পারে। আমি থেমে থাকিনি, দমেও যাইনি। আল্লাহ আমার রিজিকদাতা।আল্লাহই আমার চলার পথকে প্রশ্বস্ত করেছেন। তবে কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা হক (সত্য) কথা বলেছেন। এই ক্ষেত্রে হাজীগঞ্জের সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জয়কে ধন্যবাদ।

বর্তমানে চিকিৎসা পেশার সাথে যুক্ত রয়েছি। অসহায় মানুষের খেদমতে আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশাকে ভুলে যাইনি।

চাঁদপুর রিপোর্ট আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। গত প্রায় চার বছর ধরে চাঁদপুর রিপোর্টকে সাজিয়ে যাচ্ছি মানুষের কল্যাণে। এক্ষেত্রে সাধারণ পাঠকের মতামতকে গ্রাহ্য করেই অগ্রসর হই। আমাদের এক ঝাঁক দক্ষ সাংবাদিক প্রতিনিয়ত আমাকে এই কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এর মধ্যে অ্যাডভোকেট শাহজাহান শাওন অগ্রগণ্য। তিনি চাঁদপুর রিপোর্ট-এর শুরু হতে এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটিকে হৃদয় থেকে ভালোবেসে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ফরিদগঞ্জের আনিছুর রহমান সুজন, মো. আল-আমিন, মো. রাসেল খান, কামরুজ্জামান সেন্টু, শাহরাস্তি প্রতিনিধি জামাল হোসেন, হাইমচর প্রতিনিধি সাহেদ হোসেন দীপু, মতলব উত্তর প্রতিনিধি গোলাম নবী খোকন, সফিক রানা, মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি ইয়ামিন, কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, টিআর দিদার, স্টাফ রিপোর্টার সাখাওয়াত হোসেন সুমন সহ অনেকেই এ শুভ কাজের অংশীদার হয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি।

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন এম এ আকিব। তিনি অসুস্থ অবস্থায় থেকেও চাঁদপুর রিপোর্ট-এর উন্নয়নকল্পে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন শুধুমাত্র সাংবাদিকতা পেশাকে ভালোবেসেই। আমরা তাঁর রোগমুক্তি কামনা করছি।

আশা করছি আমৃত্যু সাংবাদিকতা পেশা এবং চিকিৎসা পেশাকে অাঁকড়ে ধরে রাখবো। মানুষের কল্যাণে নিজকে সমর্পণ করবো। ধন্যবাদ সবাইকে।

বি.দ্র. অতি স্বল্প সময়ে রচিত এ লেখাটিতে আমার অনেক শুভাকাংখির নাম সময়ের অভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
6,680 জন পড়েছেন