একজিমা বা বিখাউজ এর ঔষধ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়

একজিমা (Eczema) বা এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা বিখাউজ এমন একটি চর্মরোগ যা হলে ত্বক লাল বর্ণ ধারণ করে, চুলকায় আবার ফুস্কুড়িও হতে পারে। ত্বকের যেকোনো অংশেই একজিমা রোগ হতে পারে।

তবে হাত, পা, বাহু, হাঁটুর বিপরীতে, গোড়ালী, হাতের কব্জি, ঘাড় কিংবা ঊর্ধ বক্ষস্থল ইত্যাদি অংশে বেশি হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার প্রধান উৎস বংশগত বলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

এটি যেকোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। আবার গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা একজিমা হওয়ার কোন শর্ত নয়। সাধারনভাবে একজিমা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমগোত্রীয় একটি রোগ যা বংশগত কারণে হতে পারে।

এটি ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। বাংলাদেশে এটি পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি নানা নামে পরিচিত। দাদ একজিমায় যদিও কোন মৃত্যু ঝুঁকি নেই, তারপরেও এ রোগ ব্যক্তি ও তার আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এটি ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একজিমা একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। একবার একজিমায় আক্রান্ত হলে সেরে উঠতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। আবার অবহেলা করলে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে, একজিমার ব্যপারে সতর্ক হলে এবং সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে একজিমা থেকে সহজেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

gif maker

একজিমার প্রকারভেদ
এটি কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন- এটোপিক একজিমা (শরীরের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে যেমন- হাঁটুর পিছনে, কুনইয়ের সামনে, বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে এটোপিক একজিমা হতে পারে), এলার্জিক কনট্যাক্ট একজিমা (কোন পদার্থ বা বস্তু থেকে এ ধরনের একজিমা হয়ে থাকে। শরীরের যে অংশে এলার্জি হয় সেখানে লালচে দানা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে এটা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে), ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট একজিমা (এটি এলার্জিক একজিমার মতই এবং এটি অধিক হারে ডিটারজেন্ট জাতীয় দ্রবের ব্যবহারের কারনে হতে পারে), সেবোরিক একজিমা (ম্যালাসেজিয়া ইষ্ট দ্বারা সংক্রমণের ফলে সেবোরিক একজিমা হয়ে থাকে এবং এতে মাথার ত্বকে হালকা খুশকির মতো তৈলাক্ত ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত এক বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগটি বেশি দেখা যায়), ভেরিকোস একজিমা (রক্ত সরবরাহে সমস্যা ও উচ্চরক্তচাপের কারণে বয়স্ক লোকদের পায়ের নিচের অংশে এটি হতে পারে), ডিসকয়েড একজিমা (সাধারণত বয়স্ক লোকদেরই এটি বেশি হতে পারে। শুষ্ক ত্বক সংক্রমণের মাধ্যমে বিশেষ করে পায়ের নিচের অংশে এটি হয়ে থাকে) ইত্যাদি।

একজিমা রোগের কারণ
একজিমার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ত্বকের আর্দ্রতা ত্বককে ব্যাকটেরিয়া এবং যে সকল পদার্থ অ্যালার্জির সৃষ্টি করে তা থেকে রক্ষা করে। সাধারনত নিম্নলিখিত কারন সমুহকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়ঃ

সাধারনত শুষ্ক বা রুক্ষ ত্বক একজিমার জন্য দায়ী কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।
বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান বা শ্যাম্পু থেকে এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে।
এলার্জি হয় এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদি থেকে এটির সংক্রমন হতে পারে।
জিনঘটিত যেকোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এটির সংক্রমন হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে বিখাউজ হতে পারে।
বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটির সৃষ্টি হতে পারে।

gif maker
পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিংবা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া ইত্যাদি।
আবার হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হওয়া, ত্বক লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক বা ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি একজিমার লক্ষণ। হাত ও পায়ের ত্বকে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি হতে পারে। আবার ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হতে পারে এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা
একজিমার লক্ষণ দেখে চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তিনি রোগের ইতিহাস জেনে ত্বকের পরীক্ষা করতে বলতে পারেন।

একজিমা বা এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা বিখাউজ কি?

চিকিৎসা
একজিমার চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

কারা ঝুঁকিতে আছেন?

পরিবারের কোনো সদস্যের একজিমা বা বিখাউজ থাকলে অন্যান্য সদস্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ত্বক শুষ্ক বা রুক্ষ হলে এ রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশি কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।

বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পুর ব্যবহারের ফলেও এ রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এলার্জি হতে পারে এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদির সংস্পর্শে একজিমার সংক্রমন হতে পারে।

জিনঘটিত কোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চর্মরোগে আক্রান্ত কোন রোগীর সেবাকাজে নিয়োজিত ব্যক্তির এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

শহরাঞ্চালে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে বিশেষ করে ডে-কেয়ার বা চাইল্ড কেয়ারে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ার ফলে, অর্থাৎ পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে।

হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় একজিমা হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটি হতে পারে।

একজিমা প্রতিরোধে করনীয়

যেসব বস্তু বিখাউজ বা একজিমার সমস্যা বাড়িয়ে তোলে বা যেসব খাবার খেলে এটি বাড়ে তা পরিহার করতে হবে।
সবসময় নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরতে হবে। সিনথেটিক বা উলের পোশাকে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তা পরা যাবে না।
কাপড় পরিষ্কারের জন্য কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
ধূলাবালি, ফুলের রেণু এবং সিগারেটের ধোঁয়া অর্থাৎ যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
আক্রান্ত স্থান চুলকানো যাবে না।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
ত্বক শুষ্ক না রেখে, প্রয়োজনে কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন লোশন বা ক্রিম ব্যাবহার করতে হবে।

সবশেষে
নিজের প্রতি যত্নবান হলে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে চুলকানি বা এর বিস্তার থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। যেমনঃ খারযুক্ত সাবান ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্রিম ও মলম ব্যাবহার করতে হবে, ত্বক শুষ্ক রাখা যাবে না, আরামদায়ক ও নরম পোশাক পরতে হবে, চর্মরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যপারে সতর্ক হতে হবে ইত্যাদি। একজিমার সাথে অ্যাজমা এবং হে ফিভার দেখা দিতে পারে।

এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা রোগ হলে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঔষধ পেতে যোগাযোগ করুন :

 

হাকীম মিজানুর রহমান (ডিইউএমএস)

(শতভাগ বিশ্বস্ত ও প্রতারণামুক্ত অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান)

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার

হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত)

+88 01762240650, +88 01834880825

+88 01777988889 (Imo-whatsApp)

শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, ডায়াবেটিস,অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা),

ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর , আলসার, টিউমার

ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

12,605 জন পড়েছেন

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়