ধবল বা শ্বেতী রোগ কি? এ রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

 

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক

ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ আছে যা মেলানিন নামক একটি রং উৎপাদন করে এবং এই মেলানিনের কারনেই আমরা ত্বকের স্বাভাবিক রংটি দেখতে পাই। এই মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে বা সংখ্যায় কমে গেলে কিংবা মরে গেলে মেলানিন নামক রং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই নির্দিষ্ট স্থানে সাদা দাগ পড়ে। চামড়া সাদা বা কালো যাই হোক, ত্বক বা চামড়ার স্বাভাবিক এই রং যখন থাকে না এবং ত্বকের একটি অস্বাভাবিক রং দেখতে পাই, তখন তাকে শ্বেতী বা ধবল রোগী বলা হয়।

যাদের ডায়বেটিস আছে কিংবা থাইরয়েডের রোগ থাইরোডাইটিস আছে তাদের শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। বিশেষ এক জাতের রক্তশুন্যতা থেকেও এই রোগটি হতে পারে। শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে বা প্রাণঘাতী রোগ নয়। শ্বেতী রোগের ফলে ত্বকের উপর সাদা দাগ দেখা যায়। শ্বেতী রোগ শরীরের অল্প কিছু অংশে হতে পারে, শরীরের বাম অথবা ডান যে কোন একদিকে হতে পারে আবার শরীরের অধিকাংশ স্থানেও হতে পারে।

শ্বেতী রোগ যে কারোই হতে পারে। সাধারণত শরীরের যেসব অঙ্গ খোলা অবস্থায় থাকে সেসব অঙ্গে শ্বেতী দেখা যায়। এই রোগকে গ্রামাঞ্চলে ধবল রোগ বা শ্বেতকুষ্ঠ রোগও বলা হয়ে থাকে।

http://picasion.com/

শ্বেতী রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক বিরুপ ধারনা ও কুসংস্কার রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেননি। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

অনেকেই শ্বেতী রোগ এবং কুষ্ঠ রোগ একই মনে করেন। এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শ্বেতী বা ধবল রোগ মোটেও ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সাহায্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে যায়।

শ্বেতী রোগের কারণ
এটি কোন বিপজ্জনক রোগ নয়। শ্বেতীরোগের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিম্নলিখিত কারনে এ রোগ হতে পারেঃ

  • বংশগত কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগ হতে পারে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম পরেও এ রোগ হতে দেখা যায়।
  • প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যবহৃত ক্যামিক্যাল বা সিন্থেটিক জাতীয় জিনিস থেকে এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় শ্বেতী হতে পারে।
  • চশমার ফ্রেম বেশি আঁটসাঁট হলে তা থেকে নাকের দু’পাশে বা কানের কাছে সাদা হতে পারে।
  • শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি থাকলে হতে পারে।
  • রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া অথবা মানসিক চাপ থেকে হতে পারে।
  • অনেক ক্ষেত্রে কপালে পড়ার সিন্থেটিক টিপ থেকেও শ্বেতীর শুরু হতে পারে।
  • দীর্ঘ দিন ধরে প্লাস্টিক বা রাবারের জুতা, ঘড়ি প্রভৃতি ব্যবহারের ফলেও শ্বেতী বা অন্যান্য চামড়ার সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
শ্বেতী বা ধবল রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে সহজেই এই রোগের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। যেমন- ত্বকের উপর সাদা দাগ পড়বে, অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু অথবা দাড়ি সাদা বা ধূসর হয়ে যাবে, মুখের ভিতরের কলাগুলো বর্ণহীন হবে অথবা চোখের ভিতরের অংশে রংয়ের পরিবর্তন হলে বা রংহীণ হলে ধরে নিতে হবে ঐ ব্যক্তি ধবল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা
চিকিৎসক রোগের ইতিহাস এবং বংশের রোগের ইতিহাস জেনে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সাধারণত কোনো ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়াই শুধু রোগের লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা হয়। আবার চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে ত্বকের বায়োপসি, রক্তের পরীক্ষা কিংবা চোখের পরীক্ষা করাতে পারেন।

gif maker

চিকিৎসা
শ্বেতী রোগের চিকিৎসা অনেক সময়সাপেক্ষ আবার পুরোপুরি নাও সারতে পারে। সাধারণভাবে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। শ্বেতীর চিকিৎসায় সেরে উঠার জন্য রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। দেহের লোমশ অংশের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় কিন্তু যেসব অংশে লোম থাকে না, যেমন আঙুল, ঠোঁট ইত্যাদির চিকিৎসায় দীর্ঘসময় লেগে যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিজে নিজেই সেরে যেতে পারে।

সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সবার ক্ষেত্রে সব চিকিৎসা পদ্ধতি একরকম ফল দেয় না। চিকিৎসা পদ্ধতি বাছাই করার ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, রোগের স্থান এবং ব্যাপ্তি দেখে নির্ধারণ করা হয়। শ্বেতী চিকিৎসার জন্য যে সব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

প্রয়োজনে রোগীর বয়স, রোগের সময়কাল, রোগের স্থান এবং ব্যাপ্তিভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি বাছাই করা হয়। সেক্ষেত্রে এ রোগ হলে প্রাথমিক অবস্থায়  Recap ক্রিম, Vitiligo Natural, Vitiligo Natural Harbs সহ আপনার শ্বেতী অবস্থা অনুসারে ডাক্তার নির্দেশনামতে আরো কিছু ঔষধ নিয়মিতভাবে সেবন করতে হয়। এ চিকিৎসায় ধীরে ধীরে শ্বেতী থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব এবং সারাদেশে প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোগী আরোগ্য লাভ করেছেন।

শ্বেতী রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিজে সরাসরি গিয়ে ঔষধ গ্রহণ করতে পারলে তা হবে পারফেক্ট। তবে যদি কোনো কারণে তা সম্ভব না হয় তবে বাংলাদেশের যে কোনো জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যেই ঔষধ গ্রহণ করতে পারবেন। 

শ্বেতী রোগের ফলে যেসব সমস্যা হতে পারে
শ্বেতী রোগের ফলে শুধু স্কিনের স্বাভাবিক বর্ণ নষ্ট হয় কিন্তু এতে স্বাস্থ্যের অন্য কোন ক্ষতি হয়না। এই রোগে মৃত্যুঝুঁকিও নেই। তবে রোগী সাধারণভাবে রোদ বা আগুনের তাপ সহ্য করতে পারে না। এ রোগ হলে প্রথমে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায় এবং পরবর্তীতে দাগগুলো মিলে বৃহদাকার ধারণ করে। কখনো কখনো মায়ের গর্ভ থেকেও শিশু এ রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। সমাজে এ রোগ নিয়ে অনেক ভুল ধারনা এবং কুসংস্কার প্রচলিত আছে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগে রোগীকে প্রচন্ড মানসিক সমস্যায় পড়তে হয়।

সবশেষে
শ্বেতী রোগে ত্বকের বিভিন্ন জায়গা সাদা হয়ে যায়। এটি কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এই রোগে শরীরে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও রোগীকে সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন- পরিচিত মানুষ বাদ দিয়ে, কোনো জায়গায় গেলে তাঁকে একটা হলেও এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এই প্রশ্নের ভয়ে অনেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন। আবার বিয়েশাদীর ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা হয়। অনেকেই ধবল রোগীর সঙ্গে হাত মেলাতে চান না, কোলাকুলি করতে চান না বা বিয়ে দিতে চান না এই পরিবারে। আবার অনেকে ধবল বা শ্বেতী রোগকে কুষ্ঠ রোগ মনে করেন। যদিও এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। এই রোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

করণীয় :

কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

যা বেশি বেশি খাবেন :

খুরমা খেজুর, সবুজ মটরশুটি, শালগম, পালং শাক, এপ্রিকট, মেথি, ডুমুর, সবুজ শাকশবজি, আম, পেয়াজ, পেস্তা, আলু, পিউর ঘি, মুলা, লাল মরিচ, শাকসবজি, আখরোট, গম

যা একদম খাবেন না :

জাম, অরেঞ্জ, ব্লু বেরিজ, অ্যালকোহল, মাখন, কাজুবাদাম, চকোলেট, সামুদ্রিক মাছ, রসুন, আঙ্গুর, পেয়ারা, লেবু, সামুদ্রিক তৈলজাত খাবার, পেপে, নাশপাতি, বরই, গরুর গোস্ত,  সোডা জাতীয় যে কোনো কোমল পানীয় (যেমন পেপসি, কোকাকোলা, সেভেন আপ ইত্যাদি) , টমেটো, তরমুজ। ধূমপান, এলকোহল সেবন, উগ্রমশলাযুক্ত খাবার বর্জনীয়।

লাইফস্টাইল সম্পর্কিত :

টাইট ফিটিং, যা ত্বকে দাগ দিতে, মত স্থিতিস্থাপক অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে যা ত্বক রক্তসংবহন সমস্যার সৃষ্টি করে। প্রারম্ভিক, চুলকানি অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। কোন আঘাত নতুন প্যাচ বৃদ্ধি দিতে হবে। প্লাস্টিক ও রাবার পরিধান এড়িয়ে চলা উচিত। প্লাস্টিক অলঙ্কার, Bindi বা ত্বকে কোন স্টিকার এড়িয়ে চলা উচিত।

অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন যে, এই খাদ্য নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কারণে এবং vitiligo সম্পর্ক আমাদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে করা হয়। এই খাদ্য নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র আমাদের চিকিৎসার স্বার্থে । চিকিৎসা শেষ হলে আবার তা নিয়মিত খেতে পারবেন।

ঔষধ পেতে যোগাযোগ করুন :

(সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ১টা এবং দুপুর ৪টা থেকে রাত ৮টা, নামাজের সময় ব্যতীত)

হাকীম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (ডিইউএমএস)

যোগাযোগ : ০১৭৬২২৪০৬৫০, ০১৮৩৪৮৮০৮২৫

অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন :

IBN SINA HEALTH CARE

Gowsia Tower. Hazigonj, CHANDPUR.

 

4,737 জন পড়েছেন

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়