গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বলা থেকে মুক্তির উপায়

0
270

দৈনন্দিন জীবনে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি খুব পরিচিত নাম। সাধারণ মানুষের কাছে বুক জ্বলা বা পেট ফাঁপা মানেই গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে পেপটিক আলসারও বলা হয়ে থাকে।

গ্যাসের জন্যে পাকস্থলীতে হালকা থেকে অনেক গভীর সমস্যাও হতে পারে। বুকে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে গেলে অসম্ভব কষ্ট হয়। তখন গ্যাস্ট্রিকের ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

http://picasion.com/

আমাদের গ্যাসের সমস্যা হতে পারে বিভিন্ন কারণে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সমস্যাগুলো কিছু নিয়মকানুন ও ঘরোয়া কিছু খাবারের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। আর সেরকম কিছু ঘরোয়া সমাধান নিয়েই আলোচনা করা হলো।

রসুন
গ্যাসের সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে রসুন একটি অনন্য কার্যকরী উপাদান। রসুন, গোল মরিচ গুঁড়ো, ধনে ও জিরে গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। পানি সিদ্ধ হয়ে এলে তা ছেঁকে আলাদা করে নিতে হবে। পানি ঠাণ্ডা করার পর সাধারণ তাপমাত্রায় এনে এক চামচ মধু দিয়ে দিনে দু’বার পান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এছাড়াও গ্যাসের সমস্যা দূর করার জন্যে রসুনের স্যুপও বেশ কার্যকরী।

gif maker

আদা
আদা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরের বুক জ্বালা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে। আদা হজমেও বেশ সহায়তা করে। প্রতিদিন খাওয়ার আগে বা পরে এক টুকরা আদা চিবিয়ে খেলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। সকালবেলা গরম পানিতে আদা সিদ্ধ করে খাওয়া শরীরের জন্যে বেশ উপকারী।

গোল মরিচের গুঁড়ো
গোল মরিচের গুঁড়ো আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। এই গুঁড়ো শরীরে এসিডিটি এবং বদহজম কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। গোল মরিচের গুঁড়ো শরীরে হাইড্রোলিক এসিড ছড়াতে সাহায্য করে, যা পাকস্থলীর এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। তালের বা আখের গুড়ের সাথে গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। গোল মরিচের গুঁড়ো, আদা গুঁড়ো, ধনিয়া গুঁড়ো এবং সমান পরিমাণ শুকনো পুদিনা পাতা একসাথে মিশিয়ে দিনে দু’বার দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।

কালো জিরা
এসিডিটির ব্যথা কমানোর জন্যে কালো জিরা বেশ উপকারী। কালো জিরার অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। চায়ে কালো জিরা মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার হয়। কালো জিরার চা বানানোর জন্যে, প্রথমে এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ কালো জিরা বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। এক চামচ মধু মিশিয়ে দুপুরে অথবা রাতের খাবারের পূর্বে এক কাপ কালো জিরার চা হজমে বেশ সাহায্য করে।

ঘোল বা মাঠা
টক দই দিয়ে তৈরি এই পানীয়কে আঞ্চলিকভাবে অনেকেই ঘোল বা মাঠা বলে থাকে। এসিডিটি কমাতে ঘোল বা মাঠা বেশ ভালভাবেই সাহায্য করে। এর কারণ হলো টকদই বেশ হজম উপকারী। টক দইয়ে লেবুর রস, পুদিনা পাতার রস, আদার রস, সামান্য লবণ এবং প্রয়োজনমত চিনি বা মধু মিশিয়ে ঘোল বানাতে হয়। খাওয়ার পর এক গ্লাস মাঠা শরীরের সকল ক্লান্তি দূর করে হজমে বেশ সাহায্য করে।

gif maker

লবঙ্গ
পেটের হজমে লবঙ্গ বেশ কার্যকরী। কয়েকটি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চিবুতে থাকলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। এটির স্বাদ কিছুটা বিস্বাদ হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়। লবঙ্গ বমির ভাব কমাতেও বেশ সাহায্য করে। লবঙ্গের রস খুব সহজেই এসিডিটি কমিয়ে আনতে পারে।

মৌরি
আমাদের রান্নাঘরে মৌরির কৌটা থাকা বেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। হজমের জন্যে ভরা পেটে মৌরি চিবানো বেশ উপকারী। মৌরি গরম চায়ের সাথে খেলেও বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। গরম পানির সাথে চায়ের পাতা গরম করে, তার সাথে মৌরি ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে কিছুটা দুধ দিয়ে খেলে শরীরে চনমনে ভাব ফিরে আসে।

দারুচিনি
যারা নিয়মিত রান্না করেন তাদের জন্যে দারুচিনি খুব পরিচিত একটি নাম। সেই প্রাচীনকাল থেকে হজমের জন্যে কবিরাজদের মূল চিকিৎসা ছিল দারুচিনি সেবন। প্রাকৃতিকভাবেই এটি অম্লনাশক হিসেবে কাজ করে এবং পাকস্থলীর গ্যাস কমিয়ে আনতে বেশ সাহায্য করে। দারুচিনি আসলে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। রান্নায় তো প্রতিনিয়ত এর ব্যবহার হয়েই থাকে, এছাড়াও স্যুপ বা সালাদেও দারুচিনির গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে। আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়, যদি গরম পানি অথবা দুধের সাথে দারুচিনির গুঁড়ো সিদ্ধ করে খাওয়া যায়।

আমলকি
আমলকি শরীরের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল। এটি শুধুমাত্র যে হজমেই সাহায্য করে এমন নয়, এটি চুল, পাকস্থলী এবং চামড়ার জন্যেও বেশ উপকারী। প্রতিদিন খালি পেটে আমলকির জুস খেলে সারাদিনের জন্যে শরীরে ব্যাপক শক্তি সঞ্চিত হয়। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা এসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বেশ সহায়ক।

আলুর রস/জুস
পাকস্থলীতে গ্যাসের প্রভাব কমাতে আলুর রস বা জুস খুব উপকারী। কয়েকটি ছোট আকারের আলু পিষে অথবা ব্লেন্ড করে পানিতে খানিকটা মধু এবং লবণ দিয়ে দুপুরে খাওয়ার আগে খেলে বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়। যাদের গ্যাসের সমস্যা তীব্র, তারা দিনে দুই থেকে তিনবার এই জুস পান করতে পারেন। কিন্তু স্বাদের দিক বিবেচনা করলে এই জুস খাওয়াটা অনেকের জন্যেই কষ্টসাধ্য।

পুদিনা পাতা
পুদিনা পাতার রস পাকস্থলীর গ্যাস ও বমিভাব কমাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। গ্যাসের ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে কিছু পুদিনা পাতা মুখে নিয়ে হালকা চিবিয়ে নিলে ভালো ফল হবে। এছাড়াও গরম পানিতে পুদিনা পাতার চা তৈরি করে তার সাথে মধু মিশিয়ে খেলেও তা শরীরের জন্যে বেশ উপকারী।

আয়ুর্বেদিক চা
বর্তমানে আয়ুর্বেদিক চা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আয়ুর্বেদিক চায়ের পাতা আজকাল খুব সহজেই পাওয়া যায়। তবে নিজে ঘরে বানিয়ে খেতে চাইলে তুলসীর পাতা, পুদিনা পাতা, আঙ্গুরের রস, কালো জিরা ইত্যাদি মিশিয়ে চা পান করা যেতে পারে।

এতক্ষণ যেসব উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো, তার বেশিরভাগই বিভিন্ন ভেষজদ্রব্য, যা ইউনানী-আয়ুর্বেদিক এবং প্রাকৃতিক উপকরণ, যা কম-বেশি আমাদের প্রত্যেকের ঘরে রয়েছে এবং এগুলো বেশ সহজপ্রাপ্যও। কিন্তু শুধু এসব উপকরণ খাওয়ার উপর নির্ভর করলে বা নিয়মিত খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যাবে, এমন ভাবাটা যুক্তিযুক্ত হবে না। গ্যাস বা এসিডিটির প্রভাব কমানোর জন্যে আমাদের নিয়মিত কিছু অভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং অবস্থা গুরুতর হলে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে।

কীভাবে বুক জ্বালা-পোড়ার সমস্যাটি প্রতিরোধ করবেন কিংবা সহনশীল মাত্রায় রাখবেন?

এর সমাধান হলো, যেসব খাবার খেলে বা পানীয় পান করলে বুক জ্বলা-পোড়া করে, সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে থাকতে পারে টমেটো, কমলালেবু, লেবু, রসুন, পেঁয়াজ, চকলেট, কফি, চা কিংবা কোমল পানীয়। দ্রুত নিরাময় পেতে আদা চা খেতে পারেন। নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়া করার কথা শুনতে সহজ হলেও ব্যাপারটা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে, বিশেষত শহুরে ব্যাস্ত জীবনে তা অনেকটাই কষ্টসাধ্য। বর্তমানে বুক জ্বালা-পোড়ায় নানা ধরনের ওষুধ ব্যবহূত হয়, যা চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে পারেন। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই এটি এড়িয়ে চলা যায়। একসঙ্গে বেশি না খেয়ে ঘন ঘন অল্প পরিমাণে খান। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না অথবা ব্যায়াম করবেন না। দু-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলুন। ভাজা মাংসের পরিবর্তে সেঁকা অথবা ঝলসানো মাংস খাওয়া, কম তেল-চর্বিযুক্ত ও মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।

বুকজ্বলা থেকে পরিত্রাণ পেতে কী করবেন?

১) নিজেকে তৃষ্ণার্ত হতে দিবেন না- সাথে সব সময় একটি পানির বোতল রাখুন। স্কুলে আমরা সবাই পড়েছি দৈনিক ৮ গ্লাস পানি বাধ্যতামূলক। এর বেশি খেলে কোন উপকার বৈ অপকার নেই। বেশি বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২) সকালের নাস্তা বাদ দিবেন না- ব্যাস্ততায় আমরা প্রায়ই সকালের নাস্তা বাদ দেই। খাবার বাদ দাওয়া কখনোই ভালো কিছু না। বিশেষ করে সকালের নাস্তা। দুপুরে কম খান, রাতেও তুলনামূলক অল্প খান। কিন্তু সকালের নাস্তাটা হওয়া উচিত ভারী।

৩) বিরতিতে হালকা নাস্তা খেতে পারেন- হালকা টুকটাক নাস্তা (স্ন্যাকিং) এর চর্চা রাখা ভালো। বড় ব্যাবধানে বিশাল ভূরিভোজনের চাইতে স্বল্প বিরতিতে টুকটাক নাস্তা খেতে পারেন। এতে পাকস্থলি ভালো থাকে। খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মাত্রারিক্ত চিনিযুক্ত ও বাইরের খাবার যেন না খাওয়া হয়।

৪) দেহকে সচল রাখুন- ব্যাস্ত জীবনে ব্যায়ামের জন্য আলাদা করে সময় যোগার করা বেশ কষ্টসাধ্য। তারচেয়ে বরং রিকশার বদলে হাঁটা শুরু করুন। লিফট এর বদলে সিঁড়ি ব্যাবহার করুন।

৫) রঙ চা পানের অভ্যাস করুন- রঙ / লাল / লিকার / গ্রিন চা এর উপকারিতা অনেক। দুধ – চিনি যুক্ত চা হতে আস্তে আস্তে রঙ চা পানের অভ্যাস করুন।

৬) খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ান- ফলমূল, দই, লাল আটা ইত্যাদিতে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ রয়েছে। আঁশ পরিপাকের জন্য অত্যন্ত ভালো। আঁশযুক্ত স্যুপ / ঝোল সহজেই বানানো সম্ভব এবং পুষ্টিগুণেও এর জুড়ি মেলা কঠিন।

হাকীম মিজানুর রহমান (ডিইএএমএস)

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার

হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত)

+88 01762240650, +88 01834880825

যৌন সমস্যা, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা),

হার্টের ব্লকেজ শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর , আলসার, টিউমার

ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
2,031 জন পড়েছেন
http://picasion.com/