জীবনে সফলতা পেতে ১৭ টি বিষয় খুবই জরুরী

0
575
ছবি : ১. সফল নারী উদ্যোক্তা কামরুন নাহার লিপি, ২. সফল নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর

ফিচার ডেস্ক :
জীবনে সবাই প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। সে জন্য কতরকমের পন্থাই না অবলম্বন করে মানুষ। আজ এমন গোপন ১৭টি কথা জেনে রাখুন। যা প্রতিষ্ঠিত হতে আপনাকে সাহায্য করবে।

প্রথমে ৫টি বিষয়ের কথাই বলি :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

• সম্পদ থেকেই অনর্থ জন্মায়। কিন্তু সম্পদই মানুষের মধ্যে লালসার জন্ম দেয়। লালসা শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়কে ডেকে আনে। যত সম্পদই আহরণ করুন না কেন, তা অন্যের মধ্যে লোভ বা লালসার জন্ম দেবেই। তাই নিজের সম্পদের কথা কখনোই প্রকাশ্যে বলতে নেই। তা গোপন রাখাই ভালো।

• অপমানের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সামান্য অপমান তখন বহুগুণ হয়ে ফিরে আসে। তাই নিজের অপমানগুলোকে নিজের ভেতরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

• ভক্তি বিষয়টিও জনসমক্ষে বলে বেড়ানোর মতো নয়। কারণ ভক্তির মধ্যে নিহিত থাকে আত্মনিবেদন। তা প্রকাশ্যে এলে আত্ম-বিচ্ছিন্ন হয়। ভক্তির যাবতীয় মহিমা লুপ্ত হয়।

gif maker

• নিজের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোকে নিজের কাছেই রাখুন। অন্য লোক তাকে আপনার দুর্বলতা বলে মনে করতে পারে।

• দান সবসময়ই গোপন রাখা ভালো। কারণ দান জনসমক্ষে এলে দাতার মধ্যে আত্মম্ভরিতা দেখা দিতে পারে। দান তার মহিমা হারায়।

জীবনে সফলতা পেতে ১২ টি বিষয় খুবই জরুরী

স্কুল কলেজের গণ্ডি পার হয়ে ইউনিভার্সিটি ভর্তি, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে উন্নিত হওয়া। ২০ বছর বয়সের থেকেই ছেলে মেয়েরা নিজেদের গড়ে তোলার ব্যাপারটি বুঝতে শিখে থাকে। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গড়ে নেওয়ার এটিই মোক্ষম সময়। এই সময়ে কিছু বিষয় হয়তো হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়া হবে তাদেরকে। কিন্তু জীবনের বেশ কিছু শিক্ষা শিখে নিতে হবে নিজে থেকেই। সফলতা, উন্নতি এবং সঠিকভাবে জীবন যাপনের জন্য নিজেকে গড়ে নেওয়ার দীক্ষা কেউ শিখিয়ে দিতে পারে না। বুঝে নিতে হয় নিজ থেকেই।

১) জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় আবার পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় একেবারেই। সুতরাং সময়গুলোকে গুরুত্ব দিলে পরবর্তীতে তা নিয়ে আর আফসোস থাকবে না।

২) সৌজন্যতাবোধ তখনই বেঁচে থাকবে যদি আপনি তা অন্য কারো প্রতি প্রদর্শন করেন।

৩) প্রেম-ভালোবাসা শুধুমাত্র সময় কাটানোর কোনো বিষয় নয়। এটি জীবনের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার।

http://picasion.com/

৪) আপনি নিজের জীবন এবং পৃথিবীটাকে যেভাবে দেখেন অন্য কারো পক্ষে তা দেখা বা ভাবা সম্ভব নয়। সুতরাং অন্য কারো কাছ থেকে নিজের মতো করে ভাবার আশা করবেন না।

৫) কোনো ব্যাপারে আশার হাল শক্ত করে ধরে রাখলে সে ব্যাপারটিতে সফলতা আসবেই।

৬) অনেক সময় একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া সম্ভব হয়।

৭) মানুষের চাহিদা থাকবেই এবং সময়ের সাথে সাথে তা বেড়েই চলবে। সব চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব নয় একেবারেই।

৮) স্বাস্থ্যটাকেই সব চাইতে গুরুত্ব দেয়া উচিত। নতুবা যৌবনেই বার্ধক্য ভর করতে পারে।

৯) জীবন যাপন এবং ধারণের জন্য পানি ব্যতীত অন্যান্য সকল পানীয় না পান করলেও চলবে। বিশেষ করে মদ ও এনার্জি ড্রিংকসগুলো বাদ দিলে জীবনটা ভালোই যাবে।

১০) জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হবে যদি বর্তমানের সকল দিকে নজর দেয়া সম্ভব হয়। এতে করে ভবিষ্যতটাও আপনাআপনিই সঠিক হয়ে আসবে।

১১) যদি জীবনে সফলতা আনতে চান তবে অবশ্যই গণ্ডির বাইরে চিন্তা করা উচিত এবং সে হিসেবে নিজেকে তৈরি করে নেয়া উচিত।

১২) মানুষ পিছু কথা বলবেই এবং হিংসা বা নিন্দা করে চলবেই। তাই বোলে দমে থাকা বা নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার কোনো অর্থ হয় না। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে জীবনে।

একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর
প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন মানুষ উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন। এর ফলে তিনি একদিকে যেমন নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করেন একই সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। পরোক্ষভাবে অনেক পরিবারের দায়িত্ব নেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীরও নিজের প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে বহু পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি একাধারে নিট কনসার্ন প্রিন্টিং লিমিটেড, জয় অটো গার্মেন্টস লিমিটেড ও জেসি এমব্রয়ডারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একজন পরিচালক। এ ছাড়া অনেক সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এর বাইরে তিনি একজন লেখক। এরই মধ্যে তাঁর লেখা ১০টি বই বাজারে এসেছে। তিনি জয়যাত্রা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। তিনি উদ্যোক্তা জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শৈশব থেকেই আমার চুপচাপ এক জায়গায় বসে থাকতে ভালো লাগত না। আমি কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। এ ছাড়া সব কিছুতে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পছন্দ করি। যেমন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। আমি বিভিন্ন বিষয়ে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নিতে পছন্দ করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই। একজন দায়িত্বশীল মানুষই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেমন একটা লোককে চাকরি দেওয়া মানে হলো তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া। ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করে দেওয়া মানে হলো ৩০ হাজার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া।’

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার এই পর্যায়ে এসে পেছনের সময়টা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সফলতার জন্য যোদ্ধার মানসিকতা নিতে হয়। কাজকে এবাদত মনে করতে হয়। সততার সঙ্গে নিয়ম-মাফিক একাগ্রচিত্তে কাজ করলে সফলতা এমনিতেই কাছে চলে আসে। পরিশ্রমই ঠিক করে জীবনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য মেধা, যোগ্যতা আর শালীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে নারীর অগ্রযাত্রায় কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন থেকে উদ্যোগ নিয়েছি নারীদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া। আমি দেখেছি, গ্রামের অনেকে ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সুদ টানতে গিয়ে আর কিছু করতে পারেনি। সিএসআর থেকে কোনো ব্যাংক যদি বিনা সুদে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয় তাহলে অনেক মানুষের জীবন বদতে যাবে। তাদের কাছ থেকে দোয়াও পাবে তারা।’

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
1,290 জন পড়েছেন