ভেতর থেকে বলছে হৃদয়, তুমি আমার প্রিয়তম

0
50
 
ড. মাহফুজ পারভেজ :
 
স্মৃতির জাগরণে আর প্রতিশ্রুতির পুনরুচ্চারণে আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভালোবাসা দিবস। আজ যূথবদ্ধ তারুণ্য-যৌবন মেতেছে ভালোবাসার লেলিহান উৎসবে। ফাগুনের উদ্দামতায় চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে ভালোবাসার অজেয় সঙ্গীত। ঋতুরাজ বসন্তের আবাহনে এলোমেলো বাতাসের ছোঁয়ায় ভেসে যাচ্ছে প্রতিটি জীবন, জীবনেরই উপকূলে।
 
রঙিন ফুল, প্রজাপতির মেলা, বর্ণিল পত্র আর পল্লবের বাসন্তী বাহারে উৎসব ছাড়া অন্য কোনোভাবেই মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। উৎসব ছাড়া বাঙালি তো বাঁচেই না। হয়তো বারো মাসে তেরো পার্বণের ইমেজটি এদেশে এখন উপকথা বা অতিশয়োক্তিতে পরিণত হয়েছে। তথাপি বিশ্বের প্রায় সকল দেশই ভালোবাসা দিবসে প্রবলভাবে উৎসবমুখর। বাংলাদেশও সেজেছে ভালোবাসার বহুবর্ণ সাজে।
 
তত্ত্বের ভাষায়: বৃষ্টি, জল, চাষাবাদের সঙ্গে শ্রমের সংযোগ যেখানে গভীর আর প্রত্যক্ষ, সেখানেই উৎসব। সেখানেই মানুষ মুখর। সেখানেই মানুষ মিশতে চায়, একের সঙ্গে অপরকে মেলাতে চায়। মানুষ সম্প্রদায়মুক্ত মনুষ্যত্বের টানে সম্প্রদায়-নিরপেক্ষ আবহে মিশে যেতে চায় ভালোবাসার চিরায়ত উৎসবে, আয়োজনে।
 
ভালোবাসার নান্দনিক উৎসব আমাদের দৈনন্দিন গ্লানি-যাতনা-অপ্রাপ্তিকে ভুলিয়ে দেয়। দিনযাপনের পাতায় পাতায় সঞ্চারিত করে অনন্য সুরের ব্যঞ্জনা। আমাদের সাদামাটা দিনগুলোর বিবর্ণতা রঙিন হয়। ভালোবাসাকে ঘিরে অন্তরে-বাহিরে জেগে ওঠে এক মহাসমুদ্র। অতীত স্মৃতির জাগরণে যার উত্থান, চলমান প্রতিশ্রুতি পুনরুচ্চারণে যার পুনরাবৃত্তি।
 
মহাচীনের প্রাচীন দার্শনিক চুয়াংৎসে-এর কথাই ধরা যাক, যার দর্শন-কথাবার্তা-চিন্তার ধরন আজও নাড়া দেয়। ভালোবাসা তাঁর কাছে ছিল আত্মমগ্ন-নীরব প্রার্থনার প্রতীক। স্ত্রী-র মৃত্যুর পর গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে বন্ধুকে বলেছিলেন, “আহঃ, তোমরা বোকার মতো শোক জানাতে এসেছো কেন? আমি যাকে হারালাম, সে তো দিব্যি আমার অন্দর-মহলের ঘরে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে!”
 
এমনই প্রেমের ধ্বনি মঞ্জুরিত হয়েছে রুমির কবিতায়। আধুনিক অনেক কবির ভাষ্যে। উদাহরণস্বরূপ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ’ পর্বের কবিতায়।
আসলেই তো, জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে নিতে হলে তাকে বারেবারে বিপরীত প্রেক্ষিত থেকে দেখে নেওয়া দরকার। মৃত্যুর মাধ্যমেই তো জীবনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন
ফেসবুকে মন্তব্য করুন
1,015 জন পড়েছেন
http://picasion.com/