ভালোবাসা দিবস : কী ভাবছেন শোবিজ তারকারা?

0
10

ভালোবাসা দিবস
প্রযুক্তি যতই সহজ সাধ্য হচ্ছে ততই আমরা নতুন কিছু সৃষ্টি এবং প্রতিষ্ঠা করতে পারছি। প্রযুক্তির অপব্যবহারে আমরা যেমন দাবিত হচ্ছে যাবতীয় আসক্ত এবং অপসংস্কৃতিতে ঠিক তেমনই দিন দিন শিখছি নতুন এবং পুরনো অজানা নিয়ম-নীতি এবং উদযাপন করছি যাবতীয় উৎসব। ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান স¤্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদ- দেন।

সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন। অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত হয়। দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয় থাকে, যদিও অধিকাংশ দেশেই দিনটি ছুটির দিন নয়।

১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরুটি করেন। এ নিয়ে অনেক ধরনের মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে। সে থেকে এই আমাদের দেশে দিনটির শুরু।

শোবিজ তারকারা কী ভাবছেন ভালোবাসা দিবস নিয়ে তাই তুলে ধরছেন চাঁদপুর রিপোর্ট-এর ফিচার সম্পাদক হাসান সাইদুল

শফিক রেহমান


ভালোবাসার মানে হচ্ছে কারো মঙ্গল কামনা করা। আপনি যাকে ভালোবাসেন তার সাথে এমন ব্যবহার করবেন না যাতে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। ভালোবাসা সকলের প্রতি। পশ্চিমে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে সেন্ট ভ্যালেইন্টাইন ডে পালন করে যা প্রেমিক- প্রেমিকা বা স্বামী স্ত্রীর মাঝে সীমা বব্ধ কিন্তু আামি ১৯৯৩ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে সে অর্থে নয়। আমি চেয়েছি ভালোবাসা দিবস ব্যাপক অর্থে। বাবা মা ভাই বোন প্রেমিক-প্রেমিকা এবং দেশের প্রতি হতে পারে। ভালোবাসা বাড়ীওয়া ও ভাড়াটিয়ার সাথে এমনকি পুলিশের সাথে জনগণের ভালোবাসার অর্থে। ভালোবাসা একদিনের জন্য না তবে একটি বিশেষ দিন থাকবে ঐদিন সকলেই শুধু ভালেবাাসা দিবস হিসেবে পালন করবে। কারো সাথে কারো ভেদাভেদ থাকবে না। ঈদ, পূঁজা, বড় দিন ইত্যাদি দিবস আছে। ভালোবাসা প্রতিদিনেরই। ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য একটি বিশেষ দিন থাকবে। ঐ দিন মানুষ ভালোবাসা প্রকাশ করবে।

ফেরদৌস


প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিবস। একদিনে তো ভালোবাসা হয় না। তারপরও ১৪ ফেব্রুয়ারীতে সকলে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করে। সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা প্রতিদিনের জন্য। আমাদের জীবনে আনন্দের সংখ্যা কম তাই ১৪ ফেব্রুয়ারীতে একটু আনন্দ করা এটা খারাপ কিছু নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যায়, এটা যেনো না হয়। প্রেম ভালোবাসা সবার জন্য।

হাবীব ওয়াহিদ


ভালোবাসা উদযাপনের জন্য কোনো দিবস লাগে বলে আমি মনে করি না। ভালোবাসা প্রতিদিন গ্রহন-প্রদান করার মত। আপনজন, পারা-প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবকে, ভক্ত-শ্রোতাদের প্রতিদিনই ভালোবাসা যায়, বিশেষ দিন দরকার পরে না। যেহেতু আমাদের ভালোবাসা দিবস পালিত হয়, মনে রাখতে হবে শুধু পাত্র-পাত্রির জন্যই এ দিবস না। এ দিবস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধশীল হতে হবে। ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

মেহজাবিন


আল্লাহর মাসের ৩০ দিনই ভালোবাসার। একদিন যেহেতু ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করে, খুব ভালো। ভালোবাসা প্রকাশ করার মাঝেই তো আনন্দ। বিশেষ দিনে যদি ঘটা করে পালন করে তো ভালো।

ঝর্ণা সুলতানা


এটা একটা বিশেষ দিন। শুধু প্রেমিক প্রেমিকার জন্য না। মা বাবা, ভাই বোন, স্বামী-স্ত্রী, আতœীয় এমন কি পশু পাখির জন্য ও হতে পারে। ভালোবাসা সবার জন্য। আমরা তো সবাই ভালবাসি, ভালবাসা প্রতিদিনের তবুও একদিন ঘটা করে পালিত হয় এটাও শুভ কামনার। ভালবাসি।

খবির শাহ


আমাগো কোনো দিবস নাই। বাঁচার জন্য ঢাকা আইসি। রিক্সা চালাই ভাত খাই। ঘরে বউ আছে সন্তান আছে তাদের প্রতিদিন মায়া করি ভালোবাসি। আমাদের কোনো বিশেষ দিন লাগদো না। আল্লাহ যেনো প্রতিদিন শরীর ভালো রাখে। প্রতিদিন রোজগার করে পরিবারকে খাওয়াইতে পারি।

পিন্টু প্রণয়


আমাদের ভালোবাসা প্রতিদিনের। দোকানে প্রতিদিন গ্রাহক আসে পণ্য বিক্রি করি। গ্রাহককে নিজ দায়িত্বে সুন্দও মত পণ্য বুঝিয়ে দিতে পারা আমার কাছে বড় ভালোবাসা। তবুও একদিন যেহেতু উৎসব পালন করা হয় এটা ভালো তবে এই ব্যপারটা আমাদের দেশে শুধু ছেলে মেয়েদের মাঝে বেশি পালিত হয় এটা ঠিক না। ভালোবাসা সবার জন্য। ঈশ্বরের জন্যও।

মুনমুন ফেরদৌসী দীপ্তি

২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে সে সময়ের রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দি করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুর আদেশ দেন। সেই দিন ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও প্রথম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন।

এই ভ্যালেন্টাইন ডে বলতে আমরা ভালোবাসা দিবস মনে করে থাকি এবং দিবসটি ভালোবাসার মানুষের সাথে পালন করি৷ আমার মতে এই ভালোবাসা কেবল প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে সমস্ত সুন্দর সম্পর্কে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। হতে পারে স্বামী স্ত্রীর মাঝে, মা বাবার সাথে সন্তানের, ভাই এর সাথে বোনের, বন্ধুত্বের মাঝে, শিক্ষকের সাথে ছাত্রের , অসহায় মানুষদের জন্য যাদের ভালোবাসা দেবার মতো এই পৃথিবীতে কেউ নেই। আসলে ভালোবাসার কোনো গণ্ডি নেই, তাই এর কোনো নির্দিষ্ট দিনও নেই। বিশ্বে স্বীকৃত ১৪ই ফেব্রুয়ারি রয়েছে, যে দিনটি জানাবে ভালোবাসা নামক এক মায়া পৃথিবীতে আছে৷ কিন্তু ভালোবাসা কেবল ঐ দিনের জন্য নয়, ভালোবাসা প্রতিদিনের জন্য, প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য, যা আমাদের সকলের প্রয়োজন৷


আরো পড়ুন : সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ করা হবে

আরো পড়ুন : যৌন সমস্যার সমাধানে করণীয়

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস থেকে মুক্তির সহজ উপায়

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও প্রতিকার

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
73 জন পড়েছেন