চাঁদপুর সহ সারাদেশে  ট্রাক্টরে ক্ষত-বিক্ষত গ্রামীণ সড়ক!

৩০ মে, ২০১৮ ১৯:২৭:০৭
ছবি: প্রতীকী

 

চারিদিকে ধুলি। ধুলির কারণে অনেকক্ষণ দেখা যায় না সামনের কিছু। নিঃশ্বাস নেয়া যেন দায়। এমন দুর্ভোগের উপর সড়ক জুড়ে ছোট বড় গর্ত যেন মরার উপর খাড়ার ঘা! সড়কে নতুন কার্পেটিংয়ের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) 01777988889 অথবা
01762240650
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর দক্ষিণ, হাইমচর, শাহরাস্তি, কচুয়ায় এমনই দেখা যাচ্ছে এখন। এখানের গ্রামীণ সড়কে ট্রাক্টর চলাচল করছে বীরদর্পে। জেলা প্রশাসনের দেয়া আদেশ ক’দিন পালন হলেও পরবর্তীতে রাতের বেলায় বেপরোয়াভাবে চলছে ট্রাক্টর। আর ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে সুদৃশ্যমান রাস্তাগুলো।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের মধ্যম পাড়া হতে চিৎলাপাড়া পর্যন্ত এমন দুর্ভোগই নিত্যসঙ্গী। সড়কের মাত্র ৫ কিলোমিটার ধুলাবালিতে একাকার হয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে পার হতে হয় চালক ও পথচারীদের।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পৌরসভার চিৎলাপাড়া-হাজীর হাট সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দের। দিনে বিরতিহীনভাবে মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলাচল করছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে ছয় মাস আগে সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছে। একই অবস্থা গারিষাপাড়া ও মধ্যমপাড়া সড়কেরও। অথচ মাত্র ছ’মাস আগে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এসব গ্রামীণ সড়ক পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে সংস্কার করা হয়। গুরুদাসপুর উপজেলাজুড়ে অন্তত ২০টিরও বেশি সড়কের এমন বেহাল অবস্থা ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবনির্মিত এসব সড়ক দিয়ে অনান্য যানবাহনের চেয়ে দাপটের সাথে চলাচল করছে স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ধারণ ক্ষমতায় মাটি বহনকারী ট্রাক্টর। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো রক্ষায় তদারকিসহ নজরদারীর মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তব ভিত্তিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার এসব গ্রামীণ সড়ক ঘেঁষে কৃষি জমিতে গড়ে ওঠেছে প্রায় ৭টি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় মাটির যোগান দিতে ট্র্যাক্টর ব্যবহার করা হয়। মাত্রাতিরিক্ত ধারণ ক্ষমতায় ইটভাটার মাটি বহন করায় সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলিময় সড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের বেড়েছে দুর্ভোগ। এছাড়া উপজেলার চলনালী, খুবজিপুর, হাঁসমারি, মশিন্দা, ধারাবারিষা, নাজিরপুর, রওসনপুর, সোনাবাজুসহ অভ্যন্তরিণ গ্রামীণ সড়কগুলোরও কম বেশি একই অবস্থা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাযায়, যানবাহন চলাচলের জন্য গ্রামীণ সড়কগুলোর সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৮-১০ টন। সেখানে ১৫-২০ টন ওজনের মাটি ভর্তি ট্রাক্টর চলাচল করছে। এছাড়া কয়লা ও ইট ভর্তি ট্রাক পরিবহনের সময় ওজন থাকে ২০-৩০ টনের কাছাকাছি। একই সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাথর, ব্যবসায়ীদের রড-সিমেন্ট এবং ধান চাল পরিবহনেও মাত্রাতিরিক্ত ওজনের ট্রাক এসব সড়কে চলাচল করে থাকে। এতে করে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় নতুন পুরাতন সড়কগুলো ক্রমেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। একারনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

গুরুদাসপুর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী সেলিম রেজা জানান, পৌর সদরের আদম আলী শাহ’র মোড় হতে গোপালের মোড়, ধারাবারিষা ইউনিয়নের হাজীর হাট চিতলাপাড়া দিয়ে আছিরের মোড় হয়ে মধ্যমপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত এই তিনটি সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যায় করা হয়েছে। কিন্তু মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলাচল করায় সড়কগুলো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। একই কারণে পৌর সভার অন্য সড়কগুলো একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার জানান, একদিকে ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের হিড়িক। অন্যদিকে সেসব মাটি ইটভাটাসহ অন্যত্র নিতে অধিক ধারণ ক্ষমতার ট্রাক্টরের অবাধ বিচরণ। ফলে গুরুদাসপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সব মিলিয়ে গ্রামের সড়কগুলোও বেহাল হয়ে পড়েছে। অথচ বছর খানেক আগে গ্রামের সড়কগুলো কার্পেটিং করা হয়েছিল।

গুরুদাসপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তাদের ইটভাটা চলছে। উন্নয়নের স্বার্থে সাময়িক কষ্ট মেনে নিতে হবে।

গুরুদাসপুর পৌর সভার মেয়র শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা জানান, ভারী যানবাহন চলাচলে শুধু সড়কই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেনা। ধুলোর ভরে রিতিমতো নাগরিক দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। ইটভাটা মালিকদের সতর্ক করেও লাভ হচ্ছেনা।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে গেলে ইটভাটার দরকার আছে। পাশাপাশি সড়ক তৈরির ব্যপারে সংশ্লিষ্টদের টেকসই সড়ক নির্মাণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

876 জন পড়েছেন

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়