শাহরাস্তির হোসেনপুর বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে

শাহরাস্তির হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি একাডেমিক ভবন না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তির হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি একাডেমিক ভবনের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার নারী শিক্ষায় ব্যাপক ভাবে উন্নয়ন করণেও হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেননি।

১৯৯৯ খ্রি. সালে উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের কৃতী সন্তান মোঃ আকতার হোসেন গাজী এ ইউনিয়নের নারী শিক্ষার উন্নয়নে ১১০ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলাকার লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে একটি দৌচালা টিনের ঘর নির্মাণ করে কোন রকম পাঠদান শুরু হয়। উপজেলার মধ্যে ৩৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সবচাইতে অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি, ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গত ৩১ মে, ২০১০ সালে নি¤œ মাধ্যমিক হিসেবে এমপিও ভূক্ত হয়। বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণি সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষক সংকটসহ পাঠদান চরম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে মোট ৭ জন শিক্ষক রয়েছে। তার মধ্যে দুজন এমপিও ভূক্ত হয়নি। শিক্ষার্থীটি সংখ্যা ৩৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। দৈনন্দিন ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত ৫ বছর বিদ্যালয়টির ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক।

২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেএসসি পরীক্ষায় ও ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞানাগার ও বিজ্ঞান সমগ্রী নেই বলে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠদানে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল আলী জানান সরকারি ভাবে কোন অনুদান ও ভবন না পাওয়ায় শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ ভিঘিœত হচ্ছে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে টিনের ঘরটি পানি পড়ে ছাত্রীদের বইপুস্তক ভিজে যায় এতে পাঠদান ব্যাহত হয়।

তিনি আরো জানান অতি দ্রুত যদি একটি সরকারি ভবন সমেত আসবাবপত্র পাওয়া যেত তবে মোটামোটি ভাবে বিদ্যালয় পাঠদানসহ ভাল ফলাফলে অত্র উপজেলায় এই বিদ্যালয়টি ভালো অবদান রাখতে পারতো। অত্র বিদ্যালয়ের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম মহোদয় অবগত আছেন। তিনি বিদ্যালয়টিকে একটি একাডেমীক ভবন বরাদ্দ দিবেন বলেন আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা এমপি মহোদয় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি।

715 জন পড়েছেন

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়