মধ্যবিত্ত পরিবারটি নিঃস্ব হলো যেভাবে

0
43

আপডেট: ০৬:২১ পিএম, ১০ জুন ২০১৮

দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল শ্যামলী বেগম ও আব্দুর রব শেখ দম্পতির। এলাকার উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর একটি ছিল এ পরিবারটি। এ কারণে আশপাশের সবাই চিনতো তাদের। বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন বেশ ধুমধামের সঙ্গে। ওই সময় এলাকার অনেক মানুষকে দাওয়াত করে খাইয়েছেন তারা।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

তখন এলাকায় তাদের প্রায় ১৭ গণ্ডা (৭ শতাংশ জমি সমান ১ গণ্ডা) জমি ছিল। প্রতি শতাংশ জমির দাম ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাজারে একটি বড় দোকানও ছিল। এছাড়াও রাজধানীর সাভারে একটি স্বপ্নের মতো সুন্দর বাড়ি ছিল তাদের। মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে আজ ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই তাদের। একমাত্র ছেলের অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে সাভারের সেই বাড়ি, বাজারের সেই বড় দোকান এবং এলাকার সব জমি।

ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দেশের অসংখ্য ডাক্তারের পেছনে ছুটতে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করেছ্নে বাবা আব্দুর রব শেখ। তারপরও সুস্থ হয়নি ছেলে। বরং ডাক্তার বলেছেন, যতদিন ছেলে সাকিব হাসান (২৩) বেঁচে থাকবেন ততদিন তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

সাকিব হাসান বাত রোগে আক্রান্ত। পুরো শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা তার। ডাক্তারি ভাষায় রোগটির নাম আর্থাইটিজ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ বছর ধরে বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন কেটেছে সাকিবের। ডাক্তার বলেছেন, মাসে ৪টি করে ৬ মাসে মোট ২৪টি ইনজেকশন দিতে হবে সাকিবকে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩টি দেয়া হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে যখন সাকিবের মায়ের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয় তখন তাকে টঙ্গীবাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল ইনজেনকশন দেয়ার জন্য।

২০১০ সাল থেকে সাকিব এ রোগে আক্রান্ত হলেও ২০১১ বহুকষ্টে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এসএসসি পাস করার পর স্থানীয় টঙ্গীবাড়ী সরকারি কলেজে এইচএসসি ভর্তি হলেও আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও কলেজে যেতে পারেননি তিনি।

সাকিবের বাবা আব্দুর রব শেখ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের বালিগাঁও ইউনুছ আলী হিমাগারে সুপাইভার পদে চাকরি করছেন। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের এক সময়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের এই কর্তার সংসার চলছে এখন মাত্র ৯ হাজার টাকার বেতনে।

আব্দুর রব শেখ জাগো নিউজকে জানান, ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি আমি। বেতন পাই মাত্র ৯ হাজার টাকা। মাসে ইনজেকশনসহ ওষুধ লাগে প্রায় ৫০ হাজার টাকার। জানি না শেষ পর্যন্ত কি হবে?

মা শ্যামলী বেগম বলেন, সাকিবের চিকিৎসা চলছে সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে। সেখানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ডাক্তার এম আর খসরুর চিকিৎসা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডাক্তার খসরু বলেছেন ৬ মাস ইনজেকশন দেয়ার পর বোঝা যাবে সাকিবের কি হবে? এর আগে কিছু বলা যাবে না। এর আগে সাকিবকে একবার কোলকাতাও নেয়া হয়েছিল সেখানেও তার একই রোগ ধরা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সপ্তাহে সাকিবের ইনজেকশনের টাকা জোগার করতে হিমশিম খেয়ে যাই। জানি না, বাকি ইনজেকশনগুলো দিতে পারবো কি-না? এ পর্যন্ত কারও কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা নেইনি। নিজের যা ছিল সব শেষ করে দিয়ে চিকিৎসা করছি ছেলের। আর বুঝি পারবো না। সাকিবের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে কথা বলতে পারেন তার মায়ের সঙ্গে। মোবাইল নম্বর : ০১৯৩০-০৭৪৪০৪।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
576 জন পড়েছেন