শবে কদরের ফজিলত ও আমল

0
4

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ২১:২২

মো. আব্দুর রহমান :
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত কদরের রাত। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

এটি এমন একটি রাত, যে রাতে সৃষ্টজীবের পূর্ণ এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক প্রাণির পানাহার, জীবিকাসহ সর্বপ্রকার কাজ-কর্ম নির্ধারণ করা হয় বলে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বা পরিমাপ নির্ধারণী রাত বলা হয়।

আরবী ভাষায় লাইলাতুল শব্দের অর্থ রাত্রী বা রজনী। আর কদর শব্দের অর্থ পরিমাপ বা নির্ধারণ। কারো মতে, সম্মান, মর্যাদা, সুমহান প্রভৃতি।

মূলত লাইলাতুল কদরের রাতকে নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। এ ব্যাপারে চল্লিশটিরও অধিক মতভেদ পাওয়া যায়। শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেছেন, লাইলাতুল কদর দুটি। তার একটি হচ্ছে শাবান মাসের ১৫ তারিখ। এ রাতে বান্দার আগত বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। এটাকে লাইলাতুল বরাতও বলা হয়। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে রমজান মাসের শেষ ১০দিনের কোনো এক রাত। এ রাতের মর্যাদা অনেক গুণ বেশি। এ রাতে বান্দার প্রতি আল্লাহর নূর বর্ষিত হয়। ফেরেশতাগণ এবং হযরত জিবরাঈল (আ.) এ রাতে যমীনে অবতরণ করেন।

৬১০ সালে শবে কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় মুহাম্মদ (সা.) এঁর নিকট সর্বপ্রথম কোরআন নাজিল হয়। এই রাতে সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। কারো মতে, জিব্রাইল আ. এঁর নিকট এরাতেই সম্পূর্ণ কোরআন অবতীর্ণ হয়। তারপর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিভিন্ন প্রয়োজন এবং ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল করা হয় পবিত্র আল কোরআন।

রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যাপারে রাসুল (সা.) এঁর অনেক হাদিস রয়েছে। অনেকে আবার শুধুমাত্র পবিত্র রমজান মাসের ২৭ তারিখকে বিশেষভাবে নির্ধারণ করে সারারাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করেন। শবে কদর হচ্ছে একটি মহিমান্বিত, বরকতময় এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত রজনী। এ রজনীতে মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবর্তীণ হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা সুরা কদরের ১-৫ নং আয়াতে বলেছেন, নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জান? কদরে রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।

হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয়ই আমি কোরআন এক মুবারকময় রজনীতে অবর্তীণ করেছি। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সুরা: আদ দুখান, আয়াত: ১-৪)

মুসলমানদের কাছে কদরের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনের সুরা কদরে উল্লেখ করা হয়েছে, হাজার মাস ইবাদতে যে পূণ্য হয়, কদরে এক রাতের ইবাদত তার চেয়ে উত্তম। লাইলাতুল কদরে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করে।

লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মহানবী বলেন, যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাঁর পূর্বেকৃত সবগুনাহখাতা মাফ করে দেবেন। (বুখারী)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস (রা.), ইকরামা প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, কদরের রাত সারা বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট ফিকহবিদ কাযীখান গ্রন্থকার আল্লামা ফকরুদ্দিন আবুল মুখাখির আল কারিগিনী ও আবু বকর (র.) বলেছেন এটাই হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ অভিমত।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, কদরের রাত রমজান মাসের সাথে সম্পৃক্ত। তবে রমজানের সারা মাসেই তা পাওয়া সম্ভব রয়েছে। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে ৯, ৭ ও ৫দিন অবশিষ্ট থাকতে তালাশ করো। (বুখারী: ১৯৮৫)

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতের মধ্যে কোনো একদিন লাইলাতুল কদর। তবে হাদিসে রয়েছে আবহাওয়া বা ঝলমলে একটি প্রাশান্তির রাত হবে সেদিন। এই রাতটি হবে খুবই শান্ত ও শান্তিময়। এই রাত শেষে সকালটি হবে প্রশান্তির। এ রাতে প্রত্যেক বস্তুকে সেজদারত অবস্থায় দেখা যাবে। প্রতিটি স্থান হবে স্বর্গীয় আলোয় আলোকিত। সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিদর্শন হচ্ছে, এই রাতের এবাদত অন্তরে তৃপ্তি জোগাবে। এটি দোয়া কবুলের রাত। আমাদের ভাগ্য রজনী বা মহিমান্বিত রজনী। এই রাতেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার উদ্দেশ্য হলো শবে কদর প্রাপ্তিতে দৃঢ়তা আনয়ন। ইতিকাফের মূল কথা হলো সবকিছু ছেড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া।

শবে কদরের আমল সমূহ : নফল নামাজ, তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল এবাদত করা। সর্বপরি সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা।

পরিশেষে সকল পাপ প্রেরণা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বিসর্জন দিয়ে মানসিক উৎকর্ষ ও প্রশান্তি লাভের জন্য শবে কদরের রজনীতে সদ্ব্যবহার করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব এবং ইহাতে বিশ্ব শান্তি ও মানব কল্যাণ নিহিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে লাইলাতুল কদর দান করুন। লাইলাতুল কদরে যথাযথ ইবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মো. আব্দুর রহমান, মুহাদ্দিস, সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
23 জন পড়েছেন