চেক ডিসঅনার হলে কী করবেন?

0
47

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৮ খ্রি.

চেক ডিস অনার মামলা সংক্রান্ত আলোচনা

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

অ্যাডভোকেট শাহজাহান শাওন, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট, মুঠোফোন : 01746-576682

……………………………..

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন,১৮৮১ এর চেক ডিস অনার মামলা নিয়ে আলোচনা করবো।আদালতে চেক ডিস অনারের মামলা সবচেয়ে বেশি পরিমানে হয়ে থাকে।

ক.চেক ডিস অনারের(cheque dishonour) মামলা করার কারন:

(১) ব্যাংকের হিসাবে অপর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকলে।তার মানে চেকে যে পরিমান অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে তা অপেক্ষা কম অর্থ হিসাবে থাকা।
(২)যে ব্যক্তি চেক প্রদান করেছে যদি তার স্বাক্ষর না মেলে।
(৩)যদি চেকে উল্লেখিত অর্থের অংক ও কথার গরমিল পাওয়া যায়।

খ.চেক ডিস অনার হলে শাস্তি বা জরিমানা:

(১)এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড।

(২)অথবা জরিমানা যা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন।

(৩)অথবা উভয়।

গ.চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেবার সময়:

(১) চেক ইস্যু করার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।

(২)অথবা এর বৈধতা বিদ্যমান থাকাকালীন সময়ের মাঝে যেটা আগে ঘটে।

ঘ.চেক ডিস অনার মামলা দায়েরের পূর্ব শর্ত:

(১)সঠিক সময়ের মাঝে নগদায়নের জন্য চেক দাখিল।

(২)চেক দাতাকে নোটিশ প্রদান। চেকটি অপরিশোধিত হয়ে ব্যাংক থেকে ফেরত আসার ৩০ দিনের মাঝে চেক দাতাকে নোটিশ দিতে হবে।নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মাঝে চেক দাতা চেকে উল্লখিত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তখন চেক গ্রহীতা মামলা করতে পারবে।

ঙ.চেক ডিস অনারের মামলায় বিচারযোগ্য আদালত:

ক. দায়রা আদালত।

দায়রা আদালত নিম্নলিখিত জজদের অন্তর্ভূক্ত করবে।যথা:

(১)দায়রা জজ।

(২)অতিরিক্ত দায়রা জজ।

(৩)যুগ্ম দায়রা জজ।

চ.চেক ডিস অনারের মামলা করার কারন উদ্ভব:

(১)চেক দাতার নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন অতিবাহিত হলে।

(২)চেকে উল্লেখিত অর্থ পরিশোধ না করলে।পরবর্তী ৩০ দিনের মাঝে চেক ডিস অনারের মামলা করার কারন উদ্ভব হয়।

ছ.যে সময়ের মাঝে চেক ডিস অনারের মামলা করতে হবে:

চেক ডিস অনারের অভিযোগ ১৩৮ সি অনুচ্ছেদের অধীন মামলা দায়ের করার কারন উদ্ভব হওয়ার তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

জ.আপীল:

(১)১৩৮ ধারায় চেক ডিস অনার মামলায় প্রদও দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।

(২)১৩৮ ধারায় প্রদও দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোথায় আপীল করা যাবে সে সম্পর্কে ১৩৮ থেকে ১৪১ ধারায় কিছু বলা হয়নি।

(৩)এক্ষেএে ফৌজদারী কার্যবিধির আপীলের বিধান প্রযোজ্য হবে।

(৪)১৩৮ ধারায় প্রদও দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে দায়রা জজ অথবা হাইকোর্ট বিভাগে।

পরিস্হিতি-১:

যদি ১৩৮ ধারায় চেক ডিসঅনারের মামলাটি যুগ্ম দায়রা জজ কর্তৃক বিচার করা হয়।তাহলে ৩০ দিনের মাঝে দায়রা জজের নিকট আপীল দায়ের করতে হবে।

পরিস্হিতি-২

চেক ডিসঅনারের মামলাটি যদি দায়রা জজ কিংবা অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক বিচার করা হয়।তাহলে ৬০ দিনের মাঝে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করতে হবে।

ঝ.আপীল দায়েরের পূর্বশর্ত:

চেক ডিসঅনারের মামলায় চেকে উল্লেখিত অর্থের সর্বনিম্ন ৫০% জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে।

ঞ.রিভিশন দায়ের:

চেক ডিসঅনারের মামলায় রিভিশন দায়ের করা যায়।শুধুমাএ আইনগত প্রশ্নে রিভিশন দায়ের করা যায়।এখানে ও ফৌজদারী কার্যবিধির রিভিশন প্রযোজ্য হবে।

(১)দায়রা আদালত(ধারা৪৩৯ক)

(২)হাইকোর্ট বিভাগ(ধারা ৪৩৯)

ট.চেক গ্রহীতা কর্তৃক চেক দাতাকে নোটিশ দেওয়ার পদ্ধতি:

(১)ব্যক্তিগতভাবে।

(২)নিবন্ধিত পোষ্টযোগে।

(৩)বাংলা জাতীয় পএিকায় প্রকাশ করে।

আরো পড়ুন : দেশে বসেই ব্যারিস্টার হতে হলে করণীয়

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
637 জন পড়েছেন