চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হামলা-ভাংচুর-লুটপাট- আহত ৬ ॥ নিরাপত্তাহীনতায় এক পরিবার

0
10

বিশেষ প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের উপর্যপুরি হামলায় ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও ৬জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতাবস্থায় ২জন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার দুুপুর ও রাতে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির কুরকামতা আমিন সাহেবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির ছোলেমানের পুত্র হারুনুর রশিদের সাথে একই বাড়ির মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র আবু ছায়েদের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে বেশ ক’বার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি স্থানীয়রা।

ওই বিরোধের রেষ ধরে শুক্রবার দুুপুর ২টা ৩০মিনিটে আবু ছায়েদের পুত্র লিটন একই বাড়ির মৃত মাহবুবুল ইসলামের পুত্র মুন্নাকে তার বসতঘরের আঙ্গিনায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। একপর্যায়ে মুন্নার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন সহ প্রতিপক্ষগণ দলবদ্ধ হয়ে তার উপর হামলা চালায়। ওই সময় তারা মুন্নাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। তার ডাক চিৎকারে একই বাড়ির আবদুল কুদ্দুছের পুত্র আবদুল লতিফ, মৃত আবদুল মান্নানের পুত্র কবির হোসেন ও আজাহারুল ইসলাম ছুটে আসলে প্রতিপক্ষরা তাদেরকেও অতর্কিত মারধর করতে থাকে।

এতে আবদুল লতিফের মাথায় গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয় এবং অন্যান্যরা আহত হয়। পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। একই দিন রাতে পুনরায় ওই ঘটনার রেষে হামলার সৃষ্টি হয়। এতে আবদুল কুদ্দুছের পুত্র মোঃ সরোয়ার হোসেন ও আবদুল লতিফের পুত্র মোঃ পারভেজ গুরুতর আহত হয়। তাদেরকেও উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উভয় ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে মুন্নার মা শামছুন্নাহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-২২, তারিখ- ২৩.০৬.১৮ইং।

সরজমিনে গেলে ওই বাড়ির খোদেজা বেগম, কাজল রেখা, তাছলিমা বেগম জানান, ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র বাচ্চু মিয়া গংয়ের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন অতর্কিত পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র বাচ্চু মিয়া, তাজুল ইসলাম, আবু ছায়েদের ৪ পুত্র লিটন, জাবেদ, মজিদ ও মাসুদ, বাচ্চু মিয়ার পুত্র মোস্তফা কামাল, সালমান শাহ প্রকাশ মোবারক হোসেন সহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮জন লোক হামলা চালায়। বসতবাড়িতে ভাংচুর ও বেশ কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্রদের ভয়ে পুরো বাড়ির লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত।

হারুনুর রশিদের স্ত্রী তাছলিমা বেগম জানান, আমার স্বামী তার চাচা আমিন থেকে বাড়ির উত্তরাংশে সম্পত্তি কিনে নেয়। ওই সম্পত্তি কৌশলে ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র আবু ছায়েদ পুনরায় কিনে নেয়। আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি তিনি কৌশলে নিয়েই এ বিরোধের সৃষ্টি করেছেন। তারা সবকিছু গায়ের জোরে করতে পছন্দ করেন।

আহত মুন্নার মা শামছুন্নাহার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে আমার ছেলের উপর হামলা চালায়। ওই সময় তারা অতর্কিত আমার বসতঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, বসতঘরের বেড়া দরজা ভাংচুর করে এবং ঘরের ভেতরে ওয়্যারড্রপে রক্ষিত ৭০ হাজার টাকা লুটে নেয়। তারা আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের কঠোর শাস্তির দাবী করছি।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম প্রকাশ পারুল জানান, আমার বাসুর পুত্র লিটন আমাদের ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে গেলে প্রতিপক্ষের মুন্না সহ কতেক ব্যক্তি তার উপর আক্রমন করে। ডাকচিৎকার শুনে আমার স্বামী ও দেবর সহ অন্যান্যরা ছুটে গেলে তাদেরকেও বেধড়ক মারধর করে আহত করে। তাদের ভয়ে আমরা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পর্যন্ত করতে পারিনি। একই দিন রাতে আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় তারা ৪০-৫০ জনের সংঘবদ্ধ চক্র হামলা চালিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। আমরা তাদের কারো উপরে হামলা করিনি। অহেতুক আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে তারা। আমরা ওই ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।

বাচ্চু মিয়ার ৩ পুত্রবধু সেলিনা বেগম, শিরিন বেগম ও রুমা খাতুন প্রকাশ ফারিয়া জানান, শুক্রবার রাতে আকস্মিক ভাবে আমাদের বসতঘরে হামলা করা হয়েছে। ওই সময় আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। রাতের অন্ধকারে আমরা কাউকে চিনতে পারিনি। একসাথে অনেক লোক হামলা চালানোয় আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ওমর ফারুক জানান, আমি বাচ্চু’র ভাই ইউসুফের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। তিনি ফোনে সংবাদ দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখে এসেছি। বিষয়টি নেক্কার ও দুঃখজনক। শুনেছি ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
80 জন পড়েছেন