‘গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবার বার্তা পৌঁছাতে হবে’

গ্রাম আদালত বিষয়ক উঠান-সভা অনুষ্ঠিত
গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবার বার্তা পৌঁছাতে হবে শারমিন আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মতলব উত্তর

গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক উঠান-সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি মতলব-উত্তর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মিয়াঁজি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প এর সহযোগিতায় উঠান-সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব-উত্তরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মতলব-উত্তর উপজেলায় কর্মরত গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ সগীর আহম্মেদ। এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড মেম্বার, এলাকার শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোক সহ প্রায় ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। উঠান-সভাটি প্রায় জনসমাবেশে রূপ নেয়। এ সভাটি আয়োজনের পিছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যাক্তিগত উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল প্রচুর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার তার বক্তৃতায় বলেন, দরিদ্র ও সুবিধা-বঞ্চিত প্রান্তিক গ্রামীণ জনগণ বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্টি তাদের প্রতি সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিকার যাতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে পারে তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত চালু করেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত গ্রাম আদালত ৭৫,০০০ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানী ও ফৌজদারী সংক্রান্ত মামলা নিষ্পতি করে থাকে।

তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালতে ফৌজদারী মামলার আবেদন ফি ১০ টাকা ও দেওয়ানী আবেদন ফি ২০ টাকা ছাড়া গ্রাম আদালতে আর কোনো খরচ নাই। গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং সহজে বিরোধ ও বিবাদ নিষ্পতির সুযোগ রয়েছে। পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারে। এখানে কোনো আইনজীবি দরকার হয় না। গ্রাম আদালত নারী-পুরুষ সবার জন্য নিরাপদ ও ভয়মুক্ত। গ্রাম আদালত দরিদ্র সুবিধা-বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্টির বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। তাই, অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে সাধারণ জনগোষ্ঠী গ্রাম আদালতে আসতে পারেন। গ্রামে অনেক ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষ তার প্রতিকার চাইতে থানা বা জেলা আদালতে আসেন যাতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এটা না করে তিনি ভূক্তভুগীদের গ্রাম আদালতে আসতে বলেন।

গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ সগীর আহম্মেদ বলেন, মতলব-উপজেলার মোট ৮টি ইউনিয়নে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি কাজ করছে। গত জুলাই ২০১৭ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পভুক্ত এসব ইউনিয়নে মোট ৪৪৩টি মামলা গৃহীত হয়েছে এবং এর মধ্যে ৪২৬টি মামলা (শতকরা ৯৬ ভাগ) নিষ্পত্তি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়