চাঁদপুরে গণধর্ষণ থেকে রক্ষা পেল এক যুব নারী, ২ যুবককে আটকের পর গণধোলাই

১৮ জুলাই, ২০১৮

চাঁদপুর শহরে রাতে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে পথচারী এক যুবনারীকে গণধর্ষণের চেষ্টা করার সময় এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে ওই নারী। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় উক্ত নারী মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে তিনি লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় এলাকাবাসীর হাতে আটক যুবকদের থানায় না নিয়ে ছেড়ে দেয়ায় তারা রক্ষা পেয়ে যায়।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাত ১১টায় মডেল থানা থেকে সামান্য দূরে পরিত্যক্ত টেলিগ্রাফ অফিসের পিছনে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ২ যুবক রাকিব (২৮) ও তপন দে (২৫)কে আটক করে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ আক্রান্ত নারীর বোন ও ভগি্নপতিকে খবর দিয়ে এনে তাকে তাদের হেফাজতে দিয়ে দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী গ্রামের ওই যুবনারী তার বড় ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে সোমবার রাত ১০টায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আসে ভাইকে দেখার জন্যে। হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, তার ভাইকে কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ভাইয়ের দেখা না পেয়ে একা থানা রোড দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

এরই মধ্যে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে পিছু নেয়া এক দল অ্যাম্বুলেন্স চালক তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক টেনে পরিত্যক্ত টেলিগ্রাফ অফিসের পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে অ্যামু্বলেন্স চালক রাকিব শ্লীলতাহানি করে।

পরে তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। পরে নারীটি চিৎকার দিলে ঐ স্থান দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করে।

এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী নারীটিকে উদ্ধার করে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে যায়।

মডেল থানা পুলিশ নারীর অভিযোগ শুনে তার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ চায়। তিনি অভিযোগ দিলে ঝামেলা হবে বলে এড়িয়ে যান। সে আলোকে পুলিশ এলাকাবাসী ও পথচারীদের কথা শুনে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমনের সাথে যোগাযোগ করে তার সহযোগিতায় শহরের কোড়ালিয়া এলাকা থেকে মোস্তফা বাবুর্চির ছেলে রাকিব (২৮) ও শহরের পালবাজার এলাকার মৃত বল্লবের ছেলে ফল ব্যবসায়ী তপন (২৫)কে আটক করে।

উল্লেখ্য, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে দিন দিনই বেড়ে চলছে অ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অন্যান্য বখাটে চালকদের দৌরাত্ম্য। তাদের কারণে পথচারীসহ বিভিন্ন রোগী ও হাসপাতালে দেখতে আসা রোগীর স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

আক্রান্ত নারী জানান, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যান। পরে বড় ভাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হবার খবর শুনে তাকে দেখতে চাঁদপুরে এসে সদর হাসপাতালে যান। কিন্তু হাসপাতালে আসার পূর্বেই ভাইকে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়ার পরে এই পথ দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিবসহ অন্যান্য বখাটে যুবক পিছু নেয়। পরে রাকিব নারীটির হাত ধরে জোর করে টেলিগ্রাফ অফিসের পরিত্যক্ত ভবনের পিছনে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এর কিছুক্ষণ পরে পথচারীরা দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে তিনি শেষ রক্ষা পান।

নারীর বড় বোন তাকে ফিরে পাওয়ার পরে ঝামেলা এড়াতে কোনো ধরনের মামলা করবে না বলে পুলিশকে জানিয়ে বাড়িতে চলে যান।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে যে, সুমনের অ্যাম্বুলেন্সের চালক রাকিব ও বখাটে হেল্পাররা রাতের বেলায় হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতর গাড়ি পার্কিং করে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ফিরে রোগীর লোকজনের সাথে ইভটিজিংয়ে লিপ্ত হয়। এমনকি চালক রাকিবসহ অন্যান্য চালক সুযোগ পেলে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং রোগীদের মোবাইল ফোন চুরি করে। বেশ কয়েকবার হাসপাতালের ভেতরে মোবাইল ফোন চুরি ও প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চাকা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনায় বখাটে রাকিবকে আটক করা হয়েছে। কিন্ত অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন চৌধুরী বার বার চোর রাকিবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার প্রশ্রয় পেয়ে চালক রাকিব হাসপাতালের ভিতরে ও বাইরে এই ধরনের অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সে হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে প্রতিদিন বখাটে যুবকদের সাথে নিয়ে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, আ্যাম্বুলেন্স চালক রাকিব শহরের কোড়ালিয়া রোডের ভাড়াটিয়া মোস্তফা বাবুর্চির ছেলে। তার মা পারভীন বেগম কয়েক মাস পূর্বে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় চুরির ঘটনায় আটক হয়ে জেল খেটেছে।

মা ও ছেলের এই ধরনের অপকর্মের খবর জানতে পেরেও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন তাকে চাকরিতে বহাল রাখায় সে হাসপাতাল এলাকায় প্রতিনিয়ত অপকর্ম ঘটিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে যেন কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক ও বহিরাগত বখাটে যুবকরা রাতের বেলায় আসতে না পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়