চাঁদপুর মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনে অভিযুক্ত শিক্ষক আটক

0
19

১৬ জুলাই, ২০১৮

চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী রোড ব্যাংক কলোনী এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম কাসেমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের এক শিশু ছাত্রকে বেদম প্রহারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আটক করেছে পুলিশ।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

আটককৃত শিক্ষকের নাম মাহমুদুল হাসান। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বড়ুয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে। তিনি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন।

জানা যায়, দারুল উলুম কাসেমিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের আনুমানিক সাত বছর বয়সী ছাত্র আব্দুল আহাদ পড়ালেখায় তেমন একটা মনোযোগী নয় বিধায় গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান তাকে বেদম মারধর করে আসছে। শনিবার সকালে তাকে মারতে মারতে তার হাত-পা ফুলিয়ে ও রক্তাক্ত করে ফেলা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আহত এ শিশুটির চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা করে নি।

স্থানীয় ফার্মেসী থেকে জ্বর ও ব্যথার কিছু ঔষধ এনে তাকে খাওয়ায়। গতকাল রোববার বিকেলে শিশুটি মাদ্রাসা লাগোয়া ব্যাংক কলোনীর বাসিন্দা তার নানা সম্পর্কীয় এক আত্মীয়কে বিষয়টি জানায়। তিনি তাকে তার বাসা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ঢালী মসজিদে নিয়ে আসেন। আছর নামাজের পর কৃষি ব্যাংকের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও মাদ্রাসা লাগোয়া ব্যাংক কলোনীর বাসিন্দা তসলিম চৌধুরী বিষয়টি এলাকার কয়েকজন মুসলি্লকে জানান। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এ সময় ওই পথ দিয়ে যেতে নেয়া দৈনিক সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও যমুনা টেলিভিশনের চাঁদপুর প্রতিনিধি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমকে লোকজন বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিক চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এর কিছুক্ষণের মধ্যে চাঁদপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতার করে আহত শিশুটিকেসহ থানায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর পর ঘটনাস্থলে আসেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামান। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টির তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা দেখতে পেয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম ওসমান গণিকে সোমবার সকালে শিশুটিকে নিয়ে তার কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

জানা যায়, আবাসিক এ মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। মাদ্রাসায় নূরাণী বিভাগ, হেফজ বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এ মাদ্রাসায় মোট ছাত্র সংখ্যা ১শ’২০ জন। চার তলা বিশিষ্ট ভাড়া বাড়িতে এ মাদ্রাসাটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ মাদ্রাসায় প্রায়ই এমন শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। বহু ছাত্র মারের ভয়ে এই মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। আবার বহু অভিভাবকও তাদের সন্তানদের এখান থেকে নিয়ে গেছেন।

এসব বিষয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম ওসমান গণির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, একটা ভুল হয়ে গেছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কিছু না লিখা বা প্রচার না করারও অনুরোধ জানান তিনি।

তদন্তে আসা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামান জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
281 জন পড়েছেন