আপন স্ত্রী ও পরস্ত্রী

0
33

হাসান আলী : 
সমাজ পরস্ত্রীর সাথে প্রেম নিষিদ্ধ করেছে। পরস্ত্রীর প্রতি আগ্রহ নিয়ে তাকানোকে সমাজ ভাল চোখে দেখে না। তবুও মানুষ এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের প্রতি গভীর আকর্ষণ বোধ করে। গুরুত্বপূর্ণ এক বুড়ো মন্ত্রী বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সাথে মন্ত্রীর স্ত্রীও রয়েছেন। বিমান বন্দরে দলীয় নেতা-কর্মীরা এসেছেন বিদায় জানাতে। এক পর্যায়ে স্থানীয় একজন নেতা মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করলেন। পাশে বোরকা পরিহিত মন্ত্রীর স্ত্রীকে পা ছুঁয়ে সালাম করতে গিয়ে আঁৎকে উঠলেন। পা দুখানা একেবারেই কচি যুবতী নারীর পা। হালকা গোলাপী মসৃণ পা দু খানার স্পর্শে শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল। পা ছুঁয়ে সালামকারী যুবকের নাম সুরেশ। সুরেশের মাথাটা ঝিম ঝিম করতে লাগলো।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিড়বিড় করে বলতে লাগলো সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে! আমাদের কাজ যোগান দেয়া আর তাকিয়ে দেখা।’ সুরেশের মন বিদ্রোহী হয়ে উঠলো। মোবাইল ফোন থেকে মন্ত্রীর স্ত্রীকে কল করলো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

অপর প্রান্ত থেকে ভারী কণ্ঠে মন্ত্রীর স্ত্রী বললেন, ‘সুরেশ কী খবর?’ সুরেশ চাপা কণ্ঠে বললো, ‘খালাম্মা, লিডারের সাথে কম বয়সী এক মহিলা বিদেশ সফরে যাচ্ছে বোরকা গায়ে দিয়া।’ মন্ত্রীর স্ত্রী উপরের মহলে যোগাযোগ করলেন। বোরকা পরিহিতা ভদ্র মহিলাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হলো। মন্ত্রী এক বুক ব্যথা নিয়ে একাই চলে গেলেন।

রাজধানীর একজন বড় ব্যবসায়ী। লেখাপড়া জানেন না। ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে বুদ্ধি খাটিয়ে টাকা রোজগার করেছেন। দশজন ছেলেমেয়ের বাবা হয়েছেন। বাড়ি গাড়ি করেছেন। বয়স হয়েছে কিন্তু মনের তৃষ্ণা মিটে না। কর্মস্থলে তার পর নারী প্রীতির রসালো গল্প সবাই জানে। বিখ্যাত লোকদের জীবনী ঘাঁটলে দেখতে পাই তারাও কম-বেশি পর নারীতে আক্রান্ত। প্রায় সব শ্রেণি পেশার লোকের মধ্যে এই প্রবণতা রয়েছে। মানুষ কেন এমন করে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াই।

আমার একটি বদভ্যাস আছে। বন্ধুদের মধ্যে কেউ যখন আমাকে তার স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় তখন আমি জানতে চাই আপন কিনা। এতে বন্ধুর স্ত্রীরা বিব্রত হন। কেউ কেউ রেগে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে নেন, ‘স্ত্রী আবার আপন পর কী?’ আমি বলি, ‘যেহেতু পরস্ত্রী বলে একটা শব্দ আছে সেহেতু আপন স্ত্রী বলে একটা শব্দ থাকতে হবে। আপন-এর বিপরীত শব্দ হলো পর।’

বন্ধুদের স্ত্রীদের রাগিয়ে দিয়ে আমি দারুণ মজা পাই। বানিয়ে বানিয়ে স্ত্রী বদলের নানা রকমের গল্প বলি। হাসিঠাট্টা অনেক সময় বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনে। আমাকে তেমন একটি বিপদে পড়তে হলো। একদিন বিকেলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে শাহবাগ আসলাম। আমার কলেজ জীবনের এক বন্ধুর সাথে দেখা। তিনি ইতিপূর্বে আমার স্ত্রীকে দেখেন নি। আমি তার সাথে স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দিলাম।

আমার বন্ধুটি হেসে বললো, ‘ছয় মাস আগে বউ দেখালি তখন দেখলাম ফর্সা এখন দেখি কালো। তুই কি এভাবেই বউ বদলাস্?’ আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই হেসে উঠলাম। তখনও বুঝতে পারিনি আমার জন্য কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। বাসায় আসলাম খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। দাম্পত্য কলহের আভাস পেলাম। স্ত্রী ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছেন। ঘরের জিনিসপত্র ভাঙ্গছেন।

শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ঘোষণা করলেন, তিনি আর এ সংসারে থাকবেন না। আমি স্ত্রীকে যতই বোঝাতে চাই যে, বন্ধুটি অসত্য বলেছে, স্ত্রী ততই ক্ষেপে যাচ্ছেন। স্ত্রী বলেন, ‘লোকের আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে শুধু তোমার নামে মিথ্যা কথা বলবে?’ শেষ পর্যন্ত আমার মাথায় জেদ চাপলো। সেই বন্ধুর স্ত্রীকে ফোন করে বললাম, ‘ভাবী, শাড়িটা আপনার পছন্দ হয়েছে? শফিকের অনুরোধে আমি শাড়িটা পছন্দ করতে সহায়তা করেছিলাম। বিবাহবার্ষিকীতে দাওয়াত পাব নিশ্চয়ই।’ ফোনটা কেটে গেল। ভাবলাম ঔষধে কাজ হয়েছে।

পরদিন সকালে অফিসে ঢুকে দেখি শফিক বসে আছে। উষ্কখুষ্ক চুল, রাতজাগা লাল দুটি চোখ দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। বললাম, কী হয়েছে শফিক?’

সে যা বললো তাতে আমার আক্কেল গুড়ুম। সমস্যা নিরসনে দু বন্ধু দীর্ঘ মিটিং করলাম। অবশেষে আরও চার বন্ধু সহ শফিকের বাসায় গেলাম। শফিকের স্ত্রীকে বললাম, ‘ভাবী, আমি এসব ঠাট্টা করে বলেছি। এগুলো সত্যি নয়।’

শফিকের স্ত্রী মাথা নিচু করে বসে থাকলেন, কোনো কথার উত্তর দিলেন না। খালিমুখে আশাহীন হয়ে শফিকের বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম। আমার সমস্যা নিরসনে শফিক সহ অন্য বন্ধুরা আমার বাসায় আসলো। শফিক আমার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইলো।

বললো, ‘ভাবী, আমি দুষ্টুমি করে এসব বলেছি। এগুলো সত্যি নয়।’ আমার স্ত্রী শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘কোন্টা সত্যি আর কোন্টা মিথ্যে তা বোঝার মত বয়স আমার হয়েছে। অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে এসেছেন।’

পরবর্তীতে আমাদের দু’জনের স্ত্রী একমত হলেন এই বলে যে, আমরা দুজন পরস্ত্রী শিকারী।

ঘটনার অনেক বছর পার হলেও সেই ক্ষত আজও শুকায় নি। কোনো পার্টিতে বন্ধুদের সাথে দেখা হলে তারা ঠাট্টা করে বলবে, সাথে আপন স্ত্রী নাকি পরস্ত্রী। গত ক’দিন আগে বেইলী রোডে পুলিশ কনভেনশন হলে এক বিয়ের দাওয়াতে গেলাম। আমার স্ত্রী কড়া মেক-আপ নিলেন। নিজের স্ত্রীকে চিনতে ভারী কষ্ট হচ্ছিল।

বরের বাবা আমার স্ত্রীকে চিনতে পারলেন না। আমার হাত ধরে কানে কানে বললেন, ‘সাথে কে এসেছে?’ সৌভাগ্য বশতঃ শফিকের স্ত্রী বিয়েতে এসেছিল। শফিক চিৎকার করে বললো, ‘শালা, তোর বউ এত ফর্সা! আগে তো কালো ছিল।’

শফিকের সাথে আমার স্ত্রী হেসে কথা বলছিল আর হাত দিয়ে টাই ঠিক করছিল। হঠাৎ গা জ্বলে উঠলো, মাথাটা ঝিম ঝিম করে বমি হলো। বুঝতে পারলাম প্রেসারের ঔষধ খাওয়া হয়নি। ওসার্টিল ৫০ প্লাস একটা খেয়ে টেবিলের এক কোণায় চুপ করে বসে থাকলাম।

হাসান আলী : উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
384 জন পড়েছেন