ফরিদগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার ও দালালদের দৌরাত্ম্যে প্রতারিত হচ্ছে রোগীরা

0
16

০২ আগস্ট, ২০১৮

ফরিদগঞ্জের সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দালাল ও ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা। শুধু তাই নয়, এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রোগ নির্ণয়ের নামে বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়েই চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। দায়সারাভাবে পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে দালালদের কথা মতো চিকিৎসা না করলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রকৃত চিকিৎসদের।

এসব দালাল ও ভুয়া ডাক্তারের কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা। বিভিন্ন দুর্ব্যবহার আর হয়রানির ভয়ে স্থানীয় দালাল ও ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জেনারেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কামরুন নাহার শান্তা নামে এক নারী এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার না হলেও নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এলাকায় মাইকিং ও ভিজিটিং কার্ড বিলি করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। তার দেয়া ভিজিটিং কার্ডে তিনি ঢাকা থেকে ডিএমএফ কোর্সে পাস করেই নিজেকে শিশু, প্রসূতি ও স্ত্রী রোগে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দাবি করেন।

তবে কামরুন নাহার শান্তা বলেন, তিনি এমবিবিএস পাস না করলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ডাক্তার লিখে চিকিৎসা দেয়ার বৈধতা তার রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ডিএমএফ কোর্সে পাস করা ছাড়া ডাক্তার লিখার বৈধতা সম্পর্কে কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি। তবে এই সেন্টারের মালিক শফিকুর রহমান তার পুত্রবধূ কামরুন নাহার শান্তাকে ডাক্তার বলে দাবি করেন। তিনি উল্টো সরকারি হাসপাতালের এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এই হাসপাতালে এক ডাক্তার সরকারি অফিস সময়ে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, এই হাসপাতালে স্থানীয় দালালদের দৌরাত্ম্য এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তাদের দুর্ব্যবহারের ভয়ে অপমান হওয়া থেকে বাঁচতে কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। কেউ প্রতিবাদ করলেও উল্টো তাকে ফাঁসানোর জন্যে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে দালালরা। দালালদের কথামতো কাজ না করলে খোদ ডাক্তারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের তীর ছুঁড়ে মারে তারা। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীদেরকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মোট ৪০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নামের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাতেগোনা কয়টি ছাড়া বাকিগুলোর নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র, দক্ষ টেকনোলজিস্ট, সার্বক্ষণিকভাবে নেই কোনো ডাক্তার।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম শিপন দালালদের দৌরাত্ম্য ও ভুয়া ডাক্তারের কথা স্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, এমবিবিএস পাস ছাড়া কামরুন নাহার শান্তা নামে এক নারী হাসপাতালের সামনেই নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবার নামে জনসাধারণকে প্রতারিত করে আসছে। এর বিরুদ্ধে কিছু বললেই কথিত ওই ডাক্তারের শ্বশুর অহেতুক খোদ সরকারি ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এসব অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে মোবাইল টিম অভিযান পরিচালনা করতে পারে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্য কমিটির সহ-সভাপতি আবু সাহেদ সরকার বলেন, চিকিৎসার নামে কারো অপচিকিৎসা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। (সূত্র দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ)

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
43 জন পড়েছেন