এতিম অসহায় শিশু রিয়ামনির পাশে মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার ওসি

0
34

গোলাম নবী খোকন, বিশেষ প্রতিনিধি :
রিয়া মণি নামে অভিভাবকহীন স্কুল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন দয়ালু এই পুলিশ কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভার শিকিরচর গ্রামে জন্ম রিয়া মনির (৯)। তার পিতার নাম আল আমিন। ছোট কালে (আড়াই বছর বয়সে) তার মা তাকে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। তার পিতা আল আমিন চিটাগাং রোডে একজন কারখানার শ্রমিক। সে তার মেয়ের খোজ খবর না নেওয়া অসহায় দরিদ্র নানা সাদেক তার লালন পালনের দায়িত্ব নেয়।

http://picasion.com/

সে জহিরাবাদ ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

ছোটবেলা নানা সাদেক আলীর আশ্রয়ে লালিত পালিত হয়েছে রিয়া মণি। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছিল সে। পড়াশোনা কষ্টে চললেও খাবার ও পোশাক নিয়ে সঙ্কটে পড়ে রিয়া মনি। মতলব উত্তর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি কবির হোসেন তার এমন দুর্ভোগের কথা শুনে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

মতলব উত্তর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি কবরি হোসনে তার এমন র্দুভােগরে কথা শুনে পাশে দাঁড়ানোর প্রতশ্রিুতি দনে। ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় (ওসি) কবির হোসেন রিয়া মনিকে থানায় ডেকে আনেন। এ সময় তাকে বিদ্যালয়ের দু’ সেট পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও উন্নতমানরে খাবার পরিবেশন করান।

রিয়া মনির নানা সাদেক আলী (৭০) বলেন, রিয়া মনির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জোগার করে রেখেছি। ওই টাকা সহ আরো অন্যান্য দান অনুদান থেকে যা আসে তা দিয়ে ব্যাংকে রিয়া মনির নামে স্থায়ী স য় করে রাখব। তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মতলব উত্তর থানার ওসি সাহেব আমার নাতিনের দায়িত্ব নেওয়া আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শক্ষিক গোলাম মোস্তফা জানান, পড়াশোনার প্রতি রিয়ামনির বেশ আগ্রহ রয়েছে। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হতে পারবে। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তার ভবিষ্যত অনিনিশ্চিত হতে চলছিল। তবে ওসি সাহেব এখন রিয়ামনির পাশে দাঁড়ানোয় তার জীবনে আশার আলো দেখা দিল।

ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার খোকন প্রধান জানান, খুব ছোটবেলায় রিয়ার মা তার বাবাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে বৃদ্ধ নানা সাদেক আলী কাছে লালিত পালিত হতে থাকে। এর মধ্যে অভাবের সংসারে রিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন নানা সাদেক আলী। এই প্রসঙ্গে বৃদ্ধ সাদেক আলী জানান, আমার অসহায় নাতনির ওপর মহান আল্লাহর রহমত নেমে এসেছে। তাই একজন পুলিশ কর্মকর্তা রিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মতলব উত্তর থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, নিছক প্রচারের জন্য কিংবা বাহবা নিতে নয়। মানবিক মূল্যবোধ থেকে অসহায় এই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে এমন আরো অসংখ্য রিয়া রয়েছে, যাদের জন্য খোলা মনের মানুষজন এগিয়ে যেতে পারেন। তবেই আমাদের মানবিক মূল্যবোধের দ্বার আরো সমৃদ্ধ হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ বলেন, আজ ১০ হাজার টাকা দিলাম। ভবিষ্যতে রিয়া মনির পাশে আমি আছি।

তিনি জানান, আমৃত্য রিয়া মনির পাশে আছি। রিয়া মনির সুখে, দুঃখে আমাকে পাবে।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮  খ্রি. সোমবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
949 জন পড়েছেন
http://picasion.com/