চাঁদপুরের সেই দম্পতি অবশেষে ফিরে পেলো তাদের সন্তান

0
48

অবশেষে মাকে ফিরে পেলো নবজাতটি। নাম রাখা হলো দৃষ্টান্ত
হাসপাতালরে বিল দেখেই পালিয়েছিলো নবজাতক দৃষ্টান্তের মা-বাবা

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা প্রতিনিধি, ৫ সেপ্টেম্বর-২০১৮

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চিকিৎসার ব্যায় ভার বহনের ভয়ে নিজের নবজাতক সন্তানকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়া মাকে অবশেষে ফিরে পেলো নবজাতক দৃষ্টান্ত। ভুতুড়ে বিলের ভয়ে গেলো ২৪আগস্ট কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলায় মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফেলে রেখে উধাও হয় নবজাতকের মা রোকেয়া এবং বাবা শাহ আলম।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চাঁদপুররে হাজীগঞ্জরে শাহ আলম- রোকয়ো দম্পত্তরি ঘরে গত ১৮ আগস্ট একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। সাড়ে ৬ মাসের মাথায় প্রসব হওয়ায় শিশুটির ওজন হয় মাত্র ৭০০ গ্রাম। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে প্রি-ম্যাচিউর বেবী। শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন হওয়ায় ভর্তি করা হয় কুমিল্লা শহরের ঝাউতলার মা ও শশিু স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিবির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। ৭দিন চিকিৎসার পর গেলো ২৪আগস্ট শিশুটিকে রেখেই তার বাবা-মা উধাও হয়ে যায়।

এমন অবস্থায় শিশুটির ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এব্যাপারে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীর পর পুলিশের সহযোগিতায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এর বাকিলা থেকে তার মাকে খুঁজে বের করে আনা হয়।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডাক্তার মুজিবুর রহমান শিশুটির মা রোকেয়া বেগমকে নিয়ে হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ জেলার কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিশুটির মা রোকেয়া বগেম জানান, তার স্বামী খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। এর আগেও তাদের দুটি সন্তান জন্ম হয়েছিলো। কিন্তু সন্তান দুটিই নির্ধারিত সময়ের আগে ভুমিষ্ঠ হওয়ায় জন্মের পর এরা মারা যায়।

এই শিশুটির চিকিৎসা চলা কালেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুটির বেঁচে থাকার তেমন কোন আশ্বাস দেয়ার পরিবর্তে উল্টো সঙ্কায় ফেলে দেন এবং তাদের কাছে বার বার চাপ দেয়া হয় বিল পরিশোধের জন্যে।

এদিকে মাত্র ১৪ দিনেই দুই লাখের উপরে বিল আসায় তারা হাল ছেড়ে দেন। বুকের ধনের মায়া ত্যাগ করেই চিকিৎসার ব্যায় ভার বহনের ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। তার স্বামী দিনমজুর স্বামী শাহ আলমও হাসপাতাল থেকে বাড়ি গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পুলিশের সহযোগতিায় সন্তানকে ফিরে পেয়ে মহা খুশি রোকেয়া।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। শিশুটির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করা হবে বলে গণ্যমাধ্যমকর্মীদের জানান তারা।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, এটি মূলতঃ দারিদ্রের কারনেই হয়েছে। শিশুটির মা-বাবা চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করতে না পেরেই তারা পালিয়ে গিয়েছিলো। এখন সকলে মিলে আমরা শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহন করবো এবং এটা নিয়ে তার মাকে আর দুঃশ্চিন্তা করতে হবে না।

জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে। সেই সাথে আমরা বিত্তবানদের নিকট আহ্বান করবো যেন শিশুটির চিকিৎসায় দরিদ্র পিতা-মাতার পাশে এসে দাড়ায়।

সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, আজ থেকে এই শিশুটির সকল দায়িত্ব আমাদের। সুস্থ হয়ে বাবা মায়ের কোলে না যাওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলতে থাকবে।

শিশুটির চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় ঘোষনা করেছে কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা জানায় এ পর্যন্ত শিশুটির চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অক্সিজেন বিল সহ নূন্যতম খরচ নেবেন বলে জানান।

এদিকে পরির্দশন শেষে তাৎক্ষণিক ভাবে শিশুটির নাম রাখা হয় দৃষ্টান্ত। পুলশি সুপার সয়ৈদ নূরুল ইসলাম তার নামটি প্রস্তাব করেন। এসময় শিশুটির মা পাশে ছিলেন। জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলনে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার এ ঘটনা অবশ্যই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
350 জন পড়েছেন