চাঁদপুরে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

0
5

আদায়কৃত চাঁদায় পকেট ভারী হচ্ছে নামধারী শ্রমিক নেতাদের

দীর্ঘ কয়েক বছর পর চাঁদপুর জেলায় সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে আবারো চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজিঃ নং-চট্ট-২৫০৩, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অন্তর্ভুক্ত সংগঠনটির নামে এ চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির টাকার হিসাব চাওয়ায় সংগঠনটির সদস্য সচিব মোঃ রিপন হোসেন মহসিন নামে একজন শ্রমিককে আহত করারও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন চাঁদপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদাবাজি করে আসছিলো এ সংগঠনটি। চাঁদাবাজির এ টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি ২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়। এ ২টি গ্রুপই চাঁদাবাজি শুরু করলে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে ২ গ্রুপের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ২টি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কমিটিও ঘোষণা করা হয়। নিজেরা এমন অন্তঃকোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। এভাবেই চলতে থাকে ২/৩ বছর ।

অবশেষে বাংলাদেশ শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশনের হস্তক্ষেপে ২ গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা করে ২ গ্রুপের ২ জনকে শীর্ষ নেতা বানিয়ে ১টি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হলেন কাজী মোঃ ওমর ফারুক ও সদস্য সচিব মোঃ রিপন হোসেন। এ কমিটি ঘোষণার পরপরই সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে চলে যায় সংগঠনটি। গত কয়েক মাস ধরে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে শহরের কালীবাড়ি মোড়, ওয়্যারলেস বাজার মোড়, বাবুরহাট এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্পটে তাদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের দিয়ে তারা শ্রমিক কল্যাণের নামে প্রতি রসিদে ১০ টাকা করে উত্তোলন শুরু করেন। প্রতিদিন কয়েকটি স্পটে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল শ্রমিক নেতা জানান। শুধু তাই নয়, এই শ্রমিক নেতারা জেলায় যতগুলো ইউনিট কমিটি দিয়েছেন, প্রতিটি কমিটি থেকেও শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে অর্থের একটি অংশ আনেন। সেই চাঁদাবাজি থেকেও প্রতি মাসে জেলার এ শীর্ষ নেতার কাছে মাসোয়ারা চলে আসে বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকটি ইউনিট নেতা।

এদিকে শ্রমিকদের কল্যাণের নামে আদায়কৃত এ চাঁদা থেকে কোনো শ্রমিক তার কর্মকালীন সময়ে নিহত বা আহত হবার পর কাউকে অনুদান প্রদান বা শ্রমিকের চিকিৎসার ব্যয়ে ১০ টাকা দেয়া হয়েছে এমন কোনো রেকর্ড নেই বলে শ্রমিকরা জানান।

তারা আরোও জানান, শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে আদায়কৃত চাঁদা কোথায় কী কাজে কোন্ শ্রমিকের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে এমন হিসাবও আদৌ শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো সভায় নেতারা উল্লেখ করতে পারেননি।

এ চাঁদার একটি অংশ সদস্য সচিব মোঃ রিপন হোসেন ২/৩টি স্পট থেকে কালেকশন করে নিজে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন এমন গুঞ্জনে সংগঠনের সদস্যরা আহ্বায়কের কাছে সংগঠনের সভা ডাকার অনুরোধ জানান। তাছাড়া চাঁদা আদায়ের পূর্বে কথা ছিলো কমিটির সদস্যদের মাঝে ঈদ বোনাস স্বরূপ কিছু টাকা বিতরণ করার। এমন বিষয় নিয়ে সভা করা হলে ওই সভায় সদস্য সচিব মোঃ রিপন হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন বলে শ্রমিকরা জানান। ওই দিন বিকেলে সভায় সদস্য সচিব উপস্থিত না হয়ে সন্ধ্যায় নতুনবাজার-পুরাণবাজার সেতু সংলগ্ন স্থানে আড্ডা দিচ্ছেন এমন খবরের ভিত্তিতে কয়েকজন শ্রমিক ওই স্থানে গিয়ে সদস্য সচিবকে সভায় উপস্থিত না হওয়া এবং আদায়কৃত চাঁদার বিষয়ে জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মহসিনকে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে অন্য সদস্যরাও সদস্য সচিবকে ঘটনাস্থলেই লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় উভয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ অবস্থায় সাধারণ শ্রমিকরা জানান, আমাদের শ্রমে ঘামে অর্জিত অর্থ আমরা কল্যাণ ফান্ডের নামে দিচ্ছি। আর এই টাকা শ্রমিক নামধারী নেতারা আরাম আয়েশ ও নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজে লাগাবেন, এ টাকা আমাদের কোনো কাজে আসবে না, এমন কল্যাণ ফান্ড আমাদের প্রয়োজন নেই। তাই তাদের দাবি, কল্যাণ ফান্ডের নামে আদায়কৃত এ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কাজী ওমর ফারুক ও সদস্য সচিব উভয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা সংগঠনের নিয়ম মেনে শ্রমিকদের কল্যাণেই কাজ করছি। শুধু তাই নয়, যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করেই আমরা কাজ করছি। (দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ)

আপডেট : বাংলাদেশ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  খ্রি.মঙ্গলবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
23 জন পড়েছেন