শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গনের এই অবস্থায় আমরা সত্যিই বিব্রত

0
17

স্কুল কলেজের শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদেরকে ভুল শিখাচ্ছে?

মিজানুর রহমান রানা :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

খুব দ্রুত উত্তর দেয়ার নাম জ্ঞান নয়। বরং জ্ঞান হচ্ছে সেটাই যা আপনি নিজে আমল করেন এবং অন্যকে তা থেকে বিতরণ করেন। তবে আপনার জ্ঞান ও আমল হতে হবে সঠিক। অজ্ঞানকে আপনি সঠিক হিসেবে সারাজীবন অাঁকড়ে পড়ে থাকলে চলবে না। যাচাই করতে হবে তা সঠিক কিনা, এবং এটাই বাস্তব।

গতকাল রাতে একটা বিষয় দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আমার ছেলে স্বপ্নীল একটা নোট দেখাল। তাতে লেখা আছে, “যারা ‘উপভিত্তি’ দেবে তারা যেন তিন কপি ‘ফাঁসপোর্ট’ সাইজের ছবি এবং ২৫০ টাকা স্কুলে জমা দেয়।”

আমি স্বপ্নীলকে প্রশ্ন করলাম, এই নোট কে লিখেছে?

সে বললো, ম্যাডাম বোর্ডে লিখেছে, আমি হুবহু তা খাতায় লিখে তোমাকে দেখলাম।

আমি বললাম, ‘ভিত্তি’ এবং ‘ফাঁসপোর্ট’ এই শব্দ দুটি কি ম্যাডামই এমন লিখেছে?

সে উত্তর দিল, জ্বি। তিনি যা যেভাবে লিখছেন, আমিও তাই খাতায় উঠিয়েছি।

আমি ভাবলাম, সত্যিই তো তাই, স্বপ্নীল তো এমন লিখবে কোথা থেকে। তার তো এই জ্ঞান নেই। আমি স্বপ্নীলের খাতায় ‘ভিত্তি’ শব্দটা গোল দাগ দিয়ে লিখলাম, ‘বৃত্তি’ এবং ফাঁসপোর্ট’ শব্দটায় গোল দাগ দিয়ে লিখলাম ‘পাসপোর্ট’ সাথে ইংরেজিতেও লিখে দিলাম-Passport’. এবার তাকে বললাম, বাবা শব্দগুলো ‘ভিত্তি’ নয়। হবে ‘বৃত্তি’ আর ফাঁসপোর্ট নয়, হবে পাসপোর্ট’।

আজ সকালে বিষয়টা আমার মনে খুব খচখচ করছিল। কারণ আমাদের সমাজে বর্তমান অবস্থায় আমরা মনে করি যে, প্রাইমারি স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না, তাই আমরা ভালোভাবে সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য সন্তানদেরকে অনেক টাকা খরচ করে কিন্ডারগার্টেনে পড়তে দেই। কিন্তু এ কি করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো?

এরা আমাদের সন্তানদেরকে ভুল শিখাচ্ছে? এই সন্তানরা বড় হয়ে কীভাবে সঠিকভাবে জীবন গড়বে?

শুধু আজ বা গতকালের এই ঘটনাই নয়। বরং আমি গত আটদশ বছর যাবত চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য ক’টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রশ্নপত্র দেখেছি। এর মধ্যে রয়েছে ‘চাঁদপুর উদয়ন শিশু বিদ্যালয়’ অন্যতম। এই স্কুলে আমার কন্যা তাসনীম পড়তো। গত ক’বছর আগের তাদের স্কুলের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের ব্যানারে লিখা ছিল ‘উদয়ন বিদ্যায়ল’। বিদ্যালয় লেখাটির ভুল বানান। এতো বড় একটা ব্যানারে এতো বড় বড় করে ‘বিদ্যালয়’ শব্দটি ‘বিদ্যায়ল’ হয়ে গেলো, তাতে কারো চোখই পড়লো না? পড়লো আমার ক্যামেরার চোখ।

ওই স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলো থাকতো ভুলে ভরা। অসংখ্য ভুল।

শুধু তাই নয়, একবার এক প্রোগ্রামে চাঁদপুর সরকারি কলেজে গিয়েছিলাম। সেটি ছিলো সাংবাদিক সম্মেলন। তাতে সাংবাদিকদের অবগত করানোর জন্য একটি পত্র দেয়া হয়। ওই পত্রে ৩১টি ভুল ধরেছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মাকসুদ ভাই। তিনি যখন তার বক্তব্যে বললেন, আপনারা একটা ইউনিভার্সিটি কলেজের শিক্ষক হয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের পাঠকৃত পত্রে এতো ভুল করেন, তাতে আমার সন্দেহ হয় আপনারা আমাদেরকে কি শিখাচ্ছেন? আমরা বিস্মিত।

শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গনের এই অবস্থায় আমরা সত্যিই বিব্রত। শুধু ছাত্র নং অধ্যয়নং তপঃ বললে হবে না। এখন বলতে হবে ‘শিক্ষক নং অধ্যয়নং তপঃ।

আসুন আমরা এই ভুলে ভরা শিক্ষাঙ্গনকে সঠিক পথ দেখাই। শিক্ষকরা আগে সঠিক জ্ঞা্ন অর্জন করি, তারপর ছাত্রছাত্রীদের শিখানোর দায়িত্ব নেই।

মিজানুর রহমান রানা, সাংবাদিক।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  খ্রি.বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
247 জন পড়েছেন