চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ!

0
42

 সংবাদটি মানব জমিন থেকে সংগৃহীত। এই সংবাদের সাথে চাঁদপুর রিপোর্ট ডট কম এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই- সম্পাদক।

চাঁদপুরের ৫টি আসনের প্রতিটিতেই এখন আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিটি আসনে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

১৯৯১ সালের নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়, আওয়ামী লীগ জয়ী হয় একটিতে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৬টি আসনের মধ্যে ২টিতে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, বাকি ৪টিতে বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে সব ক’টি আসনে জয়ী হয় বিএনপি প্রার্থীরা। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসন সংখ্যা কমে ৫টি হয়। আওয়ামী লীগের গণজোয়ারের সেই নির্বাচনে ৪টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়। ১টিতে জয়ী হয় বিএনপি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

বিএনপি-জামায়াত জোট অবশ্য এই নির্বাচন বর্জন করেছিল। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা সব ক’টি আসনে এমপি নির্বাচিত হন। অবশ্য সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ।

উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৫ই জুন ও ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বাদে প্রতিযোগিতামূলক ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরে বিএনপির এমপি হয়েছেন ১৬ জন আর আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছেন ৮ জন। আর ১৯৯১-২০১৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের হিসাব ধরলে বিএনপি এমপি পেয়েছে ২২ জন, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৪ জন। অর্থাৎ বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এমপি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের ব্যবধান অনেক বেশি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান দ্বিগুণ।

অবশ্য টানা প্রায় দশ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাধে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ও ভোট বৃদ্ধির আশা করছেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে টানা প্রায় একযুগ ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রকাশ্য সাংগঠনিক শক্তিতে ভাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় চাঁদপুরসহ সারা দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে আওয়ামী লীগ বর্তমানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার কারণে বিএনপির অনেক সাধারণ সমর্থক আওয়ামী লীগকে এখন সমর্থন করছে। অনেক নেতা-কর্মীও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। চাঁদপুর এখন আওয়ামী লীগের দুর্গ। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে চাঁদপুরের সব ক’টি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন, চাঁদপুর এমনিতেই বিএনপি ও সমমনাদের দুর্গ বা ঘাঁটি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। বিগত সব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ফলাফল ও এমপি সংখ্যা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট। তাছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় সরকারি দল ও প্রশাসনের মামলা-হামলা, হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতা-কর্মীরা এখন ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষও সরকার দলের প্রতি চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। তাছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখলেও বিএনপির দুর্গে সামান্যতম আঘাত হানতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যত শক্তিশালী প্রার্থী’ই হোক না কেন চাঁদপুরের ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটবে।

তবে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনুসারী নেতা-কর্মীরা এখন নিজ দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধাচারণে মহাব্যস্ত। আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি, অভ্যন্তরীণ সভা, ঘরোয়া বৈঠক, ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা, ফেসবুক সর্বত্র নেতা-কর্মীরা নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমালোচনা ও তক-বিতর্ক নিয়ে ব্যস্ত। কীভাবে দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদের ছোট করা যায়, ব্যঙ্গ করা যায়, তুচ্ছ ও অপাঙ্‌ক্তেয় প্রমাণ করা যায়। নেতাকর্মীরা যে যাকে সমর্থন করেন তার বাইরে দলের অন্য কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী মানেই যেন তিনি অযোগ্য। তাকে বা তাদেরকে হেয় ও খাটো করার চেষ্টাতেই নিরন্তর প্রচেষ্টা। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগই হয়ে ওঠেছে।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  খ্রি. রোববার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
372 জন পড়েছেন