চাঁদপুরে দু’ভাইয়ের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারী

0
73

সাহেদ হোসেন দিপু, হাইমচর প্রতিনিধি :
‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য’ এ সহানুভূতি নিয়ে হাইমচরের দু’ভাইয়ের লালসার শিকার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালেন হাইমচর থানা পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন।

জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর আলগী উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের বসু বেপারীর স্ত্রী আয়েশা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার জন্য আসেন হাইমচর থানা পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনের কাছে।

http://picasion.com/

আয়েশা বেগমের কাছ থেকে জানতে পারা যায় এক করুণ কাহিনী। যা সিনেমাকেও হার মানায়। তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই তার মেয়ে পাশের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো। সেই বাড়ির ছোট ছেলে রাসেল বিয়ের প্রলোভনে আমার মেয়ের সাথে সহবাস করেন। পাশাপাশি রাসেলের বড় ভাই জুয়েল বেপারী ৩ মার্চ, ২০১৮ তারিখে বিদেশ থেকে আসার পর সেও বিভিন্নভাবে জোরপূর্বক তার সাথে মেলামেশা করে। ফলে মেয়েটি দু’ভাইয়ের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আমাদের অজান্তে এরই মধ্যে গত আগস্ট মাসে আমার মেয়েকে অন্যত্র বিবাহ দিয়ে দেই। বিবাহের পর তার আচরণে তার গর্ভের সন্তান আসার বিষয়টি সামনে চলে আসে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় সমাজের এক শ্রেণীর লোক। কেউ বলে, পেটে টিউমার হয়েছে অপারেশন করতে হবে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাচ্চা নষ্ট করার জন্য আমাকে পরামর্শ দেয়। অপর দিকে মেয়ের স্বামী তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। এমন অবস্থায় কোথায় যাব, কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারি নি। অনেক ভাবনা চিন্তার পরে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য ছুটে আসি হাইমচর থানায়।

সব ঘটনা শুনে হাইমচর থানা ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন হতবাক হয়ে যান। তিনি ভিক্টিমের জবানবন্দী ২২ ধারা মতে রেকডর্’ করেন। নুরু মিয়া বেপারীর ছেলে মো. রাসেল বেপারী ও তার বড় ভাই জুয়েল বেপারীকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০ সংশোধিত/০৩) ৯ (৩) মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫, তাং ১১/১০/২০১৮ইং।

ওসি তদন্ত মো. আলমগীর হোসেন চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, মেয়ের মুখে তার করুণ কাহিনী শুনে আমি হতবাক। আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। ১নং আসামীকে আটক করেছি। কিন্তু মূল কাজটি এখাানেই শেষ হয়নি। ভিক্টিমের গর্ভে থাকা সন্তানের পিতৃত্ব নিরুপণ করা, ভিক্টিম এবং আগত নিষ্পাপ অতিথির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জন্য চাঁদপুর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার পাঠাই। তারা এই কাজগুলো ঢাকায় করানোর জন্য রেফার করেন। ওরা ঢাকা যেতে পারবেনা। তখন তার মা আমাকে বলেন, বাবা আমি কিছু বুঝিনা আমাকে বাঁচান। এলাকার লোকজন বলে টাকা দিয়ে ওরা যদি সব কিছু বিপরীত করে তাহলে আমরা কোথায় যাব। মেয়ের মা মেয়ের কারণে অনাহারে অনেকদিন। প্রায় সময় অজ্ঞান হয়ে যায়। এই বিষয়ে পিবিআই অফিসার এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার মন আরো খারাপ হয়ে যায়। আইন কানুনের উপকার হয়তো সে পাবে কিন্তু সমাজের মানুষের জিজ্ঞাসা তার আর সহ্য হয় না। চিকিৎসা সেবার জন্য ঢাকা যেতে হবে, সেটা তার জন্য অনেক কষ্টদায়ক। অভাবের সংসার এক ছেলে প্রতিবন্দি। মেয়ের মা’ মানুষের বাড়িতে বুয়ার কাজ করে পরিবারের অন্ন যোগায়। সব অভাব সৃষ্টিকর্তা বোধহয় তাদের পরিবারে দিয়েছেন একেতো অভাব তার উপর মেয়ের উপর পড়েছে শকুনের কু-দৃষ্টি, পরিবার এবং সমাজের চোখে ঘৃণার পাত্রী। মরার উপর খড়ার ঘা বোধহয় একেই বলে। অবশেষে রাজী হল ঢাকা যেতে তবে লঞ্চ ভাড়াও সাথে নেই। এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল, চাঁদপুর মহোদয়ের মাধ্যমে পুলিশ সুপার, চাঁদপুর মহোদয়ের আদেশ গ্রহণ করলাম। দুইজন মহিলা পুলিশ সদস্য স্কট দিয়ে ভিক্টিমকে কিছু পকেটমানি দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরণ করলাম। বিভিন্ন নারীবাদী মানবাধিকার সংস্থা মেয়েটির কল্যাণে এগিয়ে আসবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ০৬:৫০ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৮ খ্রি.বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
580 জন পড়েছেন
http://picasion.com/