সাদা মনের মানুষ হাজীগঞ্জের অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী

মো. সাইফুল ইসলাম :
সাদা মনের মানুষ হিসেবে যার নাম যশ খ্যাতি আজ চাঁদপুর জেলাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তিনি হলেন হাজীগঞ্জের কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী। যার অবদান অপরিসীম। যা কখনই হাজীগঞ্জবাসীসহ জেলাবাসি ভুলার মত নয়। ইতিমধ্যে তিনি হাজীগঞ্জের রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে হাজীগঞ্জকে আরো মডেল করে নিতে যার অবদান প্রতিনিয়তই হাজীগঞ্জবাসী উপভোগ করে যাচ্ছেন। তিনি ধাপে ধাপে হাজীগঞ্জকে মডেল হাজীগঞ্জে রূপ রেখা দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সে কারণে আজ হাজীগঞ্জকে মডেল হাজীগঞ্জে উপাধি দিয়ে মানুষ জেলার বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে হাজীগঞ্জকে বিবেচিত করে আসছে। একমাত্র বহুতল ভবন হাজীগঞ্জ প্লাজা করে পুরো জেলাবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন। শুধু প্লাজা করেই তিনি বসে থাকেনি, প্লাজার মধ্যে তাক লাগানো মনোরম পরিবেশ তৈরি করে ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন।

ক্রেতাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ক্রয় করার সুবিধার্থে চলন্ত সিড়ি, ক্যাপসললিপ্টসহ অত্যাধুনিক সুব্যবস্থা করে দেন। তৃতীয় তলায় বন্ধু কম্পিউটার সেন্টার, রূপের হাট, আড়ংসহ অন্যান্য শপিংমল। চতুর্থতলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত আবাসিক ব্যবস্থা করে দেন। তার পরপরই হাজীগঞ্জ কওমী মাদরাসা মার্কেট হওয়ার পর নিজ তলায় শ্রমজীবি লোকদের শ্রমের ব্যবস্থা (কর্মসংস্থা) করে দেন। দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, তৃতীয় তলা থেকে শুরু করে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ কওমী মাদরাসা করে দ্বীনি এলেম শিখার জন্য সুব্যবস্থা করে দেন। যে প্রতিষ্ঠানে আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ছাত্ররা কোরআনের হাফেজসহ দাওরা হাদিস শিখে দেশের কল্যাণে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছেন।

হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট করে নিজ তলায় ব্যাপক সংখ্যক দোকান করে জেলা ও উপজেলার ব্যাপক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করে দেন। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতাল এবং পাশেই রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ। তৃতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ব্যাংক, বীমা ও আবাসিক পরিবেশ। রজনীগন্ধা মার্কেটও একই ভাবে অসংখ্য দোকান করে বহু বেকার লোকের অভিশপ্ত জীবন থেকে ফিরিয়ে এনে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। ইতিমধ্যে হুহু করে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নব নির্মিত হতে যাচ্ছে হাজীগঞ্জ মকিমউদ্দিন সপিং সেন্টার (বিজনেস পার্ক) যে ভবনে রয়েছে সকল অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত এসক্লোসিভ মার্কেট, হাসপাতাল, সুইমিংপোল, সেন্টাল এসি, চায়না বাজার, আন্ডারগাউন্ডে গাড়ি পার্কিং যা হাজীগঞ্জ সহ তথা চাঁদপুরেও বিরল গাড়ি পার্কিং। দুরদুরান্ত থেকে আসা গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়া ক্রেতাদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরি। সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ইতিমধ্যে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে যে, আর আমাদের ঢাকা, চট্টগ্রামে মার্কেটিংয়ের জন্য যেতে হবে না। সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে তৈরি হচ্ছে মনোরম পরিবেশে হাজীগঞ্জ বিজনেস পার্ক মকিম উদ্দিন সপিং সেন্টার।

অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী শুধু মার্কেট আর হাজীগঞ্জ বাজারকে মনোরম মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে ক্ষান্ত নয়। দেশবাসী ও চাঁদপুর জেলাবাসীর গর্ব ও গৌরব হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, মাঠ, মসজিদের ভিতর দ্বিতীয় তলা, তৃতীয় তলা, মসজিদের সামনের ওজুখানা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন। স্বেতপাথরের জায়নামাজ আকারের পাথর বসিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেন। মসজিদের ভেতরে একই কালারের সিলিং ফ্যান, স্ট্যান্ড ফ্যান, তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এয়ারকুলার (এসি), মুসল্লীদের শব্দ দুষণের পরিবেশ মুক্ত রাখতে পুরো মসজিদটি থাই গ্লাসে বেস্টনি বদ্ধ। ডিজিটাল স্পিকার দ্বারা সাউন্ডের ব্যবস্থা। নব নির্মিত ওজু খানা বিশাল আকারে অসংখ্য লোকের ওজু স্থান তৈরি করে পানিরও সুব্যবস্থা করে দেন। পূর্বে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে পথচারী দুরপাল্লার যানবাহনে করে যাওয়ার সময় মসজিদের সামনে এসে মানুষকে জিজ্ঞাস করতো যে মসজিদ কোনটি? তার একমাত্র কারণ হলো মসজিদের সামনে ঘড়ির মার্কেট থাকার কারণে মসজিদটি পরিপূর্ণ ভাবে দেখা যেতো না।

অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী সেই ঘড়ি মার্কেট ভেঙ্গে বিশাল মসজিদ মাঠ তৈরি করে আজ মুসল্লীদের নামাজের স্থান ও পথচারীদের মসজিদটি এক নজর দেখার মতো পরিবেশ করে তোলেন। তিনি কোটি কোটি টাকার চিন্তা করলে এই স্থানে বহুতল ভবনও করতে পারতেন। তিনি সে দিকে না গিয়ে মুসল্লী ও শহরের মানুষের কথা চিন্তা করে মসজিদের মাঠের চারপাশে মনোরম পরিবেশ ফুল ও পাতাবাহার গাছের টপের ব্যবস্থা করেছেন। বিকেল বেলা অনেকে দেখা যায় নামাজ পড়ে মুক্ত বাতাসে একটু স্বস্থি ফেলছেন। মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে গোরস্থানের ব্যবস্থা।

উত্তর পাশে গণ শোচাগার, মসজিদের পূর্ব উত্তর কর্ণারের দ্বিতীয় তলায় মনোরম পরিবেশে মা বোনদের নামাজের স্থান। মসজিদের আঙ্গিনা ও মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে মার্কেটে মার্কেটে ছোট আকারের মাইকের ব্যবস্থা। যেনো কলাহলের মধ্যে দিয়েও আজানের ধ্বনি সকলের কানে সঠিক ভাবে পৌছে এবং জুমাতুল বিদার বিশাল জামাতে মসজিদ, আশপাশ, মার্কেটসহ মহাসড়কে মুসল্লীরা নামাজ পড়তে পারে সে ব্যবস্থা। এছাড়াও অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী হাজীগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ, বর্তমানে ওই কলেজটি হাজীগঞ্জ মডেল সরকারী কলেজ হিসেবে রূপান্তরিত করতে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম মেধা ও চেষ্টা তদবীর অব্যাহত ছিল। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। এছাড়াও অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানসহ বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে তিনার হাতে গড়া। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক। তার পিতা আলহাজ¦ মরহুম মুনিরুদ্দিন পাটওয়ারী। দাদার নাম আলহাজ¦ আহমদ আলী পাটওয়ারী (র.), জন্মস্থান হাজীগঞ্জ থানা রোডস্থ বড় মসজিদের কয়েকগজ উত্তরে ঐতিহ্যবাহী পাটওয়ারী বাড়ি।

-লেখক পরিচিতি-
মো. সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ০৮:২২ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৮  খ্রি.বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

1,094 জন পড়েছেন

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়