ডেড সী বা মৃত সাগরের রহস্য উন্মোচন (ভিডিও)

0
66

পৃথিবীর বুকে এখনও এমন কিছু রহস্য আছে, যেগুলো হাজার বছর ধরে অমীমাংসিত। এ রকমই একটি অপার রহস্যের নাম ডেড সি বা মৃত সাগর । এই জর্ডানে অবস্থিত ডেড সী বা মৃত সাগর পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে লবনাক্ত জলাশয় গুলোর মধ্যে একটি।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি লেক বা হ্রদ, যার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,২৪০ ফুট। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ কিলোমিটার। এই হ্রদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- এখানে মানুষ অনায়াসে ভাসতে পারে। অর্থাৎ, আপনি এই সাগরে কিছুতেই ডুববেন না! কিন্তু কি করে তা সম্ভব? এবার চলুন মৃত সাগর বা ডেড সি এর এই রহস্য সম্পর্কে জেনে নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

কীভাবে সৃষ্টি হল মৃত সাগর বা ডেড সি?
জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য পরিক্ষা করে জানা যায় যে- প্রায় তিন মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান জর্ডান নদী, ডেড সি এবং ওয়াদি আরাবাহ অঞ্চলটি প্বার্শবর্তী লোহিত সাগরের পানিতে বারবার পল্গাবিত হতো। এই প্লাবনের ফলে একটি সরু উপসাগরের সৃষ্টি হয় এখানে। উপসাগরটি জেজরিল উপত্যকায় একটি সরু সংযোগের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিজ্ঞনীদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২ মিলিয়ন বছর আগে এই উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী স্থলভাগ অনেক উঁচু হয়ে যায়। ফলে মহাসাগরের প্লাবনে এই অঞ্চলে সৃষ্ট উপসাগরটি চারিদিকে ভুমি পরিবেষ্টিত হয়ে হ্রদে পরিণত হয়। ২৬,০০০ বছর আগে এটির পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। কিন্তু প্রায় ১০,০০০ বছর আগে এর পৃষ্ঠ উচ্চতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে, যা সম্ভবত বর্তমান পৃষ্ঠ উচ্চতার চেয়েও কম ছিল। গত কয়েক হাজার বছর ধরে এর পানির পৃষ্ঠ উচ্চতা মোটামুটি ৪০০ মিটারের আশপাশে অবস্থান করছে। তখন থেকেই অতিরিক্ত লবন জমে এই লেকের পানি ভারি হয়ে যায়। ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়ার ফলে এখানে যেকোনো বস্তু ভেসে থাকতে পারে।

ডেড সি বা মৃত সাগর

ডেড সি বা মৃত সাগর: বিস্ময়কর যে সাগরে কেউ ডুবে না : ইসলাম ধর্মে এই অঞ্চলে হযরত লুত(আঃ) এর অনুসারীদের আবাসস্থল ছিলো। লুত(আঃ) এর উম্মতগন এই এলাকার বসবাস করতো। তখন এই স্থানটি ছিলো স্বাভাবিক এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থান। কিন্তু তারা সব সময় বিভিন্ন জঘন্য কাজ এবং সমকামিতায় মতন নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত ছিলো। সমকামিতার মতন কঠিন পাপের কারনে আল্লাহ্ এই জাতিকে ধ্বংস করে দেয়।

Posted by এ কেমন বিচার? on Saturday, October 13, 2018

কেন এই সাগরে মানুষ ডোবেনা?
গবেষকরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যেকোনো মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। ডেড সি বা মৃত সাগরের পানিতে লবণাক্ততা শতকরা ৩০%, যা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪। আর পানির এ ঘনত্বের কারণে এখানে কোনো বস্তু পানিতে ডোবে না। তাই মানুষ এ মৃত সাগরে বসে বা শুয়ে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে থাকতে পারে। রাসায়নিক উপদানসমূহ অত্যধিক পরিমাণে বেশি হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের প্রাণী বসবাস করতে পারে না, শুধু কয়েক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ছাড়া। যার কারণে এ সাগরে মাছ কিংবা অন্য কোনো প্রাণী নেই। মাছ না থাকার কারণে এ হ্রদের ওপর দিয়ে কখনও পাখি উড়তে দেখা যায় না। মৃত সাগরে মাছ থাকতে না পারলেও মানুষের জন্য একেবারে স্বর্গ।

সব রোগশোকে ভুগতে থাকা রোগীদের বায়ু পরিবর্তনের এক আদর্শ জায়গা এই মৃত সাগর। বিশেষ করে নানা জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীদের থাকার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয়ই না। অনেকে বিশ্বাস করেন, ডেড সির কাদা অনেক ধরনের রোগ নিরাময়ে সহায়ক। আর এ কারণে এ অঞ্চলটি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণাস্থল হয়ে উঠেছে। এর মূলে রয়েছে হ্রদের পানিতে খনিজ দ্রব্যাদির বিপুল উপস্থিতি, বাতাসে এলার্জি উৎপাদক দ্রব্য এবং পরাগরেণুর স্বল্পতা, উচ্চ ভূ-মণ্ডলীয় চাপ, সৌর বিকিরণে অতিবেগুনি উপাদানের কম উপস্থিতি।

ধর্মগ্রন্থে ডেড সি বা মৃত সাগর
ডেড’সি সম্পর্কে সব থেকে বেশী বলা আছে ইসলাম ধর্মে। ইসলাম ধর্মে এই অঞ্চলে হযরত লুত(আঃ) এর অনুসারীদের আবাসস্থল ছিলো। লুত(আঃ) এর উম্মতগন এই এলাকার বসবাস করতো। তখন এই স্থানটি ছিলো স্বাভাবিক এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থান। কিন্তু তারা সব সময় বিভিন্ন জঘন্য কাজ এবং সমকামিতায় মতন নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত ছিলো। সমকামিতার মতন কঠিন পাপের কারনে আল্লাহ্ এই জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। লুত(আঃ) তার অনুসারীদের বার বার বুঝাতে লাগলেন যে, তোমরা যা করছো তা ঠিক না। তিনি সবাইকে বলতে লাগলেন এইসব বাদ দিতে। কিন্তু কেও তার কথা শুনে নি। বরং তাকে নিয়ে সবাই ঠাট্টা উপহাস করতো। ফলে অবশেষে আল্লাহ্ র আদেশের ফেরেসতারা এসে এই জাতীকে ধ্বংস করে দিয়ে যায় এবং এই স্থানের ভূমিকে উল্টে দেন। ফলে সম্পূর্ন জাতি মাটি চাপা পরে ধ্বংস হয়ে যায়। এমনি লুত(আঃ) এর স্ত্রীও সাজা পেয়েছিলো। সেই থেকে এই মৃত সাগর তৈরি হয়।

পবিত্র বাইবেলে এই মৃত সাগরের লবনাক্ততা বিলুপ্ত হওয়ার ভবিষ্যৎ বানী করা আছে। যে এক সময় এর পানী আর এমন লবণাক্ত থাকবে না। অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে যাবে। এমনি এখানে বসবাসের উপযুক্ত হবে অনেক জলজ উদ্ভিদ বা প্রানীর। বিজ্ঞানীরাও এই কথাই বলছে, যে হয়তো এক সময় এর লবনের পরিমান কমে আসবে অনেকটাই।

ডেড সি তে কি প্রাণ আছে?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এই “মৃত সাগর” নামক হৃদ এ কোন প্রানীর বসবাস নেই। কোথাও কোন প্রানের আস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি । তবে, এই সাগরের যেই স্থান গুলোতে লবনের পরিমান অনেকটা কম সেখানে কিছুটা শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়া জাতীয় কিছু খুঁজে পেয়েছিলো বিজ্ঞানীরা। তাই, ধারনা করা হয় অতিরিক্ত লবনই এখানে প্রাণ না থাকার কারন।

হৃদটি ইসরায়েল ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। দিন দিন জায়গাটি পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক দর্শনার্থী গরমের সময় এখানে পাড়ি জমায়। এখানকার আবহাওয়া যথেষ্ট উপযোগী স্বাস্থের জন্য। তাই, যদি কখনো সময় আর সুযোগ হয় তাহলে ঘুরেই আসুন না, এই ডেড সি বা মৃত-সাগর থেকে।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ১২:৩৭ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮  খ্রি.শনিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
694 জন পড়েছেন