আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে…

0
101

মিজানুর রহমান রানা : 

আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি, তাই তোমার কাছে ছুটে আসি….। আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে…।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

অনেকেই হয়ত বিশ্বাস করতে পারে পারেনি, কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য। এই সত্য যেন সবাইকেই নির্বাক করে দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

অভিলাষী আমি অভিমানী তুমি

হাজারো স্বপ্ন নিয়ে সবকিছু ভুলে গিয়ে

পৃথিবীতে বসে আছি সংসার সাজিয়ে

জানে অন্তরযামী কে বা আগে পরে

সবাইকে একা করে চলে যাব অন্ধ ঘরে

এই শহর গাড়ী বাড়ি কিছুই যাবে না
আর কত এভাবে আমাকে কাঁদাবে

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে

এই বুকে যন্ত্রণা বেশী সইতে পারি না

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে
অহংকারী মানুষ উড়ায় রঙ্গিন ফানুস

টাকা ছাড়া তার দৃষ্টিতে নেই কিছু আর পৃথিবীতে

জায়গা জমি কিনতে শুধু থাকে সে বেহুশ

জমিদার বেটা জানে সব বেটা তারে মানে

পৃথিবীটা তার দখলে সবকিছু তার বগলে

এক নিঃশ্বাসের বিশ্বাস নাই জমিদার কী জানে
আর কত এভাবে আমাকে কাঁদাবে

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে

এই বুকে যন্ত্রণা বেশী সইতে পারি না

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে
যখন যাবে চলে কাকে যাবে বলে

কেউ যাবে না সঙ্গী হয়ে

পার পাবেনা পালিয়ে গিয়ে

সব কিছু শুধু ঘটে যাবে চোখের পলকে

হেরে যাবো আমি হেরে যাবে তুমি

তাই বলি কেউ না জেনে

ব্যাথা দিওনা কারো মনে

কারো মনে দুঃখ দিয়ে সুখ তো পাবে না
আর কত এভাবে আমাকে কাঁদাবে

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে

এই বুকে যন্ত্রণা বেশী সইতে পারি না

আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে।।

সত্যিই তিনি আকাশেই উড়াল দিলেন।

তবুও গানের আকারে একথাটি আর কেউ বলবে না, প্রিয় সঙ্গীত শিল্পী তোমার চলে যাওয়ায় বেশ কষ্ট পেয়েছি আমি। আল্লাহ তোমাকে তোমার অপরাধগুলো মার্জনা করুন।

আইয়ুব বাচ্চুর পরিচিত এ বি নামে। তাঁর জন্ম ১৬ আগস্ট ১৯৬২। চট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)। মৃত্যু ১৮ অক্টোবর,২০১৮। স্কয়ার হাসপাতাল। ঢাকা।

ধরন হার্ডরক, ব্লুজ, সাইকেডেলিক রক, সফট রক, অল্টারনেটিভ রক। পেশা গিটার বাদক, সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকার
বাদ্যযন্ত্রসমূহ গীটার, ভোকাল, বেজ গিটার, কি- বোর্ড। কার্যকাল ১৯৭৭– ২০১৮। লেবেল এ বি কিচেন। ওয়েবসাইট www.ablrb.net।
আইয়ুব বাচ্চু একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী। তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এল আর বি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সঙ্গীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংসের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী তাঁর শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি (AB) নামেও পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কন্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর,২০১৮ খ্রিস্টাব্দ) সকাল ১০টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সঙ্গীত জীবন
বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে ১৯৭৮ সালে। তাঁর কন্ঠ দেয়া প্রথম গান “হারানো বিকেলের গল্প”। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি। আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) এর মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের “শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি”, “ঘুম ভাঙ্গা শহরে”, “হকার” গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখ ও তবুও বের হয়। সুখ অ্যালবামের “সুখ, “চলো বদলে যাই”, “রূপালি গিটার”, “গতকাল রাতে” উল্লেখযোগ্য গান। “চলো বদলে যাই” বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত কড়া হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে “কষ্ট কাকে বলে”, “কষ্ট পেতে ভালোবাসি”, “অবাক হৃদয়”, ও “আমিও মানুষ”। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। “অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে” বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশিত। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।[৫] এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অণুপ্রাণিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয় করেন।

ব্যক্তিগত জীবন
২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর বাচ্চু ফুসফুসে পানি জমার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন।

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট’-এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন নিয়ে মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদের সাথে বাচ্চুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্দ্বের সূত্রে বাচ্চু ও তার ব্যান্ড এল আর বি বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সদস্যপদ প্রত্যাহার করে।

অ্যালবাম
তিনি একক ও ব্যান্ড দুই ধরনের অ্যালবামই বের করেছেন। সেগুলো হলঃ

একক অ্যালবাম
রক্তগোলাপ (১৯৮৬)
ময়না (১৯৮৮)
কষ্ট (১৯৯৫)
সময় (১৯৯৮)
একা (১৯৯৯)
প্রেম তুমি কি (২০০২)
দুটি মন (২০০২)
কাফেলা (২০০২)
রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮)
বলিনি কখনো (২০০৯)
জীবনের গল্প (২০১৫)
ব্যান্ড অ্যালবাম
এলআরব (১৯৯২)
সুখ (১৯৯৩)
তবুও (১৯৯৪)
ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫)
ফেরারী মন (১৯৯৬)
স্বপ্ন (১৯৯৬)
যুদ্ধ (২০১১)
নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী
লাল বাদশা (১৯৯৯)
গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০)
ব্যাচেলর (২০০৪)
চোরাবালি (২০১২)

তথ্য : উইকিপিডিয়া।

আইয়ুব বাচ্চুর জীবনের সেরাগানগুলো …

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ০৮:০১ এএম, ১8 অক্টোবর ২০১৮  খ্রি.বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
1,334 জন পড়েছেন