মধ্যরাতে তরুণীকে হেনস্তা, পুলিশের ‘টিম লিডার’ বরখাস্ত

0
46

রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় মধ্যরাতে তল্লাশির নামে এক তরুণীকে হেনস্তা করায় রামপুরা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি সেদিন রাতে চেক পোস্টের টিম লিডার ছিলেন।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এর আগে সোমবার রাতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক তরুণীকে হেনস্তা করেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তরুণীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই পুলিশের প্রশ্ন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা।

এ বিষয়ে দিনভর কোনো কথা না বললেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে ডিএমপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানানো হয়, ‘পুলিশ চেকপোস্টে সিএনজি আরোহী এক নারীর সাথে পুলিশের বাদানুবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করে এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের অনুমতিক্রমে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘ভিডিও ধারণকারী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করা গেছে। সম্মানিত কমিশনার মহোদয়ের অনুমতিক্রমে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আশা করি এবং অবশ্যই আপনারাও আশা করবেন যে, মামলার মাধ্যমেই সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আপনারা জানবেন যে, প্রত্যেকটা প্রোসেডিংয়ের নিয়মকানুন আছে, সেসব আমলে নিয়েই এগুতে হচ্ছে বলে সময় একটু লাগছে কিন্তু শাস্তি নিশ্চিত।’

ভিডিওটিতে তরুণী ও পুলিশ সদস্যদের কথোপকথনের কিছু অংশ এখানে তুলে দেওয়া হলো…

তরুণী : আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন?

পুলিশ : কীভাবে বলা হয়েছে?

তরুণী : এত ভাব মারেন কেন? মাইয়াগো দেখলে ব্যাগ চেক করেন।

পুলিশ : এই, আপনি কিন্তু এত বিশ্বসুন্দরী না।

তরুণী : সমস্যা কী আপনার?

পুলিশ : না, আপনে তো মনে করছেন, আপনে কী যেন হয়ে গেছেন। আপনাকে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। আপনার সমস্যা কি?

তরুণী : সমস্যা লাইট সরান। আপনাদের সমস্যা কী?

পুলিশ : এটা আমাদের চেক পোস্ট, আমরা চেক করব।

তরুণী : তো চেক করেন না কেন, এত কথা বলেন কেন?

পুলিশ : আপনে এত কথা বলেন কেন? বেয়াদব মেয়ে। বাসা থেকে ভালো করে এয়া শেখায়নি? আপনাকে ভালো করে বাসা থেকে শিক্ষা দেয়নি?

তরুণী : আপনে বেয়াদব? আপনে আমাকে খারাপ মেয়ে কেন বললেন? এইটা পুলিশের বিহ্যাব (আচরণ) হইলো? ফিল্ডিং মারবেন কেন?

পুলিশ : আপনার সাথে কি ফিল্ডিং মারছি? এই আপনার সাথে কে ফিল্ডিং মারছে?

তরুণী : লাইট সরান, চোখে ধরছেন কেন? ব্যাগে মারেন লাইট, চেক করেন।

পুলিশ : এখন রাত কয়টা বাজে? আড়াইটা বাজে। একটা ভদ্র ফ্যামেলির মেয়েরা…

তরুণী : আমি সারারাত চলবো, আপনার সমস্যা?

পুলিশ : তো আপনে এভাবে অভদ্রর মতো কথা বলছেন কেন? বাসা থেকে আপনাকে ভদ্রতা শিখায়নি?

তরুণী : অভদ্রতো আপনে…

পুলিশ : বাসা কোথায়? কার মেয়ে আপনে? আপনে কার মেয়ে সেটা বলেন।

তরুণী : আমার ঠেকা পরে নাই।

পুলিশ : না, আপনে কোন মিনিস্টারের মেয়ে সেটা বলেন না। আপনে ব্যাগ খোলেন।

তরুণী : না, আপনারা খোলেন।

পুলিশ : না, না আমরা খুলব না তো। আপনার ব্যাগ আপনে দেখাবেন।

তরুণী : এতক্ষণ আমার টাইম নষ্ট করলেন…

পুলিশ : কেন, কেউ কি ওয়েট করতেছে?

তরুণী : কী হইছে? তোর বাপে ওয়েট করতেছে।

পুলিশ : বাসা হচ্ছে ডেমরা, আপনে ওই দিকে কোথায় যান?

তরুণী : হায় প্রশাসন, ভদ্রতা!

পুলিশ : সেটা আপনে কালকে দেখতে পারবেন। পুলিশ ভদ্র না অভদ্র, সেটা কালকে দেখতে পারবেন।

তরুণী : কী, বাল দেখব আমি।

পুলিশ : বাসা থেকে এইটা সেখাইয়া দিছে?

তরুণী :হ্যাঁ (রেগে )

পুলিশ : মানুষের সঙ্গে বাল-ছাল বলা শিখাই দিছে?

মেয়ে : অসভ্য, লাইটা নামান।

পুলিশ : ও তো পুরাভাবে অ্যাডিক্টেট, ওতো অ্যাডিক্টেট।

'পুলিশ ভদ্র না অভদ্র, সেটা কালকে দেখতে পারবেন'

'পুলিশ ভদ্র না অভদ্র, সেটা কালকে দেখতে পারবেন'

Posted by এ কেমন বিচার? on Wednesday, October 24, 2018

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ০২:৪৪ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রি.বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
429 জন পড়েছেন