Mos

চাঁদপুরের সেই মসজিদটিকে ‘স্বপ্নে পাওয়া’র কথা বলে এলাকায় রহস্য ছড়াচ্ছেন আরজু

মিজানুর রহমান রানা : 

চাঁদপুরে কয়েক মাস আগে আবিষ্কৃত হয় কয়েকশ’ বছর আগের সুলতানি আমলের একটি মসজিদ। সেই মসজিদটিকে ‘স্বপ্নে পাওয়া’র কথা বলে এলাকায় রহস্য ছড়াচ্ছেন আমজাদ হোসেন (আরজু) তালুকদার (৬৮)।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ি এলাকায় অবস্থিত জঙ্গলের ভেতর সুলতানি আমলের মসজিদ আবিষ্কার হওয়ার পর ইতিহাসের সাক্ষী এই মসজিদটিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে কর্মকর্তারা দেখে যান। ইতিহাসের সাক্ষী সুলতানি আমলের মসজিদটি রক্ষার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সুলতানি আমলের মসজিদ আবিষ্কারের খবর পেয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসছেন। সরকারিভাবে মসজিদের চতুর্দিকে বাঁশ দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বেষ্টনীর মধ্যে একটি দরজার মতো করা হয়েছে। বৃষ্টির পানির ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য ওপরে একটি তেরপল রয়েছে। এখানে সংরক্ষিত এলাকা লেখা সংবলিত একটি ব্যানার থাকবে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বসানো হয় সোলার স্ট্রিট লাইট।

গত ৩১ আগস্ট প্রাচীন মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শওকত ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট মোহাম্মদ সাইফুর রহমানসহ জেলার প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ স্থাপনা সংরক্ষণে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তারা। ইতোমধ্যে মসজিদটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে।

অথচ আজ ২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার ওই মসজিদটি দেখতে গেলে স্থানীয় ছোটসুন্দর তালুকদার বাড়ির  আবেদ হোসেন তালুকদারের ছেলে আমজাদ হোসেন (আরজু) তালুকদার বলেন ভিন্ন কথা।

তিনি চাঁদপুর রিপোর্ট প্রতিনিধিকে জানান, তিনি এই মসজিদটিকে নাকি স্বপ্নে দেখেন। তিন তিনবার তাকে নাকি এ বিষয়ে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। এরপর তিনি এর ওপর গাছ কেটে এটিকে এ অবস্থায় রূপান্তরিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, মসজিদটি কেউ যদি তৈরি করে থাকতো তাহলে তার সামনে দিয়ে রাস্তা থাকতো। তিনি বলেন,  এটি হয়তো অলৌকিকভাবে হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত এ মসজিদের ব্যাপারে তারা ছোটকাল থেকেই জানতেন। তবে ওই মসজিদটির ওপরে বড় ধরনের একটি ‘জির’ গাছ বা বটগাছ থাকায় এটা এতোদিন দৃশ্যমান ছিলো না। বর্তমানে এটার ওপর থেকে গাছপালা কেটে তাকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এটি কোনো ধরনের অলৌকিক বলে তারা মানতে নারাজ।

মসজিদটি রক্ষায় প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন ডা. দীপু মনি। সুলতানি আমলের এ স্থাপনা রবিবার ঘুরে দেখেছেন তিনি। তার কথায়, ‘চার-পাঁচ বছর আগে কোনও একটি বইয়ে আমাদের এলাকায় এমন একটি মসজিদের কথা জেনেছিলাম। কিন্তু কোথায় এর অবস্থান তা নির্ণয় করা যাচ্ছিল না। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বরাবরই এমন প্রাচীন কোনও মসজিদ আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে বলেছি। অবশেষে এটি শনাক্ত করা গেছে।’

এ ব্যাপারে ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে ক্লিক করুন

আপডেট : বাংলাদেশ সময় : ০৫:১৪ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রি.শুক্রবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

828 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন