jin

‘টিভি জিন’ আর ‘মোবাইল জিন’দের নাটেরগুরু গ্রেফতার

 

চাঁদপুর রিপোর্ট নিউজ ডেস্ক :
‘জিনের বাদশাহ’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ক্যাবল অপারেটরদের নিজস্ব চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতেন তারা। আবার কখনো ‘দয়াল বাবা’, ‘সাধু সাধক’ বলেও পরিচয় দিতেন। এমনকি মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের নামে হাতিয়ে নিতেন কোটি টাকা।

সংঘবদ্ধ এমন এক প্রতারক চক্রের মূল হোতা কথিত ‘জিনের বাদশাহ’ জুবায়ের আহমেদ সুমনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইমের বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস)। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগের সদরদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইমের বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা বিভিন্ন সময়ে ‘জিনের বাদশা’, ‘দয়াল বাবা’ সেজে বিভিন্ন সমস্যারা সামাধান দেবে বলে বিজ্ঞাপন তৈরি করে। লটারি, গুপ্তধন, জটিল রোগ থেকে মুক্তি, পাওনা টাকা আদায়, দাম্পত্য কলহ, ভালোবাসার মানুষকে বশে আনাসহ সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে -এমন কথা বলে বিভিন্ন হুজুরের ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে থাকে।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর বক্তব্যে ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঢাকার ফার্মগেট ইন্দ্রপুরী ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে চক্রের মূল হোতা কথিত ‘জিনের বাদশাহ’ জুবায়ের আহমেদ সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

জান্নাত আরা আরও বলেন, সোহেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি এ প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তাকে লটারি পাইয়ে দেবে বলে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফার, ব্যাংক ও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকাগুলো হাতিয়ে নেন চক্রটি। গত ২২ জুলাই ভোলার বোরহান উদ্দিন থানায় একটি মামলা করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি।

গ্রেফতারের পর সুমন জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানান, মাসিক ২০ হাজার টাকা দিয়ে তৈয়েবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, বর্তমান দিনকাল ও চিত্র বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করত। এসব বিজ্ঞাপনে তারা বিভিন্ন দরবার শরীফের নাম ব্যবহার করে সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে বলেও প্রচার করত। আর এসব বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ ফোন করলে জুবায়ের ওই ব্যক্তিদের সমস্যার সামাধান করতে পারবে বলে টাকা আত্মসাৎ করতেন।

সিআইডি জানায়, প্রতারক জুবায়ের আহমেদ সুমনের নামে গত ২০১১ সালে ৫ ডিসেম্বর বোরহান উদ্দিন থানায় আরও একটি মামলা হয়েছিল। মামলা নম্বর-৯। ওই মামলায় তার পাঁচ বছরের সাজা হয়। তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বোরহান উদ্দিন থানায় একধিক মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি সুমনের তিন সহযোগী জাফর ইকবাল ওরফে কাজল, সাগর এবং ছামিরকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তাদের মধ্যে জাফর ইকবাল ও সাগর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দীতে সুমনের নাম উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহআলম বলেন, প্রতিদিন অনেক প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে সহজেই প্রতারণার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। আমরা দেখেছি ঢাকার এক শিক্ষিত গৃহবধূ প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ কথিত জিনদের দুইভাগে ভাগ করেছি। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘টিভি জিন’ আর একটি হচ্ছে ‘মোবাইল জিন’। টিভি জিনদের কাছে গিয়ে মানুষ নিজেরাই প্রতারিত হন। আর মোবাইল জিন ফোন করে ভিকটিমদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে আনে।

 

আপডেট : বাংলাদেশ সময় :০৩:১০ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রি. বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন

 58 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন