চাঁদপুর-৫ আসনে ধানের শীষের অশনি সংকেত

0
49

চাঁদপুর-৫ আসনে ধানের শীষের অশনি সংকেত
বিএনপি মানেই মতিন-মমিন : জাতীয়তাবাদের চর্চা নেই

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু, বিশেষ প্রতিনিধি :
চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আগামী দিন কেমন হবে তা নিয়ে হতাশায় সাধারণ ভোটাররা। এ আসনে মাঠ পর্যায়ে দলটির জোরালো সমর্থন থাকলেও জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জিত হচ্ছেনা। এখানে বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষে থাকা দুই নেতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই দলের চালিকাশক্তি বলে মনে করছেন তারা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৮,৩৫০ জন। এই আসনে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মতিন বিএনপির প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন। ফলশ্রুতিতে তিনি এখান থেকে ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন হতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মমিনুল হক দলীয় টিকেট নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের পর হতেই উভয় উপজেলায় দলের বেশ সংখ্যক নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা ও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ ছিল। যা দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে দাবী অনেক নেতাদের। আবার বিরোধিতা যারা করেছেন তাদের বক্তব্য ইঞ্জিঃ মমিনুল হক ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাতিল হওয়া নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দলের প্রতি আনুগত্যশীল হলে এমনটি করতেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই নেতার দ্বন্ধের কারণে এ আসনের দুটি উপজেলা, পৌরসভা ও প্রতিটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি ও অ্গংসংগঠনের দুইমতের কমিটি রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থীর জয়ের জন্য ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত আদর্শের অনুসারিদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সাবেক মেয়র আবদুল মান্নান খান বাচ্চুকে ইঞ্জিঃ মমিনুল হক ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিলে এম এ মতিন হেলাল উদ্দিন মজুমদারকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেন। ফলশ্রুতিতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি আবদুল মান্নান খান বাচ্চু দলীয় কোন্দলের বলি হয়ে পরাজিত হন।

এই উপজেলায় দু’নেতার দ্বন্ধের ফলে ৪নং কালচৌঁ ইউনিয়নে বিদ্রোহি বিএনপি হিসেবে মমিনুল হক সমর্থিত গোলাম মোস্তফা স্বপন ছাড়া গোটা উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত কোন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হননি।

এদিকে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও এম এ মতিন পন্থি হওয়ায় স্থানীয় মমিন পন্থি নেতাকর্মীদের অসহযোগিতায় তিনি জয়লাভ করতে পারেননি।

আবার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নে মোঃ হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী মমিনুল হক পন্থি হওয়ায় দলীয় কর্মীদের অসহযোগিতায় তিনি পরাজিত হন।

সূচীপাড়া দক্ষিণ ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বাহিরে স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে ইঞ্জিঃ মমিনুল হক পন্থি মোঃ আবদুর রশিদ ও আবু হানিফ (বর্তমানে আওয়ামী লীগ) জয়লাভ করেন।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি পৌরসভা নির্বাচনে মমিনুল হক মেয়র পদে মোঃ আবুল খায়ের সিএ কে দলীয় মনোনয়ন দিলেও এম এ মতিন পন্থি মোঃ মোস্তফা কামাল বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সে সময় মেয়র নির্বাচিত হন। প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে যেখানেই এম এ মতিন প্রার্থী দিয়েছেন সেখানেই মমিনুল হকের নেতাকর্মীরা ও যেখানে মমিনুল হক প্রার্থী দিয়েছেন সেখানেই এম এ মতিনের নেতাকর্মীরা বিরোধিতা করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের আগষ্ট মাসে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক হাজিগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা, শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভায় ইঞ্জিঃ মমিনুল হক পন্থি নেতাকর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে কমিটি ঘোষনা করলেও আড়াই মাসের মাথায় ওই কমিটি বাতিল করে এম এ মতিন পন্থি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে পুনরায় ৪টি কমিটি ঘোষনা দেন। যদিও শাহরাস্তি পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ মোস্তফা কামাল পরে দেয়া ৪টি কমিটিকে ভুয়া ও প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তারপরও নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা করতে দেখা গেছে। সার্বিক বিবেচনায় দলীয় মনোনয়ন যিনিই পান না কেন দু’নেতার দ্বন্ধ নিরসনে সময়োপযোগি উদ্যোগ না নিলে এ আসনে দলীয় ভরাডুবির জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরাই যথেষ্ট।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় :০৯:২১ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রি. রোববার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
636 জন পড়েছেন