রায়পুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে দালালচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

0
31

নেপথ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা!
রায়পুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে দালালচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণের নামে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি দালাল চক্র। তাদেরকে এ কাজে সহযোগিতা করছে পল্লী বিদ্যুতের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের লোকজন। দালালদের সাফ কথা- মিটার প্রতি ১০ হাজার টাকা দাও, সংযোগ নাও। নতুনবা অন্ধকারে থাকো। সরেজমিন উপজেলার দক্ষিণ চরবংশীর চর লক্ষী, চর কাচিয়া, শেখপাড়া, মোল্লারহাট, হাজীমারা স্লুইচগেইট, ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দালালদের মূলহোতা স্কুল শিক্ষক ছিদ্দিক প্রধানিয়া। তার হয়ে খলিফা বাজার থেকে মাঝি বাড়ি হয়ে হাজীমারা পর্যন্ত প্রায় ২৫০ গ্রাহকের টাকা তোলেন একই এলাকার রতন খলিফা। কাসিম গাইন বাড়ি থেকে হাজীমারা পর্যন্ত জালাল মেস্তরী, আবুল সরদার বাড়ি থেকে গনি সরদার বাড়ি পর্যন্ত ৫নং ওয়ার্ড শাহজালাল মাঝি, মোল্লারহাট থেকে হাজীমারা মোশারফ ডাক্তার বাড়ি থেকে কাসিম গাইন বাড়ি পর্যন্ত মিকার করিম ও আলাল, খালের উত্তর পাড় থেকে হাজীমার পর্যন্ত হোসেন হাওলাদার ও মোসলেম, ৯নং ওয়ার্ডে ৬৮৫ গ্রাহক থেকে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুক শেখের ছেলে রকি শেখ, মিয়ারহাট এলাকায় ছিদ্দিক মাষ্টার গ্রাহকদের কাছ থেকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ও লাইন নির্মাণের কথা বলে টাকা উত্তোলন করেন। তারা মিটার সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও ওয়ারিং বাবদ গ্রাহক প্রতি ১০-১১ হাজার টাকা আদায় করছে।

ওই এলাকার সোয়াব আলী সরদার জানান তিনি একটি মিটারের সংযোগের জন্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। একইভাবে ইমাম হোসেন সরদার ২টি মিটারে জন্য ১১ হাজার, সিরাজ ঢালী ৬হাজার ৫শ’, ফারুক সরদার ৮হাজার, সফেতন নেছা ১০ হাজার, সুফিয়া খাতুন ১০ হাজার শাহনাজ ১১ হাজার, জহির দেওয়ান ২টি মিটারে ১৫হাজার, খোদেজা বেগম ১০ হাজার, শাহজাহান সরদার ১০ হাজার, নুরু হক সরদার ১০ হাজার, সাবিয়া খাতুন ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। এছাড়াও শামছল হক সরদার, ইয়াজল সরদার, ছায়েদল সরদার ও আরিফ সরদার ৪টি মিটারের জন্য শাহজালাল মাঝিকে ২৯ হাজার টাকা দিলেও এখনো তাদের মিটার বা সংযোগ মেলেনি বলে তাদের অভিযোগ। তাজুল ইসলাম সরদার ১হাজার টাকা, সুফিয়া ১হাজার , আহছান ছৈয়াল ৫শ’ ও আমেনা বেগম ৫ হাজার টাকা দেওয়ায় বাকী টাকার জন্য তাদেরকে কোনো সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে না। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দালালদের নির্দেশনা ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের লোকজন লাইন নির্মাণ বা মিটার সংযোগ দেয় না। বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বলতে গেলেই পল্লী বিদ্যুতের ও ঠিকাদারের লোকজন দালালদের কাছে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে। একটি মিটারের সার্ভিস তার লাগাতে গেলে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ২শ’ টাকা হারে ও মিটার লাগাতে গেলে ৫শ’ টাকা হারে বকশিসের নামে ঘুষ দিতে হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে স্কুল শিক্ষক ছিদ্দিক প্রধানিয়া বলেন, গ্রামবাসী যদি দালাল হিসেবে আমার নাম বলে থাকে তবে পারলে পত্রিকায় আমার নাম লিখে দেন। এখানে আমার কিছুই বলার নেই। টাকা আদায় প্রসঙ্গে শাহজালাল মাজি বলেন, আমি ওয়ারিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজের মজুরী বাবদ গ্রাহক প্রতি ৪ হাজার টাকা নিয়েছি। এখান থেকে ছিদ্দিক মাষ্টারসহ অনেকেই টাকা নিয়েছেন। অহেতুক আমাকে জড়িত করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রায়পুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শেখ মনোয়ার মোরশেদ বলেন, বিদ্যুতের নামে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে ছিদ্দিক মাষ্টারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

আপডেট : বাংলাদেশ সময় :০৫:১৩ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রি. সোমবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন এবং শেয়ার করুন …

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
273 জন পড়েছেন