‘ভয়ে এলাকা ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা’

প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

 

জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার :
হামলা ও মামলার ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমারের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ও মামলা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সব জায়গায় নালিশ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিকার করছেন না। প্রতিকার না পেয়ে হামলা ও মামলার ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

শুক্রবার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছিলেন এমন সব কর্মকর্তারা দায়িত্ব পেয়েছেন। কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তালিকায় রাখা হয়নি।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি লুটপাট এবং পুলিশের পোশাকে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। হ্নীলায় এক প্রবাসী যুবক দুবাইতে বসে এমপি বদির হুমকির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মতামত প্রকাশ করায় রাতে পুলিশ গিয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর আলমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ এমপি বদির মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, সাবরাংয়ে বিএনপি নেতা সোলতান আহমদ মেম্বারের বাড়ীতে গিয়ে তাকে এক মাসের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি। এই বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করায় সোলতান মেম্বার ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাশেম মেম্বারসহ আট নেতাকে আটক করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। দুদিন থানায় আটকে রেখে মামলা ছাড়াই তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও এমপি বদি নিজে গিয়ে শামলাপুরের ছাত্রদল নেতা রাসেল এবং জসিমকে ধরে নিয়ে গেছে। এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। যুবদল নেতা ফয়সালকে আটক করা হলেও তাকে এখনো আদালতে পাঠানো হয়নি। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী দাবি করেন, শুরুর দিকে অভিযোগ শুনলেও এখন তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফোন করলে তিনি ফোনও ধরেন না। অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। রিটার্নিং অফিসার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সবাই এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, সব প্রার্থীই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আমরা তা পাওয়ার পর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাচ্ছি। কোথাও অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে।

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি. শুক্রবার

442 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়