hero alam

হিরো আলমের ‘জার্নি বাই ইলেকশন’

বিনোদন প্রতিবেদক :

শেষ হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ২৫৯টি আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনের শুরু থেকে বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ফেসবুক ও ইন্টারনেট সেনসেশন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

Diabeties Cure

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হিরো আলম দেশবাসীকে প্রথম চমকটি দিয়েছিলেন বগুড়া-৪ আসনের জন্য হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনে। এরপরই তাকে নিয়ে ঝড় ওঠে চায়ের কাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে। সবখানেই তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

কিন্তু দমবার পাত্র নন হিরো আলম। সবার সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। তবে শেষমেশ জাতীয় পার্টি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। বাধ্য হয়ে তাই সিংহ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়ান তিনি।

কিন্তু যাচাই বাছাইয়ের সময় হিরো আলমের প্রার্থিতা আটকে দেয় নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় বগুড়ার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।

তাতেও হাল ছাড়েননি হিরো আলম। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কিন্তু সেই আপিল খারিজ করে দেয় ইসি। শেষ ভরসা হিসেবে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন দেশব্যাপী সুপরিচিত এই ইন্টারনেট তারকা। সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে গত ৬ ডিসেম্বর হিরো আলমের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয় হাইকোর্ট।

এরপরই নিজ এলাকা বগুড়া-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন ও দোয়া নেন। দেন নানা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু শেস পর্যন্ত টিকতে পারেননি। রবিবার দুপুরে তিনি ভোট বর্জন করেন। এর মধ্যদিয়ে তার জাতীয় নির্বাচনে লড়াইয়ের যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।

হিরো আলমের অভিযোগ, ‘ভোট শুরু হওয়ার পর আমি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করতে বের হই। হঠাৎ একদল অজ্ঞাত লোক আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে মারধর করে। আমি তো স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমাকে তাদের এতো ভয় কিসের? আমাকে কেন আক্রমণ করা হলো? প্রশ্নটি সবার কাছে রেখে আমি ভোট বর্জন করলাম।’

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ডিস লাইনের ব্যবসা করেন হিরো আলম। সেই সূত্রে তিনি ‘ডিস আলম’ নামে পরিচিত হয়ে পড়েন। পরে নিজের খরচে কিছু মিউজিক ভিডিও ও কমেডি বানিয়ে রাতারাতি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ডিস আলম থেকে নাম ধারণ করেন হিরো আলম।

দেশের গ্রাম-শহর সবখানে তাকে সবাই এক নামে চেনে। হিরো আলম। শোনা যায়, গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় থাকাকালীন একাধিক বার তিনি মেম্বার নির্বাচন করেছেন। প্রতিবারই হেরেছেন। এ জন্যই তার জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সবাইকে অবাক করেছিল।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৮

615 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন