নারকীয় কায়দায় পুলিশের এসআই হত্যা : ২০ জনের যাবজ্জীবন

0
187

প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) উপ-পরিদর্শক এবং প্রধান সহকারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সর্বহারা ও চরমপন্থী দলের ২০ সদস্যকে যাবজ্জীবন দণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীব সাজাপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক। তারা হলেন- জসিম শেখ, মাছিম শেখ, মজনু মাতুব্বর, ফয়েজ শেখ, উজ্জ্বল হওলাদার, জাফর মাতুব্বর, কুব্বাস মাতুব্বর, হালিম আকন, দাদন ফকির, আমীর হোসেন শেখ, মিরাজ শিকদার, এ মে মোল্লা ও সুমন বাঘা।

এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মোশাররফ শেখ, আশরাফ শরিফ, বজলু আকন, আজাদ মোল্লা, দবির মোল্লা, সৈকত মোল্লা ও দিপু বিশ্বাস জামিনে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসনাইন আজম খান এবং প্রধান সহকারী কামরুল আলম খান ঠাকুর মোটরসাইকেলযোগে শাখার পাড় যাওয়ার পর আসামিরা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। তারা পুলিশ পরিচয় দিলে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর মোটরসাইকেলসহ তাদের শ্রীনদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ট্রলারে উঠিয়ে প্রথমে মোটরসাইকেলটি নদীতে ফেলে দেয় আসামিরা। এরপর প্রথমে কামরুলকে গলা কেটে হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা হাসনাইনের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। কামরুলের লাশ টুকরা টুকরা করে কেটে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরে হাসনাইনকে একইভাবে হত্যার পর তার লাশও টুকরা টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

নিহত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল হাসনাইন মাদারীপুর জেলায় ডিএসবির ডিআইও এবং কামরুল আলম খান ঠাকুর প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০০৭ সালের ৬ আগস্ট মাদারীপুরের রাজৈর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরাম মোল্লা ৩২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ৪ মে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।

মামলার ৩২ আসামির মধ্যে চারজন বন্দুকযুদ্ধে এবং দুজন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জন পলাতক, জামিনে ১২ জন এবং দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস নামে এক আসামি কারাগারে আটক আছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- আব্দুল আজিজ ওরফে সামাদ খাঁ ওরফে সামাদ মেম্বার, জসিম শেখ, মাছিম শেখ, ছায়েদ মাতুব্বর ওরফে ছায়েদ, মজনু মাতুব্বর, সত্তার তালুকদার, শাহাদাত আকন, উজ্জ্বল হাওলাদার, জাফর মাতুব্বর, কুব্বাস মাতুব্বর, দবির মোল্লা, দাদন ফকির ওরফে দাদন টেইলার, মোশারফ হোসেন, মোতালেব মাতুব্বর ওরফে মোতালেব মেম্বার, আমির হোসেন শেখ, ফয়েজ শেখ, দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস, সুমন ওরফে শামীম, আসলাম ওরফে নুরুল ইসলাম বাবু ওরফে বাবুল, মোশারফ শেখ, আশ্রাব শরীফ, হালিম আকন, মিরাজ শিকদার, নজরুল ওরফে নুরুল ইসলাম, মাসুদ শিকদার, হেলাল শিকদার, বজলু আকন, আজাদ মোল্লা, এমো মোল্লা ওরফে হেমায়েত মোল্লা ওরফে মুন্সি মোল্লা, শওকত মোল্লা ওরফে সাগু মেম্বর, সুমন বাঘা ও আবুল কাশেম মোল্লা।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
141 জন পড়েছেন