ওসি নিজেই মাহাবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করেন

0
438

১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:২৮ |

সূত্র- যুগান্তর :
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুল মজিদ। বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ওসি এ ঘটনা ঘটনা বলে দাবি করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা হামলা করে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কর্মীদের বিএনপির কর্মীরা ধাওয়া করলে ওসি আবদুল মজিদ নিজেই আমার মুখের নিচে (থুতনিতে), পিঠে ৫টি, হাতে ২টি, থুতনিতে ১টি গুলি, পিএস ইকবাল হোসেন রুবেলের পায়ে গুলিসহ ২০ জন নেতাকর্মীকে গুলি করছে।

তিনি বলেন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সোনাইমুড়ী বাজারে প্রধান সড়কের পাশে আমি আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করছি। এ সময় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কর্মীরা গণসংযোগে বাধা দিয়ে ১০-১২ জন কর্মীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে বিএনপির সমর্থিত ৩০-৪০টি দোকান ভাঙচুর করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সোনাইমুড়ী বাজারে প্রধান সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন। আগে থেকে ওত পেতে থেকে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের অস্ত্রধারী কর্মীরা বিএনপির এমপি প্রার্থীর গণসংযোগে বাধা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ১০-১২ জনকে আহত করে।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বিএনপির সমর্থিত ধান সিঁড়ি হোটেল, নুরু মিয়ার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ডাক্তার গাজির ফার্মেসি, জয়নালের ফার্মেসি, টুটুলের মুদি দোকান, হলি স্কয়ার হাসপাতালসহ ৩০-৪০টি দোকান ভাঙচুর করে। বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কর্মীদের ধাওয়া করলে ওসি দৌড়ে নিজেই গুলি করেন।পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুল মজিদ ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তার পিএসসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

গুলির আগে ওসিকে নিয়ে যা বলেছিলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন

পুলিশের গুলিতে আহত হওযার আগে সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে ওসির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নোয়খালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপি এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় তিনি বলেন, ওসি সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিকেও মানে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন আনলে ওসি তাদেরকে গ্রেফতার করে। এ আসনে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ যুবলীগের কর্মীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও গ্রেফতার করে না।

শনিবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী বার আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জেলা ৬টি নির্বাচনী আসনের বিএনপির ৬ এমপি প্রার্থীদের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমার নির্বাচনী আসনে সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মীরা ভোট চাচ্ছে না। তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় গণসংযোগ, প্রচারণা, পথসভা ও কেন্দ্রে না যেতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

গত কয়েক দিন আগে জয়াগবাজার ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার করতে গেলে ৪টি মাইক আওয়ামী লীগ যুবলীগের কর্মীরা মাইক, বাজারে বিএনপির সমর্থিত ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করে।

জয়াগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সওকত আকবরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার গাড়ি, চাটখিল উপজেলা বিএনপির সম্পাদক গোলাম মোস্তফার গাড়িও ভাঙচুর করে, ছাত্রদল নেতা মানিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। ওসিকে মোবাইল করলে মামলাও নেয় না।

পরে বিকালে সোনাইমুড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে ফেরার পথে ওসির গুলিতে তিনি আহত হন বলে জানিয়েছে বিএনপি। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি আবদুল মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছি। (সূত্র : যুগান্তর)

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
361 জন পড়েছেন