উষ্ণ মধু হতে পারে বিষ

0
250

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

‘মধু খই খই, বিষ খাওয়াইলা’ গানের এই কথার মতো মধুও বিষে রূপান্তরিত হতে পারে যদি মেশানো হয় উষ্ণ কোনো খাবারে বা গরম অবস্থায় গ্রহণ করলে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ঘরোয়া চিকিৎসায় বা শরীরের উপকারের জন্য মধুর জনপ্রিয়তা রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে জানানো হল মধু উষ্ণ হলে কী অপকারটা হতে পারে।

কুসুম গরম পানি কিংবা দুধে মধু

অনেকেই সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করেন। ধারণা করা হয় এতে শরীর চাঙ্গা হয়, দূর হয় দুষিত উপাদান।

তবে ভারতীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদ রেখা যিতিন বলছেন, “যা আপনি পান করছেন তা বিষ।”

অনেক দিনের ভ্রান্ত রীতি

শুনে অবাক হওয়ারই কথা। কুসুম গরম পানিতে মধু আর লেবু মানুষ পান করছে বহুকাল ধরে। ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সফলতম উপদেশগুলোর মধ্যে এই মিশ্রণ অন্যতম। তাদের মতে, এটি শরীর থেকে দুষিত উপাদান বের করতে সহায়ক এবং দীর্ঘ মেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, মধু কোনো অবস্থাতেই রান্না কিংবা গরম করা উচিত নয়। মধু তার প্রাকৃতিক অবস্থাতেই পুষ্টিকর।

মধু গরম অবস্থায় গ্রহণ করলে দেহে ‘আমা’ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই বিষাক্ত উপাদান হজমের সমস্যা থেকে তৈরি হয়। মধু যেহেতু ধীরে হজম হয়, তাই এ্রর উপাদানগুলো এই ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে, যা ডেকে আনতে পারে নানান রোগ।

কাঁচাই ভালো

একই কথা বাজার থেকে কেনা মধুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বোতলজাত মধু উচ্চতাপে জ্বাল দেওয়া হয়, ফলে এগুলো স্বাভাবিক ভাবে খাওয়াও বিষাক্ত হতে পারে; সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ তো আছেই।

তাই বলে মধু খাদ্যাভ্যাস থেকে বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে খেতে হবে মধুর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক অবস্থায়, সংগ্রহ করতে হবে এর উৎপত্তিস্থল থেকে।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মধু খেতে চাইলে, দুধ ঠাণ্ডা হওয়ার পর মধু যোগ করতে হবে।

বৈজ্ঞানিক কারণ

মধু গরম না করার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। চিনি আছে এমন যে কোনো খাবার গরম করলে ‘ফাইভ-হাইড্রোক্সিমিথাইলফারফুরাল (এইচএমএফ)’ নামক রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়, যা ক্যান্সারের কারণ হিসেবে বিবেচিত।

উপকারী মধু

শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রূপচর্চা আর শরীরের ক্ষতিপূরণেও মধু কার্যকর।

আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফসফেট, সোডিয়াম ক্লোরাইন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক মধু ত্বক কোমল করে। পাশাপাশি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

সম্প্রতি ফিমেলফার্স্ট ডটকো ডটইউকে’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে মধুর গুণাগুণ আর ব্যবহার নিয়ে কিছু পন্থা এখানে দেওয়া হল।

শুষ্ক ত্বকের প্রতিকার

মধু সাংঘাতিক রকমের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। যা শুষ্ক ত্বকে চমৎকার কাজ করে। কনুই আর হাঁটুর ত্বক নরম করে। শুধু তাই নয়, ফাটা ঠোঁটেও ম্যাজিক ঘটায় মধু।

হাঁটু, কনুই, ঠোঁট বা ত্বকে পরিমাণমতো মধু নিয়ে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

শক্তিবর্ধক

এনার্জি ড্রিংক আর কফি খেয়ে এনার্জি বাড়ানোর কথা ভুলে যান। এমনকি দ্রুত শক্তি পেতে যে চিনি খাওয়া হয়, সেটারও দরকার নেই। বরং প্রকৃতিকভাবে শক্তির অধিকারী হতে চিনির পরিবর্তে মধু খাওয়া শুরু করুন।

চা, বেইক বা রান্না— যেখানেই প্রয়োজন সেখানে চিনির পরিবর্তে মধু দিন। কয়েকদিন পরেই বুঝতে পারবেন আপনি আগের চাইতে আরও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছেন।

চুলের প্রতিকার

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে মধু অসাধারণ। চুলের ময়েশ্চারাইজার বাড়ানোর পাশাপাশি মাথার ত্বক পরিষ্কার করে চুল করে রেশম-কোমল।

শ্যাম্পু ব্যবহার করার সময় এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এতে চুল কোমল হবে। অথবা ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্টের জন্য অলিভ অয়েলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলে মাখুন। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

স্বস্তিতে আরাম

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা মধু মিশেয়ে দিন। দেখবেন শরীর ঝরঝরে লাগছে। কারণ মধু মাংসপেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

হ্যাংওভার কাটাতে

সারারাত পার্টি করেছেন। পরদিন মাথা ধরে আছে। কোনো অসুবিধা নেই রয়েছে মধু। ২/৩ টেবিল-চামচ পরিমাণ মধু হ্যাংওভার কাটাতে সাহায্য করে। কারণ শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে মধু।

ফেইশল

যদি ঘরে মধু থাকে তবে পয়সা খরচ করে বিউটি পার্লারে গিয়ে স্পা আর ফেইশলের কোনোই প্রয়োজন নেই। মধুর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জ্বালাপোড়া বিহীন আল্ট্রা-ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী।

শুধু মধু মুখে মাখা যায়। আবার দুই টেবিল-চামচ মধুর সঙ্গে দুই চা-চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে মেখে রাখুন। ত্বকে ভালোমতো শুষে নেওয়ার জন্য ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

স্বাভাবিক এক্সফলিয়েটিং ফেইশলের জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব।

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি. বুধবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
306 জন পড়েছেন