ফরিদগঞ্জে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১৫

0
204

সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর : ১৫০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ
ফরিদগঞ্জে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১৫

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষের সংর্ঘষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় বর্ধিত সভা পন্ড হয়ে যায়। হামলা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়িতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৫০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছে।

এসময় পুলিশের তিন সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের পররপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এবং হামলায় বর্ধিত সভাস্থল উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি চত্বর ভাংচুরের শিকার হয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিবাদমান দু‘পক্ষ এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা দেশি অস্ত্রশস্ত্র এবং ইট পাটকেল ছুড়ে বর্ধিত সভাস্থল ভাংচুর করে। এই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভ‚ঁইয়ার গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত সাবেক এই সংসদ সদস্য নেতাকর্মীদের সহায়তায় নিরাপদে সরে যান।

সংঘর্ষে আহতরা হচ্ছেন, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান, যুবলীগ নেতা আলম বাবুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহতের উপজেলা স্বাস্থ্য কম ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, হাসপাতালে ১০জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে থানা পুলিশের সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা ও দাঙ্গা পুলিশ অংশ নেয়। এই ঘটনায় সহকারী উপ পরিদর্শক রবিউলসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, কী কারণে এবং কেন এই সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

ঘটনা সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, কতিপয় বহিরাগতের সহায়তায় একটি পক্ষ এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর হক বলেন, জেলা কমিটির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। সংঘর্ষের পরই বর্ধিত সভা পন্ড হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এই বর্ধিত সভা আহ্বান করেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার। কিন্তু সভায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
193 জন পড়েছেন