শাহরাস্তিতে মামলায় পলাতক এক পরিবার

0
17

বিশেষ প্রতিনিধি :

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের নরিংপুর গ্রামে মামলার আসামী হয়ে পলাতক দিনাতিপাত করছে এক পরিবার। পারিবারিকভাবে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ মামলা হয়েছে দাবি এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

জানা যায়, ওই গ্রামের মৃতঃ শহীদ উল্যাহর পুত্র শাহীন হোসাইন গংয়ের সাথে একই বাড়ির এবাদ উল্যাহর পুত্র মোঃ আলামিন গংয়ের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা চলমান। গত ২৪ জানুয়ারি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই ও নিজ ভুমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে গাছ কর্তনের অভিযোগে ৬ জনকে আসামী করে শাহীন হোসাইনের বোন কানিজ শিউলি প্রকাশ শেলী চাঁদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৭ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনায় আলামিন শাহীন হোসাইনের মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম ও অপর আসামী কর্তৃক শিউলির শ্লীলতাহানির কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শাহরাস্তি থানাকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। যার নং ২৭(১)১৯।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মামলার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রতিবেশিরা জানান, ওই দিন এমন কোন ঘটনার কথা জানেন না এমনকি ইতোপূর্বে এমন কোন ঘটনা এ বাড়িতে হয়নি।

মামলার ৪নং সাক্ষী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, ঘটনার সময় আমি কিংবা আমার স্বামী কেহই বাড়িতে ছিলাম না। কোন ঘটনা ঘটেছে কি না সেটা উভয় পক্ষই বলতে পারবে। অহেতুক আমার স্বামীকে মামলার স্বাক্ষী করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

পার্শ্ববর্তী বাড়ির বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী বেবি জানান, ওই সময় আমি পাশেই ধানের জমিতে কাজ করতে ছিলাম। কোন মারামারি বা সংঘর্ষের ঘটনা চোখে পড়েনি।

প্রতিবেশি তপদার বাড়ির হেদায়েত উল্যাহর স্ত্রী রজ্জবের নেছা জানান, আমরা তাদের বাড়ির নিকটবর্তী। হামলা কিংবা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আমরা জানতাম। যে তারিখে ঘটনা দেখানো হয়েছে সেদিন কেন এরপূর্বে ২-৪ বছরের মধ্যে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়া হাসানুর রহমান মানিকের স্ত্রী রহিমা হাসান, হারুনুর রশিদের স্ত্রী তফুরা বেগম ও স্থানীয় মোরশেদ ভূঁইয়া জানান, আমরা যে ঘটনা দেখিনি তা সম্পর্কে কিভাবে বলবো। তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে সেটি জানি কিন্তু মারধরের যে মামলা আদালতে করা হয়েছে তা আমরা বলতে পারবো না ঘটনা কখন হয়েছে। যারা মামলা করেছে তারাই ভাল বলতে পারবে।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দিন উল্লেখিত ঠিকানার কেউ অত্র হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়নি। এলাকাবাসীর মতে মামলায় উল্লেখিত গুরুতর আহতদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল বা পার্শ্ববর্তী উপজেলার সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে ৪০ কিলোমিটার দুর্গমপথ পাড়ি দিয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আলামিন মুঠোফোনে জানান, প্রতিপক্ষ শাহীনদের সাথে আমাদের সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। ইতোপূর্বে তারা আমাদের নিকট সম্পত্তি বিক্রয় করবে মর্মে কথা হলেও আমাদের কাছে বিক্রয় না করে অন্যত্র হস্তান্তর করে। ওই ঘটনায় আমরা একই ওয়ারিশ হওয়ায় সম্পত্তি ফিরে পাবার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। এছাড়া প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাগানের মূল্যবান গাছগাছালি কেটে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোন নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করার পর তাদেরকে বেশ ক’বার নোটিশ করা হলেও তারা হাজির হয়নি। তারা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট কল্পকাহিনী সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে আমরা ওই মিথ্যা মামলায় পলাতক দিনাতিপাত ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আমরা ন্যায্য বিচার দাবী করছি।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
229 জন পড়েছেন