পিলখানা হত্যাকান্ডের ১০ বছর : ছেলেহত্যার বিচার দেখে যেতে চান শাহরাস্তির শতোর্ধ্বা জুলেখা

0
69
পিলখানায় সস্ত্রীক নিহত লে. কর্ণেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রশনী ফাতেমা লাভলী। উপরে মায়ের আহাজারি

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু, বিশেষ প্রতিনিধি:
বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় সস্ত্রীক নিহত লে. কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেনের মা জুলেখা বেগম (১১০) তাঁর পুত্র ও পুত্রবধুর হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চান। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তিনি আজ অতীত স্মৃতি আঁকড়ে ধরে ন্যায়বিচারের প্রহর গুণছেন। শুধু একটাই চাওয়া কখন এ হত্যাকান্ডের রায় কার্যকর হবে, প্রিয়জন হারানোর দৃষ্টান্তমূলক রায় দেবে আদালত।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিডিআরের কিছুসংখ্যক বিপথগামী জওয়ানের নৃশংসতায় যে ক’জন সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন তাদের একজন।

২০০৫ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি পিলখানায় হত্যাকান্ডের শিকার স্বামী স্ত্রী। পাশে তাদের সন্তানরা
http://picasion.com/

অবসরপ্রাপ্ত এ সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন বিডিআর সপ্তাহের দাওয়াতে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। বিডিআর’র নিহত ডিজি শাকিল আহমদ ছিলেন তাঁর ব্যাচম্যাট ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। বিডিআর বিদ্রোহের সময় শাকিল আহমদের বাসাতেই স্ত্রী রশনী ফাতেমা আক্তার লাভলীসহ ছিলেন তিনি।

 

সরেজমিনে রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় লেঃ কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেনের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামের পাটোয়ারি বাড়িতে গেলে তাঁর মা জুলেখা বেগম সাংবাদিকদের দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন।

কান্না জড়িত কণ্ঠে চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, “আজ ১০ বছর হলো আমার দেলুকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, খুনিরা আমার ছেলের বউটাকেও মাফ করেনি। আমার নাতনিরা বাবা মাকে হারিয়ে কত কষ্টে আছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আল্লাহর কাছে আমার মিনতি আমি যেন আমার পুত্র ও পুত্রবধুর খুনিদের বিচার দেখে মরতে পারি”।

নিহত দম্পতির ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে শারমিন ফাইরুজ লেখাপড়া সমাপ্ত করে চট্টগ্রামে স্বামীর সাথে রয়েছেন। ছোট মেয়ে নাজিফা ইসমাম ইংল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিষ্টনে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন।

নিহতের বড় মেয়ে শারমিন ফাইরুজ মুঠোফোনে জানান, “হত্যাকান্ডের সময় আমি লন্ডন কলেজ অব একাউন্টেন্সিতে সিএ অধ্যয়নরত ছিলাম। আমার ছোট বোন নাজিফা ইশমাম সে সময় চট্টগ্রাম প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। ১০ বছর আগের সে দুর্বিষহ স্মৃতি আজো হৃদয়পটে ভেসে উঠে। মানুষের মা কিংবা বাবা বিদায় নিলে একজন হয়তো পাশে থাকে আমরা এমনই দুর্ভাগা যে দুজনকেই একসাথে হারিয়েছি। আজ সবই আছে শুধু মাথার উপরের সবচেয়ে বড় ছায়া দু’টি হারিয়ে গেছে”।

এ হত্যাকান্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আদালতে মামলা বিচারাধিন, আমার বিশ্বাস আমরা ন্যায় বিচার পাবো”।

প্রসঙ্গত, শাহরাস্তি উপজেলার ঠাকুর বাজারস্থ নিজমেহার পাটোয়ারি বাড়ির মৃতঃ আলতাফ হোসেন পাটোয়ারির কনিষ্ঠ পুত্র লেঃ কর্নেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন কৃতি সেনা কর্মকর্তা ও স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। চাকুরি হতে অবসরে গিয়ে চট্রগ্রামে সপরিবারে থাকতেন।

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, রোববার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
297 জন পড়েছেন
http://picasion.com/