হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ফুলকপি

0
50

ফিচার ডেস্ক
ফুলকপি এমন এক সবজি যা পুষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোক্যামিকাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হৃদরোগ এবং ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। উপরন্তু এটি আপনার ডায়েট যোগ করলে অবিশ্বাস্যভাবে সহজেই ওজন হ্রাস করবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো. মাইনুর রেজা-

সাধারণত ফুলকপির ফুল অর্থাৎ সাদা অংশটুকুই খাওয়া হয়। সাদা অংশের চারপাশে ঘিরে থাকা ডাঁটা এবং পুরু, সবুজ পাতা দিয়ে স্যুপ রান্না করা হয় অথবা ফেলে দেওয়া হয়। পাতা দিয়ে ঘিরে থাকা সাদা অংশটুকু দেখতে ফুলের মতো বলেই ফুলকপির এমন নামকরণ করা হয়েছে।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
http://picasion.com/

আজ আমরা ফুলকপির কিছু অবাক করা স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানবো-

১. আপনার প্রয়োজন এমন প্রায় প্রতিটি ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের একটি চমৎকার উৎস হচ্ছে ফুলকপি। এক কাপ কাঁচা ফুলকপিতে (১২৮ গ্রাম) আছে ২৫ ক্যালোরি। এছাড়াও ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি ৬, ফোলেট, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, পটাসিয়াম, মাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেল আছে।

২. ফুলকপি ফাইবার বা খাদ্যআঁশে বেশ উচ্চ, যা সামগ্রিক পাচক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। এককাপ ফুলকপিতে ৩ গ্রাম ফাইবার রয়েছে, যা আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ১০ শতাংশ। ফাইবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারণ এটি আপনার অন্ত্রের সুস্থ ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে দেয়, যা অন্ত্রের প্রদাহকে কমাতে এবং পাচক স্বাস্থ্যকে উন্নীত করতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডাইভারটিকিউলিসিস এবং প্রদাহজনক পেট রোগ (আইবিডি) ভালো হয়।

৩. ফুলকপি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস, যা আপনার দেহ কোষকে ক্ষতিকারক মুক্ত রেডিকেল এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। ফুলকপিতে গ্লুকোসিওনোলেটস এবং আইসোথোস্যানিয়েট নামে দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি হ্রাসে প্রভাব রয়েছে। ফুলকপিতে ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্ল্যাভোনিয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে, যা ক্যান্সারের বিরোধী প্রভাব রয়েছে এবং হৃদরোগসহ অন্যান্য অসুবিধার ঝুঁকি কমাতে পারে।

৪. ঘনঘন কম ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ওজন হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত। ফুলকপির যে বৈশিষ্ট্যগুলো ওজন হ্রাসে সাহায্য করতে পারে, প্রথমত প্রতিকাপে মাত্র ২৫ ক্যালোরি। তাই আপনি ওজন অর্জন না করেই প্রচুর পরিমাণে এটি খেতে পারেন। এটি উচ্চ-ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবারের (যেমন চাল এবং আটা) বিকল্প হিসেবেও কাজ করতে পারে। ফাইবার সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণকে কমাতে সক্ষমতার কারণে স্থুলতা প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সারাদিন আপনি যে ক্যালোরিগুলো খেতে পারেন তা হ্রাস করতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

৫. ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণ কোলাইন পাওয়া যায়, যা একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। ফুলকপির এককাপের মধ্যে ৪৫ মিলিগ্রাম কোলাইন রয়েছে, যা মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণের ১১ শতাংশ এবং পুরুষদের জন্য ৮ শতাংশ। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনের জন্য কোলিনের অবদান আছে। এটি সেল ঝিল্লিগুলোর অখণ্ডতা বজায় রাখতে, ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং বিপাক সহায়তাকারী বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। কোলিন মস্তিষ্কের উন্নয়নে এবং নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়। এমনকি এটি কোলেস্টেরলকে লিভারে জমা হতে বাধা দেয়। যারা যথেষ্ট কোলাইন গ্রহণ করে না; তাদের যকৃত ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। এছাড়া ডেমেন্টিয়া এবং অ্যালজাইমারের মতো নিউরোলজিক্যাল ব্যাধিও হতে পারে। এটি শরীরের অনেক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে কাজ করে।

তাই শরীর সুস্থ রাখতে শীতকালে প্রতিদিনের সবজির তালিকায় ফুলকপি রাখুন। বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকুন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
201 জন পড়েছেন
http://picasion.com/