প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্য আহ্বানের নেপথ্যে

0
245

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ‘জাতীয় ঐক্যে’র ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

গত ২৫ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি।

তিনি আরও বলেন, বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করবো।

প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গণে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, গ্রহণযোগ্যতা পেতেই সরকার প্রধান জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে এবং চা-চক্রের আয়োজন করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকে বিষয়টি ইতিবাচক। সংসদ বা সরকারে না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সম্ভব।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নির্বাচন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, আমাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সমঝোতা। আলাপ-আলোচনা, সংলাপ। সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা। আমি আশা করবো, নির্বাচন নিয়ে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এটাও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার। এটা নিশ্চিত করা দরকার যে, জনগণের সম্মতির ভিত্তিতেই যেন ক্ষমতার রদবদল হয়। আমি আশা করবো যে, একটা সংলাপ হবে, সংলাপের মাধ্যমে ঐক্যমত সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক সমাধান হবে।

তিনি বলেন, শান্তি-সম্প্রীতি যদি বিরাজ করে সেটা দেশের জন্যও ভালো, যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের জন্যও ভালো। শান্তি-সম্প্রীতি বিরাজ করার জন্য একটা সমঝোতা দরকার। আমি নিশ্চিত এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান। আমি আশা করি, আমরা কতগুলো গুরুতর সমস্যা সমাধান করার মধ্য দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবো। বিষয়ভিত্তিক সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় ঐক্য সৃষ্টি হবে।

২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১ নভেম্বর সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংলাপ বসলেও বিশেষ কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে ওই সময়ে অভিযোগ করেছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বাংলাদেশের নির্বাচন ত্রুটিহীন ছিল না দাবি করে গত ১৯ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতরেস বলেন, আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ একটি সংলাপের জন্য উত্সাহিত করি, যাতে যতটা সম্ভব বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক শৃঙ্খলা আনা যায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন, আসুন আমরা সকলে মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি। দেশের অগ্রগতি-উন্নয়নের জন্য সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করি। এটাই আহ্বান। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই নেত্রীর আহ্বান সাড়া দিয়েছে। অতীতে আমরা যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করবো।

তিনি বলেন, কিছু লোক আছে, যারা কোনো সময়ই বাংলাদেশের এবং মানুষের ভালো চায় না। তাদেরকে আমরা চিনি। তারা কখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে গণতন্ত্রকে জিম্মি করার চেষ্টা করে, কখনও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে। কখনও তারা বিদেশে চিঠি লিখে, কখনও বিদেশে গিয়ে মাফ চেয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করে। তাদের মধ্যে হয়তো কেউ কেউ সমালোচনা করছে।

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, একসঙ্গে কাজ করার মানে তো এই নয় যে, সকলকে ক্যাবিনেটে (মন্ত্রিসভা) আসতে হবে। যে যার যার জায়গা থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবেন। তার অর্থ এই নয় যে, সকল কিছু আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের বাইরেও অনেকে আছেন যারা দেশের ভালো চান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ১৬ কোটি মানুষের সর্বজনীন নেতা হিসেবেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সেই ঐক্যের ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি। ভবিষ্যতের উন্নয়নের ভাবনা এবং এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্য, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির উপলব্ধির ঐক্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্য এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য ঐক্য। সকল বিরোধী রাজনৈতিক শুভ শক্তি প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে সহায়তা করলে বা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলে সরকার বরং এতে উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান বিরোধীদের প্রভাবিত করছে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, বিরোধীরা মনে করে নির্বাচনটা একটা ভাওতাবাজি ছিল। সেই জন্যে তারা (বিরোধীরা) তার (প্রধানমন্ত্রী) ওপরে বা তাদের দলের (আওয়ামী লীগ) ওপরে আর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। সেখানে ঐক্য করা কতটুকু সম্ভব সে প্রশ্ন বিবেচনা করার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে, সুষ্ঠু এবং সুদৃঢ় ইচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলকে সেই পথে এগুতে হবে। তাদের যদি সেই সদিচ্ছা থাকে তবেই এটা সম্ভব। সুতরাং কাজের অবস্থান এক রকম আর কাজের ফল কী হয় তার ওপর নির্ভর করবে।

‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আলোচনা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা প্রদানের সামিল’ বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি।

দলটির এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে, নতুনভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনার পরই সরকারের সাথে জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ঐক্যফ্রন্ট এর নির্বাচনী বিপর্যয়ের অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু নির্বাচনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের মিছিল-মিটিং-প্রচারণায় বাধাদান, পোস্টার ছিড়ে ফেলা, হাজার হাজার কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার, বাড়ি-বাড়ি ঢুকে তল্লাশির নামে আতঙ্কের সৃষ্টি, গ্রেফতারের হুমকি,পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকি প্রদান, কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া, ভোটের আগের রাতে এবং ভোটের দিন প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ঘুষ প্রদান ও দলীয় মাস্তানদের সহযোগীতায় বিরোধীদলের এজেন্ট, নেতা-কর্মীদের বের করে দিয়ে নিজেরা সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, এজেন্ট অনুপস্থিতির সুযোগে বিরোধী প্রার্থীর ভোট কমিয়ে আনা ইত্যাদির মাধ্যমে যে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তা জেএসডি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সকল (যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল) বিরোধীদলগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে এবং সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় স্বার্থে একটি ঐক্যের আহ্বান করেছেন। এটা যেকোনো সময়ে, যেকোনো প্রধানমন্ত্রী করতে পারেন। কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপারে দ্বিমত করতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক দিক।

প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
251 জন পড়েছেন