শাহরাস্তিতে প্রতিপক্ষকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের সোর্সসহ ২ জন শ্রীঘরে

0
34

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু :
ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে প্রতিপক্ষকে মাদক ব্যবসায়ি সাজিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিতে গিয়ে নিজেরাই শ্রীঘরে আটক হয়েছেন। শনিবার ১০ পিচ মাদকসহ নূর হোসেন ও পুলিশের সোর্স আবুল কাশেমকে জেলহাজতে প্রেরণ করে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক গ্রামে।

জানা যায়, ওই গ্রামের উত্তর মজুমদার বাড়ির মৃতঃ আবুল খায়েরের পুত্র নূর হোসেনের সাথে একই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী পান্না বেগমের সাথে দন্দ্ব চলমান। সম্প্রতি পান্না বেগম নূর হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলে সে পান্না বেগমকে মাদক ব্যবসায়ি সাজাতে সিএনজি অটোরিক্সা চালক আবুল কাশেমের সাথে ৮ হাজার টাকা চুক্তি করে। গত শুক্রবার রাত ১১ টায় পুলিশের সোর্স ও সিএনজি অটোরিক্সা চালক আবুল কাশেম পান্না বেগমের ঘরে মাদক রক্ষিত রয়েছে মর্মে শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ হাবিবুর রহমানকে মুঠোফোনে জানায়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পান্না বেগমের স্বামী মোঃ জাকির হোসেনকে আটক করে এবং সোর্সের দেয়া তথ্যমতে আটককৃতের রান্নাঘরের চালায় মাছের ডুলার ভেতর হতে ১০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে।

এমন রক্ষিত স্থানে ইয়াবা থাকার বিষয়টি সোর্সের জানার ব্যাপারে পুলিশের সন্দেহ হলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক আবুল কাশেমকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে সে জানায় শোরসাক গ্রামের উত্তর মজুমদার বাড়ির মৃতঃ আবুল খায়েরের পুত্র নূর হোসেনের সাথে ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে সে এ ঘটনা সাজিয়েছে এবং সে ও নূর হোসেন মিলেই ওই স্থানে মাদক রাখে। ওই রাতেই পুলিশ নূর হোসেনকে আটক করে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক)/৪১ ধারা মতে মামলা রুজু করা হয়, যার নং-০৩। শনিবার তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহআলম জানান, মাদকের ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানির উদ্দেশ্যে কিংবা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তিই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, রোববার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
66 জন পড়েছেন