ফরিদগঞ্জে এক হাজার হেক্টর বোরো আবাদে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা

0
12

আনিছুর রহমান সুজন :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সিআইপি বেড়িবাঁধের খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ভরাট ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারনে খালে যথাসময়ে পানি সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে সেচের পানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুধৃ তাই নয়,বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ বছর খাল খনন না করায় সঠিক সময়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খালে পানি না আসায় বোরো আবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষিবিদরা জানান, ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বীজতলা করার উপযুক্ত সময়। ১৫ ডিসেম্বর থেকে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হয়। যা স্বাভাবিকভাবে চলে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ধানের চারার বয়স ২১ দিন থেকে ৪০ দিনের মধ্যে জমিতে রোপণ করতে হবে। ৪০ দিনের পর চারার বয়স বাড়তে থাকলে ক্রমেই উৎপাদন কমতে থাকবে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১০০০ হেক্টোর। উপজেলার আদশা, হামছাপুর, হুগলী, ত্রিদোনা, বৃহত্তর ষোলদানা, রাজাপুর, সাইসাঙ্গা, দত্রা, খাজুরিয়া, গুপ্টি, সেনা হাটখোলা মাঠের কৃষকরা জানায় পানির অভাবে তারা ধানের চারা রোপন করতে পারছে না। শুরুতে কেউ কেউ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জমিতে পানি দিয়ে ধানের চারা রোপন করলেও পানির অভাবে তা এখন নষ্ট হওয়ার পথে। এছাড়া অনেক স্থানে অবৈধ ভরাটের কারণে দেখে উপায় নেই ওই স্থানে কোন খাল ছিলো।

এ সর্ম্পকে উলে¬খিত এলাকার কৃষক ইউপি সদস্য মো. শরীফ গাজী, জাকির হোসেন, সারোয়ার হোসেন, বাবুল দেওয়ান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, ডা. শফিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম সুমন, সিদাম দাস, সুমন, মমিন হোসেন এপ্রতিনিধিকে বলেন, এখন পর্যন্ত খালে পানি না থাকায় আমরা ধানের চারা রোপন করতে পারছি না। ধানের চারার বয়স দিন দিন বেড়ে চলছে। অনেকের চারার বয়স ৬০ দিন পার হয়ে গেছে। ধানের চারার বয়স ২১ দিন থেকে ৪০ দিনের মধ্যে জমিতে রোপণ করতে হয়। তা না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমতে থাকে। সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় বোরো উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষক।

খাজুরিয়া মাঠের স্কিমের ম্যানেজার মামুন আখন্দ, হুগলী মাঠের স্কিম ম্যানেজার সুমন, হাট খোলা মাঠের স্কিম ম্যানেজার আবুল কাসেম এ প্রতিনিধিকে বলেন, খালে পানি না থাকার কারণে সেচ দিতে পারছি না। পানির অভাবে কিছু এলাকায় রোপন করা ধানের চারা নষ্ট হওয়ার পথে। পানি না থাকায় বোরো চাষাবাদ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।

এসর্ম্পকে ওই এলাকার রাজনীতিবিদ বুলবুল আহম্মেদ বলেন, গুপ্টি পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের খালগুলো গত ২৫ বছরে এক বারও খনন করা হয়নি। মূলত খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে পানি না আসায় কৃষকরা পানি সংকটে রয়েছে। গঙ্গাজলী ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে খাজুরিয়া-গুপ্টি এলাকার খালগুলো খনন করা হলেও আগামীতে এই পানি সংকট আর থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, বোরো আবাদের স্বার্থে সব খালে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আলী আফরোজ জানান, বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে পানি সংকট দূর করতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশি¬ষ্টদের জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যার সামধান হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ রুহুল আমিন জানান, চাঁদপুর সেব প্র্রকল্পের খালগুলোতে পহেলা জানুয়ারী পানি ছাড়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ভেতরে কিছু অসচেতন লোক অপরিকল্পিত ভাবে খালের বিভিন্ন স্থানে নানা স্থাপনা তুলে পানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ বিষয়টি সমাধান কল্পে কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
123 জন পড়েছেন