মাদকাসক্ত বন্ধুরাই ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে লুসিকে

0
90

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

অথরা আক্তার লুসিরাজধানীর মতিঝিলে নিখোঁজের চারদিন পর উদ্ধার করা তরুণী অথরা আক্তার লুসিকে তার ইয়াবাসঙ্গীরাই হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ বাট্টু সুমন নামে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করেছে। সুমন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সুমন আদালতকে জানান, ওই তরুণীসহ তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতো। ঘটনার রাতে (২৪ জানুয়ারি) তারা সংঘবদ্ধভাবে লুসিকে ধর্ষণ করে। পরে লাশটি চতুর্থ তলার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে মতিঝিল থানা পুলিশ ফকিরাপুলের এক নম্বর গলি থেকে অথরা আক্তার লুসির লাশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় নিহত লুসির মা রেনু বেগম বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

মামলায় বলা হয়, লুসি মতিঝিলের ২৩২ নম্বর ফকিরাপুল গরম পানির গলির ৮তলার একটি বাসায় থাকতো। সে খালাতো বোন নারগিসের সঙ্গে ফকিরাপুলের মিরাজ টাওয়ারের সামনে পান-বিড়ি সিগারেট বিক্রি করতো। গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৯টা থেকে তার তিনটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের দু’দিন আগে থেকেই নিখোঁজ ছিল লুসি। ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ ফকিরাপুলের প্রথম গলির ২২১ এবং ২২২ নম্বর ভবনের মাঝখানের জায়গা থেকে লুসির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আতিকুল ইসলাম জানান, প্রথাগত সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা বাট্টু সুমনকে শনাক্তের পর রবিবার বিকালে টয়েনবি সার্কুলার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাট্টু সুমন হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি স্বীকার করেছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সুমনকে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে সুমন জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে আমি, লুসি, দিহান ও নাদিম একসঙ্গে মতিঝিল ফকিরাপুলের ১ নম্বর গলির শামীমের বিল্ডিংয়ের চার তলায় বসে ইয়াবা খাচ্ছিলাম। লুসি নাদিমের কাছে সিগারেট চাইলে নাদিম সিগারেট দেয়নি। তখন লুসি রেগে নাদিমকে থাপ্পড় মারে। নাদিম ইট দিয়ে লুসির মাথায় আঘাত করে। তারপর দেখি লুসি আর নড়াচড়া করছে না। এরপর আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। আমি বলি নাদিম তুই কী করলি? তারপর আমরা সবাই লুসিকে ধরে চারতলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে ফেলে দেই। তারপর আমরা সবাই পালিয়ে যাই।

বাট্টু সুমনগোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সুমন কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা লুসিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছিল। কিন্তু, সর্বশেষে নাদিম ধর্ষণ করতে গেলে লুসি বাধা দেয়। একারণে লুসিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

মতিঝিল থানা সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় লুসির গায়ে কোনও কাপড় ছিল না। লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, লুসি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে তারা অভিযান চালাচ্ছেন। দিহান ও নাদিমকে খুব শিগগির তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, সুমন, নাদিম ও দিহান ইয়াবায় আসক্ত ও ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে ফকিরাপুল এলাকায় পরিচিত। নিহত লুসি নিজেও ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন করতো। এই চক্রে আরও কিছু লোকজন আছে। তাদের সবাইকে শনাক্তের পর গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪১, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
123 জন পড়েছেন