বোরকা পরে প্রেমিকার মুখে মশালের আগুন

0
26

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী :

পাঁচ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় ঢাকার ধামরাইয়ের যুবক নাইমের। এরপর দুজনে আস্তে আস্তে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রেমিকা বিবাহিতা জানতে পারলেও তাকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন নাইম। কিন্তু প্রেমিকা রাজি না হওয়ায় তার মুখে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা নেন নাইম। এরপর প্রেমিকার মুখে মশাল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন পরকীয়া প্রেমিক নাইম। মেয়েটি এখন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের বিশেষায়িত একটি দলের সহায়তায় রাজশাহী পিবিআই শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ধামরাইয়ের নিজ বাড়ি থেকে নাইমকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের কাছে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করেন নাইম।

যে কোনোা যৌন সমস্যার সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 01777988889, মূল্য নাইট কিং- 1050/- টাকা, নাইট কিং গোল্ড 1350/- টাকা। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন : 01762240650 (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত)

গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় চার বছরের শিশু সন্তানের সামনেই ওই নারীর মুখে আগুন দেয়া হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ওই নারীর ভাই। এরপর নাইমকে গ্রেপ্তারের পরই ওই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়।

নাইম ইসলামের বাড়ি ঢাকার ধামরাই থানার আইনগঞ্জে। তার বাবার নাম হাসান আলী। নাইম ধামরাই কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র। আর তার প্রেমিকা পড়েন রাজশাহী কলেজে।

মুখে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলাটির তদন্ত করছেন পুঠিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মহিনুল ইসলাম। তবে তার পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) মামলাটির ছায়া তদন্ত করছিল। পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের বিশেষায়িত একটি দলের সহায়তায় রাজশাহী পিবিআই শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ধামরাইয়ের নিজ বাগি থেকে নাইমকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআইয়ের অভিযানে ছিলেন রাজশাহী পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম, জামাল হোসেন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আসাদ এবং রাসেল।

নাইমের বরাত দিয়ে এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, পুঠিয়ার ওই নারীর স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ঢাকায় ছিলেন। তখন স্বামীর সঙ্গে ওই নারীও ঢাকায় থাকতেন এবং ইডেন কলেজে ডিগ্রিতে পড়াশোনা করতেন। ঢাকায় থাকার সময় ফেসবুকে ধামরাই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র নাইমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথাবার্তায় হতো তাদের মধ্যে। এভাবে দুজনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

স্বামীর অজান্তে নাইমের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতেন ওই নারী। এরই মধ্যে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। প্রায় তিন বছর আগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পুঠিয়ার বানেশ্বরে আসেন ওই নারীর স্বামী। তারপরেও নাইমের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে নাইম বানেশ্বর থেকে ঘুরে যান।

নাইম পিবিআইকে জানায়, মেয়েটি তার প্রথম প্রেম। তাই বয়সে বড় হলেও স্বামী-সন্তান রেখে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু ওই নারী রাজি না হয়ে তাকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন। ফোনকল ধরাও বন্ধ করে দেন। তখন তিনি জানতে পারেন, আরও কয়েকজন ছেলের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক রয়েছে। এই ক্ষোভ থেকে তিনি তার মুখে আগুন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ জানুয়ারি পুঠিয়ার বানেশ্বরে গিয়ে দুই বোতল অকটেন কেনেন নাইম। আর ঢাকার এক বান্ধবীর কাছ থেকে নিয়ে যান একটি বোরকা। সেটি পরে পরদিন ভোরে ওই নারীর বাড়ির কাছে ওঁৎ পেতে থাকেন।

প্রেমিকা ওই পথ দিয়ে আসলে একটি মশালে অকটেন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে সেটি তার মুখে ছুড়ে পালিয়ে যান নাইম। ওই নারী তখন তার সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। মশালের আগুনে সন্তানের সামনেই তার মুখ ঝলসে যায়।

তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে মুখে পানি ঢেলে আগুন নেভান। তারপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্র্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

রাজশাহী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বোরকা পরে আক্রমণ করায় এ ঘটনার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে নাইমকে শনাক্ত করেন। এরপর নাইমকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি সব স্বীকার করেন। এখন তাকে পুঠিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাবে।

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৩ | প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৭

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
241 জন পড়েছেন