ফরিদগঞ্জের শামছুল হক সেলাই করতে করতেই পুড়ে অঙ্গার

0
29

 

আনিছুর রহমান সুজন, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
ঢাকার চক বাজার এলাকার চুড়িহাট্টা মসজিদের সামনে আল মদিনা ডেকোরেটর মালিক চাঁঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার রুদ্রগাও গ্রামের শামছুল হক বেপারী (৫৬) বুধবার রাতে বিয়ের একটি অনুষ্ঠানের জন্য কাপড় প্রস্তুুত করছিলেন তার দুই সেলাই মেশিন ম্যান(স্থানীয় ভাষায় খলিফা) নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নীকা-ে শামছুল হক সহ অজ্ঞাত দুই জন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধ্বংসস্তুপে পরিনত হওয়া ওই দোকান থেকে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করলেও লাশ সনাক্ত করা সম্ভব হয় নি বলে তার নিকটজন কিরণ পাটওয়ারী জানিয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৮.০০ টায় নিহতের গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার রুদ্রগাঁও ঈদগাঁ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে আলীম উদ্দিন বেপারী বাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হয়। তার দীর্ঘদিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ন মালামাল পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।

শামছুল হক বেপারী দীর্ঘদিনের সহচর কিরণ পাটওয়ারী জানান, মাঝে কয়েক বছর বিরতী দিয়ে ১৯৮৫ সাল থেকে চুড়িহাট্টা মসজিদের সামনে ডেকোরেটরের ব্যবসা করছেন শামছুল হক। ১ছেলে মারুফ হোসেন মাহবুব ২ মেয়ে পারভীন ও নিপার জনক শামছুল হক ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রুদ্রগ্রাও গ্রামের আলিমুদ্দিন বেপারী বাড়ির মরহুম চান মিয়া বেপারীর ছেলে। শামছুল হক স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং ৩ সন্তান নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বাসায় থাকতেন।

স্থানীয় আহসান হাবিবসহ বেশ কয়েকজন জানান, স্বজ্জন শামছুল হক রুদ্রগাও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে সর্বদা দান অনুদান প্রদান করতেন। কিন্তু গাড়ীর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও পরবর্তী অগ্নীকান্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলেন তিনি।

এদিকে শামছুল হক বেপারীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে স্বজন ও প্রতিবেশিরা। বৃহষ্পতিবার বিকালে শামছুল হক বেপারীর লাশ তার ছেলে মাহবুব ও তার ভাতিজা কবির সনাক্ত এবং লাশ গ্রহণ করেছে বলে কিরণ পাটওয়ারী নিশ্চিত করেছেন।

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
152 জন পড়েছেন