শাহরাস্তিতে যত্রতত্র খোলা তেল ও পেট্টোলিয়াম গ্যাস বিক্রি : নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জনজীবন

0
29

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু :
শাহরাস্তি উপজেলার রাস্তাঘাট, বাজার এলাকা ও সড়কের মোড়ে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্টোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, অকটেন-পেট্টলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ। কোনো ধরনের নীতিমালা না মেনে এভাবে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে গত দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্টলসহ নানা দাহ্য পদার্থ। বিভিন্ন দোকানে এক লিটার অথবা আধা লিটার ওজনের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্টল ভরে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ওইসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানা নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে জন নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদনহীন এসব দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

http://picasion.com/

জানা গেছে, জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান তেল ও গ্যাস বিক্রি করবে তাদের বিক্রির স্থানকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে হয়। আইন অনুযায়ী তেল-গ্যাস বিক্রির স্থানে কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। এছাড়াও থাকতে হবে জ্বালানি অধিদপ্তরের অনুমোদন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর কোনটিই নেই হাতে গোনা ২/১ জন ছাড়া এই উপজেলার গ্যাস ও খোলা তেল ব্যবসায়ীদের। ওইসব ব্যবসায়ীরা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

এদিকে ভেজাল তেল বিক্রি ও পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওইসব অসাধু দোকানদারের বিরুদ্ধে। জানা যায় অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় যত্রতত্র রাস্তার পাশে, অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ওইসব দোকান। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে শতাধিক খোলা তেলের দোকান গড়ে উঠেছে।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা গ্রামের মোঃ মনির চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, পথে তেল শেষ হওয়ার কারণে ওজনে কম ও ভেজাল তেল জেনেও বাধ্য হয়ে ওইসব দোকান থেকে তেল কিনতে হয়। খোলা বাজারের ওইসব ভেজাল তেল মোটর সাইকেলে ব্যবহার করায় প্রায়ই মোটরযানে সমস্যা দেখা দেয়।

অপরদিকে এ উপজেলায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েই চলছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার, পাড়া মহল্লার মুদি দোকান, প্লাষ্টিক সামগ্রীর দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান, রিক্সা গ্যারেজ এমনকি ওষুধের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

এছাড়া সপ্তাহে ২/৩ দিন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা হতে অটোরিক্সা যোগে ভ্রাম্যমান গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের দেখা যায়। জানা যায় এখানকার শতাধিক ছোটবড় বাজারে অর্ধ-সহ¯্রাধিক গ্যাসের দোকান রয়েছে।

উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী বাজার, মেহার উত্তর ইউনিয়নের শাহরাস্তি (রহঃ) বাজার ও রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের ঊনকিলা বাজারে দেখা যায়, ছোট-বড় ৩৫ টি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। ওই তিনটি বাজারে মাত্র ১ জন লাইসেন্সধারি ব্যবসায়ী পাওয়া যায়। বাকীদের মধ্যে অনেকেই জানেন না এ ব্যবসার আইন কানুন। একটু লাভের আশায় দোকানের বাইরে ফুটপাতে গণগণে রোদে ফেলে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। রাস্তার কিনারে রাখা এসব সিলিন্ডারের পাশ ঘেঁষেই চলছে দ্রæতগামি যানবাহন। অধিক লাভের আশায় মান ও মেয়াদহীন অনেক কোম্পানির সিলিন্ডার রাখায় এসব দোকানিরা নিজের অজান্তেই বোমার চেয়ে ভয়ানক বিপদের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।

এছাড়া উপজেলার অলিতে গলিতে গড়ে উঠা বিভিন্ন নকল সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ, ওজনে কমসহ বাড়তি দাম নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ফলে একদিকে নিয়ম নীতি মেনে পরিচালনা করা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অপরদিকে প্রতিনিয়ত এসব দোকান থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। আয়নাতলী বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ এবাদুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি বিস্ফোরক লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করলেও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে। এ ব্যপারে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় আমি ব্যবসায়িক ভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ২ বছরে এ বাজারে ৩ বার অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সচেতনতা বাড়েনি। যত্রতত্র সিলিন্ডার বিক্রয়ের ফলে বড় ধরণের অগ্নি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এ বাজারটি।

উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের ঊনকিলা বাজারের একজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদপুর রিপোর্টকে বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু’একটা সিলিন্ডার বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’ লোকজনের চাহিদা থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

এদিকে দোকানিদের পাশাপাশি গ্রাহকদের মাঝেও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকান হতে সিলিন্ডার ক্রয় করে রাস্তায় গড়িয়ে, মোটর সাইকেল কিংবা বাই সাইকেলে অনেককে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করতে দেখা গেছে।

উপজেলার মেহের ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জানান, অনুমোদনবিহীন খোলা তেল বিক্রিতে অগ্নি ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশে কিংবা রোদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ঠিক নয়। এতে চাপ ও তাপ জনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। অপরদিকে একই বোতলে বারবার গ্যাস ভর্তি ও অবৈধ পন্থায় গ্যাস ভর্তি করার কারণে থার্মো সিল বা বাল্ব নষ্ট হয়ে বিস্ফোরণের আশংকাও রয়েছে।

শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মোঃ জাকির হোসেন চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়া খোলা তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা জন নিরাপত্তার জন্য হুমকি। গত কয়েকমাসে এ উপজেলায় বেশ ক’টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডের সময় আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দোকান হতে গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণ করেছি। যত্রতত্র এলপিজি সিলিন্ডারের কারণে অগ্নিকান্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণসহ প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিটুস লরেন্স চিরান চাঁদপুর রিপোর্টকে জানান, ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ফিরে না আসলে দুর্ঘটনা রোধ করা কষ্টকর হবে। স্থানীয় বাজার কমিটির মাধ্যমে এসব ব্যবসায়িদের তালিকা করা হবে। এছাড়াও নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়া যারা খোলা তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশিত : ০৪ মার্চ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
186 জন পড়েছেন
http://picasion.com/