নুসরাতের কান থুতনি গলা ঘাড় ঝলসানো

নুসরাতের মামলা প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে যাবে : আইনমন্ত্রী

0
93

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ‘দুই কান, থুতনি, গলা ও ঘাড় ঝলসানো’। তার মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন শাহবাগ থানার এসআই মো. শামছুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে দুই পৃষ্ঠার এই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

http://picasion.com/

সুরতহাল প্রতিবেদনের শুরুতে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গত ১১ এপ্রিল শাহবাগ থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-৬০২)। এতে নুসরাত জাহানের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ বছর।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

এসআই মো. শামছুর রহমান সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, এএসআই মিনারা খাতুন ও মো. রমজান আলীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। মৃতদেহটি মর্গের মেঝেতে সরকারি স্ট্রেচারের ওপর উত্তর শিয়রে চিৎ অবস্থায় শায়িত পান।

নুসরাতের আপন চাচাতো ভাই মুহাম্মদ আলী (৩৫) তাকে শনাক্ত করেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে শালিনতা বজায় রেখে মর্গে কর্মরত বিশেষ আয়া চাঁন বিবিকে দিয়ে নুসরাত জাহানের মৃহদেহের সরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নুসরাতের মাথার চুল পোড়া, লম্বা অনুমান ১৮ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক। উভয় চোখ ও মুখ বন্ধ। নাক দিয়ে সাদা ময়লা বেরিয়ে এসেছে। উভয় কান, থুতনি, গলা, ঘাড়সহ পোড়া ও ঝলসানো।’

‘উভয় হাতের আঙুল পর্যন্ত রাউন্ড গজ ব্যান্ডেজ, যাতে পোড়া ঝলসানো। গলার নিচ থেকে বুক-পেট-পিঠ-যৌনাঙ্গ-মলদ্বারসহ উভয় পায়ের পাতা পর্যন্ত রাউন্ড গজ ব্যান্ডেজ, যাতে পোড়া ঝলসানো। গায়ের রঙ ফর্সা। লম্বা অনুমান ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। পরনে ব্যন্ডেজ ছাড়া কিছু নেই, সরকারি চাদর দিয়ে ঢাকা’, উল্লেখ করা হয়ছে সুরতহাল প্রতিবেদনে।

নুসরাতের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে ও ঢাকা মেডিকেল কলে হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক স্বাক্ষরিত মৃত্যুর প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৬ এপ্রিল সকাল অনুমান ৯টা ৪৫ মিনিটে ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাইক্লোন সেন্টার ভবনের ছাদে নুসরাত জাহানকে পরিকল্পিতভাবে দৃষ্কৃতকারীরা (ঘাতক) নিয়ে গায়ে কেরোসিন অথবা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

‘এতে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হলে আহত অবস্থায় লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য সোনাগাজী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য একই তারিখে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বিকেল ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডের রেড ইউনিটে এনে ভর্তি করা হয়।’

নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়ে এ প্রতিবেদনের শেষের দিকে বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হাসপাতালের দেয়া মৃত্যু সনদে উল্লেখ থাকলেও নুসরাতের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ময়নাতদন্তের জন্য মো. রমজান আলীর মাধ্যমে মৃহদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক মর্গে পাঠানো হয়।’

সুরতহাল প্রতিবেদনের শেষ অংশে এসআই মো. শামছুর রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘নুসরাত প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না? ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের মতামত একান্তভাবে প্রয়োজন।’

নুসরাতের মামলা প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে যাবে : আইনমন্ত্রী

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা মামলা প্রয়োজনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে একটি অভিযোগপত্র দিতে হবে। আমি আপনাদের বলছি এইরকম মামলা যথনই হবে এটাকে ফাস্ট ট্র্যাক করবে। আমি প্রসিকিউশসনকে নির্দেশ দেব, যাতে এটাকে ফার্স্ট ট্র্যাক করা হয়। কোনো প্রশ্নেরও প্রয়োজন হবে না।

মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবে কি না জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘দ্রুত বিচারে যদি প্রয়োজন হয় যাবে।’

প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৯

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
384 জন পড়েছেন
http://picasion.com/