শরীয়তপুরে ডায়রিয়ায় ২০০ জন হাসপাতালে

 

জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর

চলতি মাসের ১৩ দিনে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৭ জন।

শনিবার দুপুরে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীর উপচে পড়া ভিড়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এর মাঝখান দিয়ে হাঁটা চলা করছে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনরা। বেড সিমিত হওয়ায় ফ্লোরে আছেন ডায়রিয়া রোগীরা।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর তাদের খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেয়া হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া বাথরুম এবং হাসপাতালের ময়লা আবর্জনার গন্ধ আরও অসুস্থ করে দিচ্ছেন রোগী ও স্বজনদের।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স আখি বিশ্বাস জানান, চলতি মাসের ১৩ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৭ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১০টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি আছে ২০ জন। এর মধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী রোগী। যায়গা না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে

রহিমা বেগম (৩৫) নামে এক রোগী জানান, সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে তার বাড়ি। সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে এসে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে খাবার স্যালাইন ছাড়া কিছু দেয়া হয়নি তাকে। কলেরা স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশনসহ সকল জিনিস বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।

হৃদয় মোল্লা (২০) নামে আরেক রোগী জানান, তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশ খান বাড়ি থেকে এসেছেন। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড না থাকায় ফ্লোরে ফোমের ওপর শুয়ে আছেন।

তার মা বলেন, ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে সদর হাসপাতালে আনলাম, কিন্তু বেড নেই, ডাক্তার নেই। নার্সকে কিছু বললে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন। টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। যেমন দুর্গন্ধ, তেমন ময়লা জমে আছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, শরীয়তপুরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ গরম পড়ার কারণে ডায়রিয়া রোগী বেশি। এর মধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী রয়েছে। যার মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যা বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদের আন্তবিভাগের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কিছু ওষুধ কম আছে। আশা করছি দ্রুত ডায়রিয়া রোগের ওষুধ পাব।

তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন আছে। হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়তি রোগীদের অন্যত্র নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান জানান, হঠাৎ করেই দুই তিন যাবৎ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। মূলত এখন গরমের দিন, আর গরমের দিনগুলোতেই ডায়রিয়া রোগ বেশি হয়। গরমে মাছির উপদ্রব বাড়ে, খাবার সহজে নষ্ট হয়ে যায় আর খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায় না জানার কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো সমস্যা হয়নি।

প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

396 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়